ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ যখন সবে আলো ফুটছে, তখন শেষবারের মতো বাবার গুহার দিকে প্রণাম জানিয়ে আমরা নামতে শুরু করলাম। সব মিলিয়ে হয়তো ঘন্টা ষোলো ছিলাম, যার অধিকাংশ সময়ই হয় উত্তেজনা নয় শারীরিক উৎকণ্ঠায় কেটেছিল, তবু যখন গুহা চোখের আড়াল হয়ে গেলো, তখন কি এক মন খারাপ যেন সবাইকে গ্রাস করলো। হয়তো আরো কিছুক্ষণ থাকলে ভালো হতো। চুপচাপ পথ চলছি, ঘোড়াটির ও যেন কোনো তাড়া নেই, চলতে হয়,চলছে।
ঋক.. ঐ ঋক.. নিজের নাম শুনে চমকে তাকাই। সামনে একটি ডুলি, গুহার দিকে চলেছে। আর সেই ডুলিতে হাসিমুখে বসে টুকু কাকিমা। হাত নাড়ছেন আমাদের দিকে। মনটা ভালো হয়। যাক ভগবান তাহলে এই ভক্ত কেও ফেরাননি। এই ভালো লাগা নিয়ে এক সময় পথ শেষ হয়। বালতাল টেন্টের গোড়ায় গিয়ে নামি। কোনো দিকে না তাকিয়ে সিধা একটি বড়ো লঙ্গরখানাতে গিয়ে ঢুকি, গরম গরম চানা ভাটুরা আর গোলাপজামুন খেয়ে যে যার নিজের টেন্টে। কোনোমতে বাসি জামা কাপড় ছেড়ে, গরম জলে হাত মুখ ধুয়ে বিছানায় শরীর ছাড়ি, ঘন্টা ছয়েক অঘোরে ঘুমাই। বিকেলের মধ্যে শরীর চাঙ্গা হয়ে যায়। বেলা সাড়ে ছয়টা নাগাদ, টুকু কাকিমা ফিরলে, বাস নিয়ে সোজা শ্রীনগর।
তারপর দশ বছর কেটে গেছে। শম্পা ছাড়া কারুর সাথেই আর যোগাযোগ নেই, সে এখন বিয়ে করে ছোটো ছেলে নিয়ে ঘোরতর সংসারী। এই দশ বছরে অনেক ঘাত প্রতিঘাত সয়ে অনেক কিছু পেয়েছি, আবার হারিয়েছি অনেক কিছু। তবু একলা রাতের অবকাশে এখনো যেন অমরনাথ যাত্রার দিনগুলো স্বপ্নের মতো মনে আসে, ভাবি যে আবার একবার বাবার দরবারে ফিরবো, ফিরতে যে আমাকে হবেই… তবে হ্যাঁ, এবার আর একা নয়, সাথে করে অন্য কাউকেও নিয়ে যেতে হবে….