গল্পে সর্বাণী রিঙ্কু গোস্বামী

বিবর্তন

মেয়েটার দিকে তাকিয়ে চমকে উঠল কার্তিক, জ্ঞান ফিরছে বোধহয়। নড়াচড়া করছে, উঃ আঃ ও করছে আস্তে আস্তে। মোবাইলটা দেখল কার্তিক, আর মিনিট পাঁচেক পরেই গুরু এসে পড়বে দলবল নিয়ে। বড় বাড় বেড়েছিলে সুন্দরী, আজ তোমার খেল খতম। গুরু বলেছে সবাই ভাগ পাবে, ভাবতেই কার্তিকের মনটা পুরো গার্ডেন গার্ডেন।

কিন্তু এ কী, ঠিক দেখছে তো? চোখ দুটো কচলে নিল কার্তিক, মাথা খারাপ হচ্ছে নাকি ওর। মেয়েটার কপালৈ একটা তিন নম্বর চোখ খুলছে যেন আস্তে আস্তে! ভালো করে দেখবে বলে মেয়েটার মুখের ওপর ঝুঁকতেই একটা বিদ্যুতের ঝলক এসে পুড়িয়ে দিল কার্তিকের মুখটা।

ছিটকে সরে এল কার্তিক, অসম্ভব জ্বালা করছে চোখমুখ। এদিকে ওর বিস্ফারিত চোখের সামনে উঠে বসছে মেয়েটা। সজারুর মতো অজস্র কাঁটায় ঢেকে যাচ্ছে ওর সর্বাঙ্গ, হাত আর পায়ের নখগুলো যেন বল্লমের ফলা। ভয়ঙ্কর চোখে ওর দিকে তাকিয়ে একটা হুঙ্কার দিয়ে কার্তিকের ওপর লাফিয়ে পড়ল মেয়েটা। কার্তিকের গলা কামড়ে দুটো ঝাঁকুনি দিল স্রেফ।

নেতিয়ে পড়তে পড়তে কার্তিক শুনতে পেল গুরুর আর্তনাদ, “এটা কে রে?” জবাব দেওয়ার ক্ষমতা নেই কারুর। একে একে ধরাশায়ী হচ্ছে গুরুর দলবল অদ্ভুদ প্রাণীটার আক্রমণে। কেউ জানে না সুবিচারের অপেক্ষায় থেকে থেকে বিরক্ত হয়ে প্রকৃতি নিজেই প্রতিশোধের ব্যবস্থা করেছে। সে নিজেও মেয়ে যে, কম অত্যাচার তো তার ওপরেও হয়নি এ যাবত।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।