ফুলের বাগানে খুব মনোযোগ দিয়ে বেদি বানাচ্ছে সুহৃদ । নিজের ঘরের জানলা দিয়ে সেই দৃশ্য দেখে চোখদুটো করকর করছে সুধীরের । উথাল পাথাল করা ক্ষোভের ঢেউ তীব্র ধ্বংসাত্মক ক্রীয়া চালাচ্ছে মনের ভিতর । কদিন পরেই স্বাধীনতা দিবস । প্রত্যেক বছর এই দিনটি এগিয়ে এলে , এই রকমই অনুভূতি হয় সুধীরের । তাঁর জীবনে স্বাধীনতা দিবস আসে নি এখনও । বরং ওই দিনটিচরম পরাধীনতার দিন হিসেবে তাঁর স্মৃতিতে দ্গদগে হয়ে আছে আজও ।
কিছুদিন আগেই সুহৃদ বলে রেখেছে ,”দাদুভাই এবছর স্বাধীনতা দিবসে আমরাও আমাদের বাগানে পতাকা উত্তোলন করব কেমন ? আমি সব ব্যবস্থা করব । পতাকা তুমি তুলবে ।“
নাতির জ্বলজ্বলে চোখের উৎসাহ মুছে দিতে পারেন নি সুধীর । চৌদ্দ বছরের ছেলেটার বুকে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধার বীজ তিনিই রোপণ করে দিয়েছেন । নিয়মিত জল সিঞ্চন করে করে মহীরুহে রূপান্তরিত করে তুলেছেন সেই বীজকে । নাতির ইচ্ছেতে আপত্তি জানিয়ে সেই মহিরুহকে খণ্ড বিখন্ড করে ফেলতে তাঁর মন সায় দেয় নি । যে কোনো কিছুই খণ্ড করার ভাবনাতে সিঁদুরে মেঘ দেখেন সুধীর ।
প্রত্যেক বছর স্বাধীনতা দিবস এগিয়ে এলেই , দেশ স্বাধীন হবার দুদিন আগের রাতটা মনে পড়ে যায় সুধীরের । সুধীর তখন সবে কৈশোর ছাড়িয়ে পা রেখেছে যৌবনে । কদিন ধরেই কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল , অতি সত্বর স্বাধীনতা ঘোষণা হবে বটে , তবে দেশ দ্বিখন্ডিত হয়ে যাবে । এও শোনা যাচ্ছিল , দুই অংশের লোকজন যে কোনো অংশের নাগরিকত্ব নিয়ে থাকতে পারবেন । কেউ অপর পারে চলে যেতে চাইলে দুই দেশের প্রশাসনেরপূর্ণ সহায়তা পাবেন তাঁর পরিবার ।বাড়িতে পাড়ায় অহরহ আলোচনা । সুধীরের মতো অনেকের মন দুলছিল দ্বিধায় । যার ভিত্তিতে দেশ ভাগ হচ্ছে , সেই নিয়মে তাদের তো ওপারেই চলে যাবার কথা । তাছাড়া যে দেশের নাম নিয়ে বিপ্লব হয়েছে , দলে দলে মানুষ জীবন বলিদান দিয়েছেন, সেই নামটাই যে ওপারে রয়ে গেল । এই অংশের নামই তো আলাদা । কিন্তু কতো কতো পুরুষ ধরে এই অংশে বসবাস করছে তারা । অস্তিত্বের শিকড় চলে গেছে অনেক গভীরে । যদিও জানা আছে ভারতবর্ষ এক বিশাল দেশ । কিন্তু দেশের নাম নিয়ে যখন বিপ্লব করেছে , তখন যে শস্য শ্যামলা এই ভূখন্ডের ছবিই মূর্ত হয়ে উঠেছে মস্তিষ্কে । ওই ভূখন্ডের কিছুই তো তারা চেনে না , জানে না । তাহলে ওপারের অংশটিকে নিজের দেশ হিসেবে মেনে নিতে মন চাইবে ? আবার আর এক প্রশ্নও দোটানায় ফেলে দেয় । যে “বন্দে মাতরম “ মন্ত্র উচ্চারণ করে বিপ্লবের পারাবারে ঝাঁপ দিয়েছিল তারা , এদেশে থাকলে সেই মন্ত্র কি আর জপতে পারবে ?
