|| কালির আঁচড় পাতা ভরে কালী মেয়ে এলো ঘরে || T3 বিশেষ সংখ্যায় শতদ্রু ঋক সেন

নীল বেনারসি…..

খবরটা পেলি?
কোন খবর?
শ্বেতা আবার বিয়ে করেছে।
কি বলছিস যা তা। সবে ডিভোর্সের মাস আড়াই হয়েছে, এর মধ্যে আবার বিয়ে?
না রে সত্যি বলছি। শ্বেতার ফেসবুক প্রোফাইল টা দ্যাখ, বুঝতে পেরে যাবি। এখন রাখছি, রান্না করতে যাবো।
অর্ণার ফোন কেটে দেবার পর একটু চুপ করে বসে থাকে অনীক। তারপর পকেট থেকে তার দ্বিতীয় ফোনটি বার করে। তার অরিজিনাল ফেসবুক প্রোফাইল ডিভোর্সের সার্টিফিকেট পাবার পর দিন শ্বেতা ব্লক করে দিয়েছে, একটি ফেক আছে, তা দিয়ে মাঝে মাঝে নিজের প্রাক্তন স্ত্রীর প্রোফাইলে উঁকি মারে সে। আজো তাই করলো।
ডিপিটা শ্বেতা বদলেছে ঘন্টা চার আগে। নর্মাল হাসিখুশি ছবি, অফিসের পার্টিতে তোলা, একটা রিসোর্টে। যে তুলেছে, সে শ্বেতার সহকারী, তাকে ট্যাগ ও করা আছে। ছবি দেখে তো কিছুই বোঝা যাচ্ছে না, তবে? অর্ণা তো বাজে কথা বলার মেয়ে নয়। হয়তো ভুল ভেবেছে, যাকগে বলে ফোনটা বন্ধ করতে যায় অনীক, আরে এটা কি?
তড়িঘড়ি শ্বেতার ডিপি টা এনলার্জ করে অনীক, হাত কাঁপছে তার। হ্যাঁ, এই তো। সিঁথিতে ছোট্টো করে একটা সিঁদুরের ছোঁয়া, লিপস্টিক দিয়ে করা। শ্বেতা এভাবেই তো পড়তো সিঁদুর, যদিও কালেভদ্রে। অনীক চাইতো মাঝে মাঝেই, যদিও শ্বেতা সেটা পাত্তা দেয়নি। আর তার সাথে ছবিতে আরো একটা জিনিস দেখলো অনীক। হাতে একটা লোহা পরা। তাদের সেপারেশনের পর শ্বেতা আর এটা পরেনি, কোর্টে যতবার দেখা হয়েছে, হাত খালি ছিলো। তার মানে অর্ণার কথাই ঠিক। শ্বেতা তাহলে অন্য কারও সাথে সত্যিই ঘর বেঁধেছে।

খানিকটা দিশেহারা লাগে অনীকের।সে নিজেও একটা সম্পর্কে আছে এখন। হয়তো আগামী বছর বিয়ে করবে সেও, তবু কেমন একটা লাগে। হাজার হোক বারো বছরের একটা সম্পর্ক তো।
অনেকটা সময় চুপ করে বসে থেকে, উঠে গিয়ে আলমারি খোলে অনীক। সব প্রায় গেছে, তবে এটা এখনো আছে। শুভশ্রী, অনীকের প্রেমিকা, দেখলে কি ভাববে, ভেবে লুকিয়ে রাখা।
একটা নীল বেনারসি শাড়ি। বড়ো বাজারের রামকানাই যামিনীরন্জন পাল থেকে কেনা। তাদের বাড়িতে সব বিয়ের শাড়ি বাঁধাধরা ভাবে প্রিয়গোপাল থেকে কেনা, কিন্তু তার বিয়ের বাজারের দিন কি কারণে প্রিয়গোপাল বন্ধ ছিলো, তাই কাছেই যামিনীরন্জন থেকে নেওয়া। ঘন নীল বেনারসি, শ্বেতার ধবধবে ফর্সা রঙে খুব মানিয়েছিল বৌভাতের দিন। তবে শ্বেতা এটা মন থেকে মেনে নেয়নি কোনোদিনই। সে চেয়েছিল বৌভাতের দিন লেহেঙ্গা পড়তে। দাদু বেঁচে তখন, তিনি রাজি হননি, আর অনীকের নিজেরও ইচ্ছা ছিলো বৌভাতের দিন বেনারসিতে অপরূপা হয়ে উঠুক শ্বেতা।

শাড়ি টা হাতে নিয়ে অনেক কথা ভাবছিল অনীক। তাদের ঝগড়া, ভাব ভালোবাসা, রাগ অভিমান, অনেক কিছু। বাকি সব শাড়ি নিয়ে গেলেও এই শাড়ি টা ফেলে দিয়ে গেছে শ্বেতা, এখন এটুকুই সম্বল অনীকের।
আজ হয়তো শ্বেতা সুখী। ভালোই আছে নিশ্চয়ই। খালি একটা কথা জানতে ইচ্ছা হয় অনীকের….

এ বারো কি বিশেষ দিনে বেনারসিতেই সজ্জিত হয়েছিল শ্বেতা???

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।