T3 || সৌভিক স্মরণে || সংখ্যায় সুদীপ্তা রায়চৌধুরী মুখার্জী

মান্যবরেষু কবি,
“এই ডিসেম্বরে, পুরোনো শহরে ঠিক দেখা হয়ে যাবে” আপনি লিখেছিলেন অথচ কী আশ্চর্য আপনার সঙ্গে আমার খুব বেশি দেখা সাক্ষাৎ হত না। আলাপ পরিচয় ছিল না বললেই চলে। বইমেলার মাঠে বা নন্দন চত্বরে বহুবার দেখেছি কবি ঋজুরেখ চক্রবর্তীর সঙ্গে আপনার একান্ত আলাপচারিতা। জেনেছি আপনার আরেক নাম ডন, ব্যস। বাচিক শিল্পী চন্দ্রিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে আপনার সঙ্গে কিছু বাক্য বিনিময় হয়েছিল। স্মৃতি বলতে এটুকুই । এর উপর ভিত্তি করে স্মৃতি তর্পণ কঠিন শুধু নয় অসম্ভবও বটে, কিনা? শুধু মনে পড়ছে খুব বিস্মিত ও দ্বিধাগ্রস্ত গলায় সপ্তর্ষী ভৌমিক আমার কাছে খবরের সত্যতা জানতে চেয়েছিল। ঘটনাচক্রে আমি কদিন অর্থাৎ গোটা জানুয়ারি জুড়েই পারিবারিক অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। সোশ্যাল মিডিয়াতেও আমার উপস্থিতি সঙ্গত কারণেই কম ছিল। চন্দ্রিকার দ্বারস্থ হয়ে সব জেনেছিলাম। বিশ্বাস করুন উথাল পাথাল হয়ে গিয়েছিল। পর পর আসতে থাকা ফোন উদ্বেগ বাড়িয়ে চলছিল প্রতিনিয়ত । আমি শুধু অনুপ ঘোষাল কে বলেছিলাম “প্রে করো উনি যেন মুক্তি পান” । স্ট্রোক এবং ভেজিটেব্ল স্টেট কী জিনিস ছোট থেকে সে বিষয়ে আমার সম্যক ধারণা ছিল। আপনার জন্য অই বন্দোবস্ত আমার না পসন্দ ছিল । শুনেছিলাম আপনিও নাকি পর পর অর্গ্যান ফেইলিওর হয়ে অপেক্ষারত এগারোর অনেক অনেক বেশি সংখ্যক গুণমুগ্ধ মানুষদের বার্তা দিয়েছিলেন “ডন কো পাকড়না মুশকিল হি নেহি না মুমকিন হ্যায়” । অগণিত পাঠক, স্তাবক, বন্ধু, শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আপনার দৃপ্ত ঘোষণা, “একটা বইমেলা থেকে আরেকটা বইমেলা, অনেক অনেক বইমেলা পেরিয়ে যাবার পরে, একলা দাঁড়িয়ে থাকে” কবির সৃষ্টি, কবির স্পর্ধা । পৃথিবীর সব অবিচুয়ারি কে অগ্রাহ্য করে “স্লিভলেস বনলতার টানে” “অর্চিস্মান ফিরে আসেই” । অমর হয় গোপন সত্যের ব্যঞ্জনা । মাতব্বরী আর আঁতলামির নিমকি ছেনালি সরিয়ে, “মেঘলা জুলাই” কে ভুলে, লেবুরঙা জানুয়ারি তে আপনি মিশে যান “ধুসর কুয়াশায়” । “হলুদ ট্রামে” যে প্রেমিকা ছিল তার অপেক্ষা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয় । আপনি ছুঁয়ে ফেলেছেন “রহস্য প্ল্যাটফর্ম”, যেখানে কোনো ট্রেইন যাবে না। আমার সাথে সেভাবে আলাপ হল না “অযুত জীবন” পেরিয়েও সে আক্ষেপ যাবে কি? “ঋতু বদলায়, তারারা অরবিট পাল্টায়” কুয়াশা নামে “শহরতলির রেলব্রিজে” । স্মৃতিতে, তর্কে, কবিতায় মিশে যায় “নীল যুবক”…
ভালো থাকুন