সেই রাতেই সুধীরের বন্ধু মকবুলের বাবা জাহিরুল চাচা এসে মাকে বললেন ,”ভাবী , এই বাসায় আপনেরা আর থাকতে পারবেন না । পোলাপানেগো লইয়া অহনই আমাগো বাসায় চলেন ।“
মা শুধোলেন ,”ক্যান ভাইজান , কি হইসে ।“
চাচা তাড়া দিলেন ,”অত কথা কওনের সময় নাই । জলদি চলেন ।“
এই দুই পরিবার অনেক কাল ধরে পাশাপাশি বাড়িতে পরস্পরের সহায় হয়ে বাস করছেন । ওই সময় জাহিরুল চাচাই বলতে গেলে সুধীরদের অভিভাবক । কাজেই মা আর কথা বাড়ালেন না । সুধীর আর ছোট ছেলে সুশীলকে নিয়ে জাহিরুল চাচার পিছু পিছু সেই যে শ্বশুর বাড়ির ভিটে ছাড়লেন । আর তাঁর সেখানে ফেরা হয়নি ।
নিজের বাড়িতে পৌঁছেই জাহিরুল চাচা সুধীরদের বললেন ,”কেউ জোরে কথা কইবা না । তোমাগো গলা য্যান বাইরে না যায় ।“ আর বাড়ির লোকেদের বললেন ,”তোমরা এক্কেরে স্বাভাবিক থাকবা । আমাগো নূতন দ্যাশ হইতাসে । খুব আনন্দ কর হক্কলে ।“ জাহিরুল চাচার ভাবসাব খুবই সন্দেহজনক মনে হল সুধীরের । মায়ের দিকে চাইতে দেখল মায়ের চোখে মুখেও ফুটে উঠেছে অবাকভাব । জাহিরুল চাচারা তিনভাইয়ের পরিবার পরিজন নিয়ে বাড়িতে সদস্য সংখ্যা অনেক । সকলে মিলে হই হই করতে লাগলেন । কেবল জাহিরুল চাচার মুখে কথা নেই । তাঁর মুখমণ্ডলে স্পষ্ট দুশ্চিন্তার ছাপ । তার মধ্যেই চাচীরা এটা ওটা খাবার এনে দিয়ে যাচ্ছেন সুধীরদের । মনে সন্দেহ থাকলেও , চাচীদের দেওয়া খাবার প্রত্যাখ্যান করে এঁদের কাউকে অসম্মান করবার কথা ভাবতেই পারে না সুধীররা । সুখে দুঃখে আনন্দে উৎসবে এই দুটি পরিবার সর্বদা পরস্পরের সঙ্গে সংপৃক্ত থেকেছে । মা চা ছাড়া কিছু খেতে চাইলেন না দেখে জাহিরুল চাচা থমথমে গলায় বললেন ,”ভালো কইরা খাইয়া লন ভাবী । কেডা জানে পরে আর খাওনের মতো পরিস্থিতি থাকে কি না থাকে ।“ কথাগুলো শুনে চমকে উঠলেন মা । চাচীরাও কেমন গম্ভীর হয়ে গেলেন ।
(২)
ঘন্টাখানেকের মধ্যেই পরিস্থিতি তছনছ হয়ে গেল । দূর থেকে বহু লোকের চাপা উল্লাস ধ্বনি কানে আসতেই ঘরের আলো নিভিয়ে দিলেন চাচা । জানলার খড়খড়ি ফাঁক করে বাইরে দেখতে লাগলেন কিছু । ততক্ষণে ঘরের সবকটা জানলার খড়খড়িতে কৌতূহলী মুখের ভীড় । সুধীর দেখল , প্রচুর মানুষ হাতে জ্বলন্ত মশাল নিয়ে তাদের বাগানের মূলি বাঁশের বেড়া ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়েছে । মশালের আলোয় পৈশাচিক দেখাচ্ছে মুখগুলো। প্রায় প্রত্যেকেই চেনা । সূধীরের ঠাকুর্দা ছিলেন ডাক্তার । সকলে বলতেন ধন্বন্তরী । ভগবানও বলতেন অনেকে । কারণ , তিনি গরীব মানুষের চিকিৎসা করতে টাকা পয়সা তো নিতেনই না । উল্টে পথ্য করবার জন্য তাদেরকেই টাকা দিতেন । তা ছাড়াও , গভীর শীতের রাত , গ্রীষ্মের গনগনে দুপুর কিংবা তুমূল বর্ষা যে কোনো সময়ে রুগীর বাড়ির লোক ডাকতে এলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে পড়তেন । কাউকে ফেরান নি কখনও । সুধীর ছোটবেলায় এই মশালধারীদের অনেককেই দেখেছেন কৃতজ্ঞতায় ঠাকুরদার পা জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন । ঠাকুর্দার অবর্তমানেও তাঁর নাম করলেও কপালে হাত ছোঁয়াতে দেখেছেন অনেককে । তাঁদের সেই শ্রদ্ধাকে তো কখনই মেকি বলে মনে হয় নি ! আজ তাহলে কোন অশুভ পরিস্থিতি এই মানুষগুলোকে এমন মারমুখী করে তুলল !
