অণুগল্পে সমিত রায় চৌধুরী

হাওয়ার মূল্য

দুপুরের কাঠ ফাঠা রোদ্দুর। গরম হওয়ার মধ্যে সাদাসিধে নির্মল তপ্ত পিচের রাস্তায় হাঁটছে। রাস্তায় একটাও রিক্সা বা টো-টোরও দেখা নেই। কী ভাগ্যের পরিহাস!

খিদেতে পেটে আগুন জ্বলছে। সেই সকালে জল খেয়ে বেড়িয়েছিল। খদ্দেরদের ঝামেলায় আর কিছু পেটে দিতে পারেনি । চৈত্রের সেইল চলছে।

রাস্তার পাশের সারিবদ্ধ হোটেলগুলি থেকে হাঁক দিচ্ছে,

গরম গরম খাবার- একবার খেলে বার বার আসবেন।

হঠাৎ নির্মল শুনতে পেল,

এসি ঘরে বসে খাবেন ভরপেট।

এসি শুনেই নির্মল ভাবল এই হোটেলে খেলেই ভাল। ঠান্ডা হাওয়ায় বসে খেতে পারা এখন সোনায় সোহাগা।

যেমনি ভাবনা তেমনি কাজ।

বেগুন ভাজা, ডাল, সবজি, আলু পোস্ত আর কাতলা মাছের কালিয়া দিয়ে খেয়ে কিছুটা মৌরি মুখে দিয়ে বিলটা হাতে নিয়েই দেখে,

খাবারের দাম ৪০০ টাকা সাথে আরো ৪০ টাকা যোগ করে ৪৪০ টাকা।

মেজাজটা তিরিক্কি হয়ে উঠল।

সামনের ডেস্কে বসে থাকা নাদুস নুদুস মালিককে জিজ্ঞেস করতেই, মুচকি হেসে আঙ্গুল দিয়ে তার মাথার উপর বোর্ড দেখিয়ে দিল,

এসি চার্জ টেন পার্সেন্ট এক্সট্রা।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।