মে চলে গেল ঝড়ের গতিতে। জুনে অফিস আমার ছুটি স্যাংশন করার পর ট্র্যাভেল অ্যালাউন্স এর টাকাও ঢুকে গেল অ্যাকাউন্টে। এদিকে জুনের প্রায় মাঝামাঝি, কিন্তু কোথায় যাবো এখনো ঠিক করিনি। খবর এলো যে নেতাজী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ট্যুরিজম ফেয়ার হবে ১৭-২১ জুন। ওখানে গিয়ে কিছু একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে ভেবে এক সকালে ব্যাগ কাঁধে হাজির হলাম।
বেশ বড়ো মেলা। অনেক ট্যুরিজম কোম্পানির সাথে আলাপ হলো। হিমাচলের লোকাল কোম্পানি আমাকে বললো কোনোমতে একা কালকা চলে আসতে, তারপর বাকি ট্রীপ ওরা বুঝে নেবে। কিন্তু আমি একলা কালকা যেতে রাজি ছিলাম না। কোলকাতার যে সব ট্যুর কোম্পানির প্রতিনিধিরা ছিলেন, সবাই আমাকে দলে নেবার অপারগতা জানালেন কারণ কোথাও সিট খালি নেই। এক এজেন্ট তো এমনো বললেন যে আমি আধা ঘন্টা আগে আসলে একটি সিট দিতেন কিন্নর ট্রীপে,কিন্তু একটুর জন্য আমি লেট করে ফেলেছি।
কি আর করা। বাইরে দাঁড়িয়ে একটি সিগারেট ধরিয়ে ভাবতে লাগলাম। ছুটি, টাকা সব করলগত, এবার না কোথাও গেলে অফিসে কেস খাবার প্রচুর সম্ভাবনা। তাহলে? বাড়িতে ফোন লাগাই, আমার গার্জেন দাদুকে। দাদু সব শুনে বললেন যে মনে হচ্ছে বাবা অমরনাথ ডাক পাঠিয়েছেন তোকে, তুই নির্মলদের সাথে যা। যে দুজনের আমার কাশ্মীর যাওয়া নিয়ে মেন আপত্তি অর্থাৎ আমার কাকিমা আর আমার তৎকালীন প্রেমিকা (পরবর্তীতে স্ত্রী) তাদেরকেও ম্যানেজ করার দায়িত্ব দাদু নিজেই নিলেন। কথা সেরে আবার ফোন লাগাই নির্মলদাকে। আমার গলা পেয়ে আর খবর শুনে খুব খুশি হয়ে উনি পরেরদিন আমাকে ওঁদের বাঁশদ্রোণীর অফিসে আসতে বললেন। পরেরদিন সকালে ফুল পেমেন্ট দশ হাজার টাকা দিয়ে আমি নাম নথিভুক্ত করালাম, তবে এটাও জানলাম যে দেরী করে ফেলায়, আমি নিজের নামে অমরনাথ যাত্রার পারমিট পাবো না, দলের এক পাচকের পারমিটে আমাকে বালতালে বেস ক্যাম্পে ঢুকতে হবে। সেই ব্যবস্থা নির্মলদা করে দেবেন।
গৌর ট্র্যাভেলের অফিস থেকে বেরিয়ে একবার আকাশের দিকে তাকাই। সাদা মেঘের মাঝে যেন কোনো শিব ঠাকুরের ছায়া। ভক্তকে ডাক পাঠালেন নিজের কাছে আসার।
শুরু হলো আমার অমরনাথ যাত্রার প্রস্তুতি।