চাপা আর্তনাদ করে উঠলেন মা ,”ভাইজান , হ্যারা কি চায় ।“ চাচাও চাপা স্বরে গর্জে উঠলেন ,”চুপ যান ভাবী চুপ চুপ ।“ সঙ্গে করে দাহ্য তেলের টিন নিয়ে এসেছিল লোকগুলো । ঈশ্বরের নামে জয়ধ্বনি দিতে দিতে উন্মাদের মতো সেই তেল ছড়িয়ে দিল তারা সুধীরদের বাড়িতে । মূহুর্তে কতকগুলো জ্বলন্ত মশাল উড়ে গেল সেদিকে । “হায় ভগবান “ বলে দুহাতে মুখ ঢেকে মাটিতে আছড়ে পড়লেন মা । চাচা বললেন ,”আমারে মাফ কইরা দিয়েন ভাবী । আমারে তো পোলাপান লইয়া অ্যাগো লগে বাস করতে হইব ।“ অন্ধকারে চাচার মুখ দেখা যাচ্ছে না । কিন্তু কন্ঠস্বর বুঝিয়ে দিচ্ছে , তিনি কাঁদছেন ।
এতক্ষণে চাচার সন্দেহজনক কাজ কর্মের ব্যাখ্যা পাওয়া গেল । সুধীরদের বাড়িতে আগুন লাগানোর পরিকল্পনার কথা চাচার গোচরে এসেছিল । সরাসরি নিষেধ করতে গেলে , চাচার তো বিপদ হতই , সুধীরদেরও প্রাণ সংশয় হতে পারত । তাদেরকে বাঁচানোর জন্যই তাহলে চাচার এমন তৎপরতা ! এমন মানুষকে সন্দেহ করেছিলেন বলে , মনে মনে নিজেকে ধীক্কার দিল সুধীর । চাচা ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন । বাইরে থেকে চাচার চিৎকার কানে এলো । হামলাকারীদের দলে যোগ দিলেন চাচা । কেবল তাঁদেরকে বাঁচানোর জন্য নিজের বিবেকের উপর অত্যাচার করছেন চাচা , ভেবে চোখে জল আসে সুধীরের । জানলার খড়খড়ি ফাঁক করে চাচাকে দেখতে গিয়ে আঁতকে ওঠে সুধীর । দাউদাউ করে জ্বলছে তাঁদের বাড়ি ।
লোকের মুখে মুখে বাড়িটার নাম হয়ে গিয়েছিল শহীদ বাড়ি । ঠাকুর্দার আমলে বাড়িতে বিপ্লবীদের গোপন মীটিং হত । সেই খবর কোনো সূত্রে ইংরেজদের কানে যেতেই গ্রেপ্তার হন ঠাকুর্দা । জেলে অনশন করে মৃত্যু বরণ করেন তিনি । সুধীরের বাবা ব্রিটিশ সরকারের গোয়েন্দা বিভাগে চাকরি করাকালীন এক জ্ঞ্যাতি বিপ্লবী ভাইকে লুকিয়ে রেখেছিলেন বাড়িতে । জানাজানি হতেই চাকরি থেকে বরখাস্ত হন । এতে খুশি হয়ে খোলাখুলি ভাবে দেশ মায়ের সেবায় ব্রতী হয়ে যান বাবা । অবশেষে একটা থানা পুনরুদ্ধার করতে গিয়ে ইংরেজ সেনার গুলিতে প্রাণ দেন । সুধীরের জ্যাঠা কাকা ছাড়াও বিভিন্ন আত্মীয় স্বজন প্রত্যক্ষ বা অপ্রত্যক্ষ ভাবে দেশ সেবা করেছেন । সুধীর নিজেও দেশ সেবা মন্ত্রে দীক্ষা নিয়েছে । স্কুলে পড়ার সময়ে খুব বড়ো কাজের দায়িত্ব পেতো না । বিভিন্ন জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ খবর পৌঁছে দিতেন । নেতারা অবশ্য অহরহ বলতেন , দেশের জন্য করতে পারা কোনো কাজই ছোট নয় । মাস আষ্টেক হল , কলেজে পড়ার সুবাদে বার তিনেক বিপ্লবীদের গোপন মীটিঙয়ে উপস্থিত থাকবার সুযোগ পেয়েছিল। ওহ্ শরীরে মনে সে কি রোমাঞ্চ ! এটা ঠিক , শহীদ বাড়ির ছেলে বলেই সে এতো তাড়াতাড়ি অতো বড়ো সুযোগ পেয়েছিল । সেই শহীদ বাড়ি বিদ্বেষের আগুনে পুড়ে আজ নিজেই শহীদ হয়ে গেল ।
