ভ্রমণ সিরিজে শতদ্রু ঋক সেন – ৪২

ফেরা
বিধি বাম। কি করা যায় এবার? সব কটি গাড়ি থেকেই লোকেরা নেমে চীৎকার করছে, এক বক্তব্য, বৃষ্টির জন্য গাড়ি ধীরে চালাতে হয়েছে, তাই লেট। সেই দলে আমরাও যোগ দিলাম। কথাবার্তা, যুক্তি পাল্টা যুক্তির মধ্যে দিয়ে আধ ঘন্টা পার হলো। তারপর সেই চিরাচরিত সমাধান- টাকা। প্রতিটি গাড়ি বাবদ কিছু টাকা নিয়ে অবশেষে গেট খুললো।
গেট খুলতেই বলা যায় মুক্তির আস্বাদ। দীপকের গোমড়া মুখেও হাসি ফুটেছে। আরো ১৫ মিনিট গাড়ি চালিয়ে আমাদের জানালেন, আগামী কালের জন্য যে রুট আমরা গোড়ায় প্ল্যান করেছিলাম, তার অধিকাংশই আমরা পার করে এসেছি, তাই পরেরদিন গৌরীকুন্ড পৌঁছোতে আর কোনো বাধা নেই। তাই আমরা চাইলে উত্তরকাশীতে রাতে থাকতে পারি, কিন্তু সেখানে ঢুকতে আরো এক ঘন্টা লাগবে। সামনে একটি ভালো হোটেল আছে, আমরা চাইলে সেই হোটেলেই রাত কাটাতে পারি।
সেইসময় দীপককে স্বয়ং দেবদূত মনে হলো। খিদে আর ক্লান্তিতে দলের সবাই তখন ঝিমিয়ে পরেছে। কাছের হোটেলটাই আস্তানা হিসেবে ঠিক হলো। একদম গঙ্গার ধারে বসে সেই রাতে গরম ভাত, ডাল সব্জি খাওয়ার পরিতৃপ্তি, আজো ভুলিনি। ভরা পেটে গরম জলে হাত মুখ ধুয়ে ডর্মিটরির বিছানায় পড়তে না পড়তেই ঘুম নেমে এলো দুচোখ জুড়ে।