কবিতায় সৌগত রাণা কবিয়াল

এলুমিনিয়ামের থালায় প্রাচ্যের অক্সফোর্ড…

যাবৎকালের সময়ের চরিত্রে আজ ভয়ংকরী প্রলোভন প্রলয় প্রলেপ.. ;
‘জাগো বাহে’ বলে একদিন যে জীবন ভোরের আলোয় ফুল হয়ে ফুটতো,
আজ তার ঘাসের ডগায় বিশ্ব রাজাদের নপুংসক অহমিকা…..!
একান্ত কৌমার্যের পবিত্র সুখ দিনের আলোয় মায়ের আদল খোলশের আড়ালে,
রাতের অন্ধকারে ভার্চ্যুয়াল শরীরিণী বিকলাঙ্গতা…
প্রকান্ড অজ্ঞানতায় বেদ বুঝতে গিয়ে সৃষ্টি তত্ব না বুঝে,
দৃষ্টিতে শিখে নিলো মন্দিরের টেরাকোটায় শরীরের নিরঙ্কুশ তৃপ্তিটাকেই ;…..
কলতলায় সুখী প্রেম-সংসারের সোনার চাবি মহাজনের কাছে চড়া সুদে ধুলো আস্তরণ..!
ক্ষ্যাপাটে পাগল বলে যাকে শহর জানতো..
আজ তার কাছে মানুষের ভীষণ ভীড়..
” হয়তো এই ছিলো ভালো..
ছদ্মবেশে ভিখারি সে
সুখের লুকিয়ে থাকা আলো “..!
‘ প্যাগোডার পাহাড়টাতে এখনও ধ্যানমগ্ন মৌন ঋষি..
গীর্জার দ্বারপ্রান্তে মাতা মেরীর কোলে নিস্পাপ প্রভু শিশু…
মসজিদের আহবানে আজানের ধ্বনি মানবহীন নিঃসঙ্গ..
প্রার্থনার দৃষ্টিতে স্তব্ধ ত্রিনয়নে শান্ত মহাকাল…!
জ্ঞান থেকে অজ্ঞান..
মুহুর্ত থেকে প্রারম্ভ..
স্ট্রিংস থেকে মহাবিশ্ব..
ক্ষুদ্রতা থেকে বিশালতা..
আমি থেকে আমরা..
কোয়ার্কস আর ইলেকট্রন ছাপিয়ে
স্ট্রিংসের ভাইব্রেটরে লুকিয়ে থাকা শক্তির উপাসনা ঘর…
সবাই, সবাই এক এক করে প্রাচীণ পুঁথিতে হাত বুলিয়ে খুঁজে ফেরে মুক্তির পথ ‘….!
প্রাকৃতিক বিবর্তনের দায়ভার নিলো যে বোকা মানুষ..;;;
এবার তবে কি করে লজ্জা ঢাকবেন প্রিয় ঈশ্বর…???
কি প্রচন্ড অদ্ভুত…;;
অসহায় ভীত সুখী মানুষের ভীড়েও..
পাগলের ঠোঁটে কি গভীর নির্মল আনন্দ…
” কিছুটা সময় নিয়ে এসো একদিন তোমরা,
তোমাদের জন্ম বৃন্দাবনের বসন্ত শেষে..
কালের কপালে অনামিকার স্পর্শ করে,
সেদিন আমি তোমাদের ফড়িং এর ডানায় তুলি ধরতে শিখিয়ে দেবো…!
অনিশ্চিত খবরের জন্য আজ আর কেও বেঁচে নেই পৃথিবীতে..
প্রাণে ভালোবাসার বোঝা নিয়ে তুমিও ভালো থেকো প্রিয় মানুষ” …!
দশ হাজার বছরেও বোকার দল বুঝতে পারলো না যে..
” জীবনের সুখ সবাই কেড়ে নিতে পারে..
কিন্তু মনের সুখ কেও নিতে পারে না কোনকালেই “……!
সত্যিই কি বিচিত্র এই মানবিক বিবর্তন..
ঠিক যেন..
‘ এলুমিনিয়ামের থালায় প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ‘…;;
Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!