চাচী ডাকলেন ,”উঠো বাপ , বাইরইতে হইব ।“ ধড়মড়িয়ে উঠে বসল সুধীর । হতাশ মন নিয়ে মেঝেতেই কখন যেন ঘুমিয়ে পড়েছিল । মায়ের দিকে চোখ পড়ল । পাথরের মূর্তি যেন । কাঁধে হাত রেখে চাচা বললেন ,”তোমাগো ওই পারে যাইতে হইব বাপজান ।“ ভাষাহীন চোখে নির্বাক দাঁড়িয়ে সুধীর । চাচা আরও বললেন ,”অহন থিকা মায় আর ছুট ভাইডার দায়িত্ব তোমারেই লইতে হইব বাপজান । আমি তো আর তোমাগো লগে থাকতে পারুম না ।“ বলতে বলতে হাউহাউ করে কেঁদে ফেললেন । চাচীরা সবাই কাঁদছেন । মকবুল জড়িয়ে ধরল সুধীর আর সুশীলকে । সবাই কাঁদছেন । কেবল মায়ের চোখ শুকনো ।
কলকাতায় যাবার ট্রেনে তুলে দিয়ে চাচা ফিরে গেলেন তাঁর নিজের দেশে । মা আর দুই ছেলের এক নরকীয় জীবন শুরু হল । ট্রেনে গরু ছাগলের মতো মানুষের গাদাগাদি । সুশীল আর মাকে আগলাতেই হিমসিম দশা । চাচীর গুছিয়ে দেওয়া সামান্য জামা কাপড়ের ব্যাগটা হাত থেকে ছিটকে উধাও হয়ে গেল কোথায় ! তারপর থেকে শুধুই এক নরক থেকে আর এক নরকে ঘুরপাক খাওয়া । প্রথমে শিয়ালদহ স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম । তারপর শরণার্থী শিবির । আর স্বেচ্ছাসেবীদের কি চূড়ান্ত দুর্ব্যবহার ! ওপার থেকে
আসা মানুষগুলি যেন ক্ষমাহীন অপরাধ করে ফেলেছেন । রাতারাতি সর্বস্ব হারানো অসহায় মানুষগুলির প্রতি সহানুভুতি
(৩)
দেখানোর মানসিকতার ছিটেফোঁটাও কারও মধ্যে নেই ।মায়ের এমন দুর্গতি দেখে দেশ মায়ের উপর প্রচণ্ড অভিমান হত সুধীরের । মাকে তাঁর সুরক্ষিত জীবন থেকে টেনে হিঁচড়ে বার করে এনে জনারণ্যে আছড়ে ফেলবে বলেই কি দেশ মায়ের সেবা করেছিল সে ? এই প্রশ্নের উত্তর দেবার সময় বা ইচ্ছে কারও মধ্যে নেই । সময় সুধীরেরও নেই । মা আর ভাইকে এই নরক থেকে উদ্ধার করতে হলে একটা চাকরি জোগার করতে হবে । কিন্তু সেখানেও আঘাত । সার্টিফিকেট আনতে পারেন নি । পরিচয় বলতে ওপার থেকে আসা শরণার্থী । এটা শুনলেই সবাই দূরদূর করে তাড়িয়ে দেয় । প্রচণ্ড অবিশ্বাস , ঘৃণা খেলতে থাকে তাদের চোখে মুখে । সুধীর এবং তাঁর মতো অনেকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে তাঁরাও ভারতবাসী । কিন্তু এ কথা শুনলেই সকলে মারমুখী হয়ে ওঠে । কেউ কেউ মার খেয়েছেন , গলা ধাক্কা খেয়েছেন ।
মেঘের ফাঁক দিয়ে সূর্য ওঠার মতো , হঠাৎই স্বেচ্ছাসেবীদের একজন এসে সুধীরকে বললেন ,”আমি বুঝতে পারি মাসীমার এখানে খুবই অসুবিধা হচ্ছে । কিন্তু কিছু করতে পারছিলাম না বলে আপনাদের সামনেও আসতে পারছিলাম না ।“ এই সহানুভুতির সুরও এখানে নতুন । সুধীর শুনে আপ্লূত । কাঁপা গলায় বলে ,”আপনে আর কি করবেন । আমাগো কপাল ।“ ছেলেটি হেসে বলল ,”আমি মাসীমার থাকার একটা ব্যবস্থা করেছি ।“ লাফিয়ে ওঠে সুধীর । ছেলেটির হাত জড়িয়ে ধরে বলে , ”সইত্য কইতাস্যেন আপনে !’ ছেলেটি তেমনই হেসে বলে ,”এক ধনী সজ্জন পরিবারে আমি অনুরোধ করেছিলাম । তাঁরা মাসিমাকে থাকতে দিতে রাজী হয়েছেন ।“আমাগো অহনই লইয়া চলেন ।“ সুধীরের আর তর সয় নি । ছেলেটির সঙ্গে গিয়ে মাকে সেই বাড়িতে রেখে এসেছিল । বিশাল বাডি । প্রচুর লোকজন । এঁদের মাঝে মা ভালোই থাকবেন । অনেকদিন পরে মনে স্বস্তি পেয়েছিল সুধীর । ছেলেটি বলেছিল ,”মাসীমার খবর আমিই এনে দেবো । আপনাদের এখানে আসার দরকার নেই । বোঝেনই তো বাইরের লোকের রোজ রোজ আসা এনারা পছন্দ করবেন না । বিরক্ত হলে হয় তো মাসীমাকেও থাকতে দেবেন না আর ।“ সুধীর তাড়াতাড়ি বলেছিল ,’না না আমরা আসুম না । মায় ভালা থাকব অ্যার চাইয়া বেশি আর কিছু চাই না আমরা ।“ রোজ ছেলেটির কাছ থেকে মায়ের ভালো থাকার খবর শোনে আর ঈশ্বরকে কৃতজ্ঞতা জানায় দুই ভাই । একদিন সুশীল বলে ,“কত্ত দিন মায়রে দেহি না । ওই দাদারে কও না দাদা , আমাগো একদিন মায়ের নিকট লইয়া যাইতে ।“ সুধীর বলে ,”না না ওই দাদারে বিরক্ত করন ঠিক অইব না । আমিই তরে লইয়া যাইতে পারুম ।“ “তুমি চিনবা অগো বাসা ?” সুধীর হাসে ,”কি যে কস ! মায়ের বাড়ি পোলায় চিনব না !” সেদিন মায়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল সুধীর । ওঁরা আসলে মাকে নিজেদের রান্নার লোক হিসেবে রেখেছিলেন । সুধীরদের দেখে কেঁদে ফেলেছিলেন মা । আর মাকে দেখে ছেলেরা । যত খারাপই হোক শরণার্থী শিবিরে অন্ততঃ এক মুঠো খাবার জোটে । দুই ছেলেকে দুপাশে নিয়ে স্বস্তিতে ঘুমোনোয় বাধা ছিল না কোনো । মাকে দেখে মনে হচ্ছে এখানে খাওয়া ঘুম কোনটাই জোটে নি । মাথার ঠিক রাখতে পারে নি সুধীর । প্রবল চিৎকারে শাপ শাপান্ত করে উঠেছিলেন বাড়ির লোকেদের । তাঁরাই বা সহ্য করবেন কেন ? বাড়ির ছেলেরা দুই ভাইকে বেধড়ক মেরে গালি গালাজ করে বার করে দিল বাড়ি থেকে । গালাগালির বন্যা থেকে কিছু কথা বিষাক্ত তীরের মতো বিঁধছিল বূকের মাঝখানে । অন্য দেশ থেকে শয়তানগুলো এসেছে বসে বসে এই দেশের অন্ন ধ্বংস করবে বলে । মাকে নিয়েই ফিরল তাঁরা । স্বেচ্ছাসেবী ভাইটিকে বিষয়টা বলতে যেতেই স্বমুর্তী ধরল সে । খেঁকিয়ে উঠে বলল ,”খাচ্ছিস তো আমাদের দেওয়া ভিক্ষার খাবার । তার আবার অত তেজ ?“ দেখি এখানে কে তোদের খাবার দেয় ।“ বোঝা গেল ছেলেটি সব জেনেই মাকে নিয়ে গিয়েছিল । ছিটে ফোঁটা যেটুকু ভরসা বিশ্বাস মানুষের উপর তখনও অবশিষ্ট ছিল , এরপর সেটুকুও উবে গেল মন থেকে ।
এরপর এক শরণার্থী শিবির থেকে আর একটা । সবই কেবল নরকের রকমফের । ঠোক্কর খেতে খেতে শেষমেশ সুধীররা এসে ঠেকলে এই আন্দামানে । আন্দামান ! কালা পানি । সেলুলার জেল । জ্ঞান হওয়া ইস্তক সুধীর শুনে আসছে এই নামগুলো । তার সঙ্গে মিশে থাকা আরও কতো কাহিনী । মনের গভীরে অবর্ণনীয় রোমাঞ্চকর এক অনুভূতি হত । কত কত স্বাধীনতা সংগ্রামী এই কালা পানি অতিক্রম করে এসে , ওই সেলুলার জেলের ভিতরে ব্রিটিশদের অমানুষিক অত্যাচার সইবার শক্তি অর্জন করেছেন দেশ মায়ের বন্দনা করে । সুধীর মনে মনে স্থীর করে রেখেছিল , দেশ স্বাধীন হলে আন্দামানে এসে সেলুলার জেল দর্শন করবে । এর প্রত্যেকটা কুঠুরীর মেঝে থেকে ধূলো নিয়ে মাথায় দেবে । এটাই তো ভারতীয়দের আসল তীর্থক্ষেত্র । এখানে সেই সকল মহা মানবেরা তাঁদের শেষ জীবন কাটিয়ে গিয়েছেন , যাঁরা দেশের স্বাধীনতা দেখে যেতে পারেন নি । কিন্তু ভবিষ্যত ভারতবাসীর মনে স্বাধীনতার মন্ত্র গেঁথে দিয়ে গিয়েছিলেন ।
আন্দামানে পা দিয়ে অবশ্য সেলুলার জেল দেখতে যাবার সময় পায় নি সুধীর । স্বাধীন দেশের নাগরিকের তখন পায়ের তলায় মাটি নেই । মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের খেয়াল খুশির কারণে নিজেদের সর্বস্ব হারিয়ে বেঁচে থাকার কঠিন সংগ্রামে বিপর্যস্ত সকলে । গহীন অরণ্যে হিংস্র জন্তু আর বিষধর সরিসৃপদের আক্রমণ থেকে নিজেদেরকে বাঁচিয়ে রাখার অবিরাম যুদ্ধ । তাছাড়া , আন্দামানের আদি বাসিন্দা জারোয়াদের যখন তখন হামলা । তাদের কোনো দোষ দেখে না সুধীর । এটা তো সত্যি যে , তাদের নিরুপদ্রব জীবনে , তাদের নিজস্ব বাসভূমিতে কালাপানির ওপার থেকে এসে অনুপ্রবেশ করেছে একদল সভ্য মানুষ । সেটা তারা
(৪)
সইবে কেন ? তারা নিখাদ স্বাধীন মনোভাবাপন্ন জাতি । নিজেদের ভূখণ্ডে অন্য কারও জবর দখলদারীত্ব তারা মানবে না , সেটাই স্বাভাবিক । নিজেদের প্রতি ধীক্কার জাগে সুধীরের মনে । যে ঔপনিবেশিক নীতির বিরুদ্ধে প্রজন্মের পর প্রজন্ম প্রতিবাদ করল তারা , স্বার্থের জন্য সেই নীতি আজ নিজেরাই অবলম্বন করছে ।
অবশেষে শিকড় উপড়ে যাওয়া অসংখ্য মানুষ অসম লড়াই লড়তে লড়তে , দিন মাস বছর অতিক্রান্ত করে আন্দামান নিকবর দ্বীপপুঞ্জের আনাচে কানাচে নিজেদের অস্তিত্ব স্থাপন করতে সফল হলেন । এই যুদ্ধে সকলেই কিছু আপনজনকে হারালেন । সুধীর হারালো মা ভাই দুজনকেই । অনিশ্চিত জীবনের এতো ধকলের সঙ্গে বেশিদিন যুঝতে পারলেন না মা । শেষের দিকে মাথাও ঠিক রাখতে পারেন নি । সুশীল গেল অজানা পোকার কামড়ে জ্বরে ভুগে । বলা বাহুল্য বিনা চিকিৎসায় ।
মানব জীবনে সময় এক পরম প্রাপ্তী । সব দুঃখ বুকে চেপে মানুষকে এগিয়ে চলার শক্তি জোগায় । সেই নিয়মেই ছিন্নমূল মানুষগুলো আবার নিজেদের সংসার পাতলেন । সমাজ গড়লেন । কিন্তু নিজেদের দেশের নাম নিয়ে দ্বন্দ কাটলো না ।
পরবর্তীকালে অনেকবার সেলুলার জেল দর্শনে গিয়েছেন সুধীর । মন নানা প্রশ্নে জর্জরিত হয়ে উঠলেই সেখানে ছুটে যান । প্রত্যেকটি কুঠুরিতে ঢুকে মেঝে থেকে ধূলো নিয়ে মাথায় দিয়েছেন । মনে মনে হাহাকার করে উঠেছেন ,”হে দেশমাতার বীর সন্তানেরা , তোমরা যখন ‘বন্দে মাতরম ‘ মন্ত্রে নিজেদেরকে উদ্বূদ্ধ করতে তখন কোন মায়ের কথা ভাবতে ? ‘জয় হিন্দ ‘ বললে কোন মানচিত্রের ছবি ফুটে উঠত তোমাদের হৃদয়ে ? তোমাদের মায়ের কোমল শরীর যে কাঁটাতারের খোঁচায় রক্তাক্ত হয়ে গেল । তোমাদের অনেকের শৈশবের উপবনের থেকে ভারতবর্ষ নামটাই যে মুছে গেছে । আর আমরা ? আমরা কোন দেশের অধিবাসী তার উত্তর খুঁজতে খুঁজতেই জীবন পার করে ফেললাম ।“
জীবনে স্থিতি আসার পর , বয়স পরিণত হবার পর স্মৃতিগুলো উথলে ওঠে । মনে পড়ে দেশের কথা । মকবুল , জাহিরুল চাচা , মাতৃসমা চাচীরা সবাই ভীড় করে আসেন মনের পর্দায় । আর একটা প্রশ্ন জাগে তাঁর মনে । সুধীর আর মকবুল , জাহিরুল চাচা আর বাবা , মকবুলের দাদাজী আর ঠাকুর্দা সকলেই তো কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ভারতবর্ষকে স্বাধীন করবার যুদ্ধে সামিল হয়েছিলেন । এরকম অনেক অনেক রাম রহিম একসঙ্গে বিপ্লব করেছেন ব্রীটিশদের বিরুদ্ধে । কিন্তু স্বাধীন যখন হল , তখন তো দেশের নামই বদলে গেল । তাহলে সেই দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীরাও কী তাঁর দেশের স্থিতি নিয়ে তাঁর মতোই দ্বন্দে দুলেছেন সেই সময় ? এই প্রশ্নের উত্তর জানার উপায় নেই । কিন্তু সুধীরের মনে দৃঢ় বিশ্বাস জাহিরুল চাচার মতো আরও অনেকেই নিজেদের দেশ নিয়ে বিহ্বল । তাঁরা যখন বন্দে মাতরম মন্ত্রে নিজেদের জারিয়ে নিতেন , জয় হিন্দ ধ্বনিতে শক্তি ভরতেন নিজেদের প্রাণে , যে পতাকার মর্যাদা রক্ষায় আত্ম বলিদান দিয়েছেন , তাঁদের বিশ্বাসে খামতি আছে বলে কখনও তো মনে হয় নি ! মনে মনে মকবুলকে বলেন ,”মকবুল , স্বাধীনতা দিবসে কোন পতাকা তুলিস ভাই ? তোর মনে আছে মকবুল , ছোটবেলায় একদিন খেলতে গিয়ে পদ্মার জলে ভারত বর্ষের পতাকা ভেসে যেতে দেখেছিলাম । হঠাৎ কোথা থেকে আনোয়ার চাচা ছুটে এসে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল উত্তাল পদ্মায় । পাড়ে তখন অনেক লোক । আরও কেউ কেউ ঝাঁপালেন । দ্রুত সাঁতরে গিয়ে পতাকাটাকে উদ্ধার করে এনেছিলেন আনোয়ার চাচা । যখন পাড়ে উঠে এলেন , তাঁর চোখে কেমন আলো জ্বলতে দেখেছিলাম । স্বাধীনতা দিবসে অন্য পতাকা তুলতে গিয়ে কেমন অনুভূতি হয়েছিল আনোয়ার চাচার মতো আরও অনেকের ? তাকে নিজের দেশের পতাকা বলে মেনে নিতে কতো সময় লেগেছিল ? তোর কেমন অনুভূতি হয় রে ? তোর মনে আছে ,আমাদের কমলাপুরের যে কোনো বাড়িতে বিপ্লবীদের মীটিং হলেই তোর আর আমার উপর ভার পড়ত , ছোট ছোট পতাকা দিয়ে ঘরটা সাজানোর । আরও কয়েকজন বন্ধুকেও সঙ্গে নিতাম আমরা । সেই দলে মোনাজাদ , কার্তিক , প্রমথ , আলি সবাই থাকত । রঙিন কাগজ কেটে কেটে বানানো হত ছোট ছোট অনেক পতাকা । কারও মধ্যে উৎসাহের বিন্দুমাত্রও ভাঁটা ছিল না । যখন বুঝে গিয়েছিলাম স্বাধীনতা আসন্ন , তুই আর আমি একসঙ্গে দিনটা উদযাপন করব বলে কতোরকম পরিকল্পনা করেছিলাম বল ? অনেক অনেক ভারতের পতাকা বানিয়ে সবাইকে উপহার দেবার বুদ্ধিটা তোর মাথা থেকেই এসেছিল । তখন কী তোর মনের ঈশান কোনে এই আশংকা জন্ম নিয়েছিল যে , ভারতের পতাকা তোর আর কোনোদিনই বানানো হবে না । ভারতের নাম করে উৎসবও পালন করতে পারবি না কোনোদিন ?“
ভারতবর্ষ থেকেও অনেক মানুষকে কাঁটাতারের ওপারে চলে যেতে হয়েছিল । তাঁদের কথা ভেবেও মন গুমড়ে ওঠে সুধীরের । তাঁরা যে দেশের সঙ্গে দেশের পতাকাও হারালেন । প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে যে দেশের নাম গেঁথে আছে তাঁদের হৃদয়ে , মজ্জায় , জীবন যাপনে । যে পতাকাকে সামনে রেখে দ্বিধাহীন চিত্তে মৃত্যুর মুখোমুখী হয়েছেন । কয়েকটা কলমের খোঁচায় তাঁদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হল সেই সব কিছু ।
“জানিস মকবুল , ভারতের স্বাধীনতা দিবস আমি কখনও উদযাপন করিনি । যে দেশের অধিবাসীরা আমাকে ভারতবাসী বলে স্বীকৃতিই দিল না । যে দেশের মূল ভুখন্ডে স্থান হল না আমার । যে দেশের আসল বাসিন্দাদের মেরে তাদের জায়গা জবর দখল
(৫)
করে নিজের বসবাসের জায়গা গড়ে নিতে হল আমাকে । সেই দেশের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের অধিকার অর্জন করেছি কি না , সেটাই তো বুঝে উঠতে পারলাম না এতোদিনেও । ভারতের পতাকা ধীরে ধীরে আকাশ স্পর্শ করতে এগিয়ে যাচ্ছে নির্ভয়ে , তুই আর আমি পাশাপাশি দাঁড়িয়ে জয়ের আনন্দ নিয়ে দেখছি সেই দৃশ্য , আমাদের কন্ঠে দেশ বন্দনা । স্বপ্নের এই ছবিটা যে আজও এতোটুকুও ম্লান হয় নি রে ।“
কিন্তু নাতিকে কি বলবেন ? ও যে বড়ো উৎসাহ ভরে পতাকা উত্তোলনের বেদি বানাচ্ছে । আবার তাঁকে দিয়েই পতাকা তোলানোর ইচ্ছে ওর । বড়ো বড়ো নেতারা কতো সহজে দেশ ভেঙে ফেলেছিল । কিন্তু ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মনের স্বপ্ন ভেঙে দিতে তাঁর মন সায় দেয় না ।
ভোর বেলায় গানের আওয়াজে ঘুম ভেঙে গেল সুধীরের । বাইরে প্রভাত ফেরি হচ্ছে । আজ স্বাধীনতা দিবস । সুধীর জানেন , সুহৃদও আছে ওই দলে । প্রভাত ফেরি সেরে সে আসবে তাঁকে ডাকতে । অনেক ভেবে , ছেলে বৌমার সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি স্থির করেছেন , শরীর খারাপের অজুহাতে নাতির কাছ থেকে মুক্তি নেবেন তিনি । সেই কারণে , বিছানা ছেড়ে উঠলেন না তিনি । শুয়েই রইলেন ।
সুহৃদ এসে ডাকল ,”দাদু এখনও শুয়ে আছো ! ওঠো ওঠো , পতাকা তুলবে না ? দেখো মকবুল এসে গেছে ।“
কে ! কে এসেছে ! মকবুল ! ধড়মড়িয়ে উঠে বসলেন সুধীর । সুহৃদের পাশে ওর মতোই ঝকঝকে এক কিশোর । দুজনেই দেশ মায়ের জয়ধ্বনী দেবে বলে সাদা জামা প্যান্ট আর কেডস পড়ে তৈরী । দুজনের হাতেই ভারতের ছোট ছোট দুটি পতাকা । সুহৃদ বলে ,”ক্লাসে আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু , মকবুল ।“ সুধীর এসে জড়িয়ে ধরেন ছেলেটিকে ,”মকবুল , তুমি এতোদিন আসোনি কেন ভাই । আমি যে তোমার পথ চেয়ে বসে আছি কতকাল ।“ মনের আবেগ তাঁর দুচোখ বেয়ে ঝরে পড়ছে । ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করলেন ,”তোমার দেশের নাম কি মকবুল ?”
“ভারতবর্ষ ।“ সগর্বে উত্তর দিল মকবুল । আহ্ কানের ভিতর দিয়ে যেন শান্তি প্রবেশ করল হৃদয়ে । সুধীরের এতোদিনের জ্বালা যন্ত্রণা সব জুড়িয়ে গেল আজ । সব ক্ষোভ সব অপ্রাপ্তী এই মূহুর্তে ছেড়ে চলে গেল তাঁকে ।
মকবুল বলল ,”পতাকা তুলবে না দাদু ?’
“হ্যাঁ হ্যাঁ পতাকা তুলব তো । তোমাদের জন্যই তুলব । সেই পতাকার পায়ের কাছে দাঁড়িয়ে তোমরা শপথ নেবে , তোমাদের মতো আরও অনেক সুহৃদ আর মকবুল মিলে ভারতবর্ষকে অখণ্ড রাখবে । ভাগ হতে দেবে না কিছুতেই ।“
আকাশে পতপত করে উড়ছে ভারতের পতাকা । শান্তির প্রতীক , শৌর্যের প্রতীক আর ক্ষমার প্রতীক ।