সাতে পাঁচে কবিতায় সুলতা পাত্র

ওগো চাঁদ
ওগো চাঁদ জোছনায়, কেমন করে ভরিয়ে দিলে এত বড় পৃথিবীটাকে,
তোমার রূপে – গুনে সোহাগী হয়ে, থাকো তুমি দূর নীলিমার দরাজ বুকে।
কত প্রেমের মিলন ঘটাও, সাক্ষী থেকে জোছনা রাতে,
ঝরছে সোহাগী শিশির সিক্ত শিউলি, প্রেমময় নিশির সাথে।
ওগো চাঁদ, তোমার মিষ্টি আলোর রশ্মি ছটা, দিঘির জলে ছলাত বুকে,
বকুল শাখে বিরহী – পাখি, আপন মনে উঠছে ডেকে।
ওই দেখা যায় লজ্জাহীনা জোনাকিরা, বনানীতে আলো জালে,
তোমার দর্শনে শিশির সিক্ত প্রফুল্ল কুমোদিনী, সরসীর জলে পাপড়ি মেলে।
ওগো চাঁদ টালির চালের ছায়ার গাঢ় রাতে, জোছনা উঠোনে নেমে আসে,
বাতাসে ঝিঁঝির শব্দ, পুষ্প কলিরা তোমায় দেখে হাসে।
বনের ছায়া তোমায় যে গো, গভীর ভাবে ভালবাসে,
তাইতো তারা চায় না দিতে তোমায় যেতে, ওই শ্যামল মেঘের দেশে।
ওগো চাঁদ তবে কেন, আলো পেয়েও দরিদ্রদের ভাঙ্গা ঘরে,
উচ্চবিত্তের ভয়ে, ঘৃণায়, অবহেলায় প্রতিদিন তাদের অশ্রু ঝরে!
কেউ ভালবাসেনা, কেউ তাদের করে না আদর,
জন্ম দুঃখী ওরা, তাই এত চোখে জল, করুণা কাতর!
ওগো চাঁদ গুমরি ওঠে বুক, লজ্জাহীন কাঙালের গুরু বেদনাতে,
এসো আমরা সবাই পাশে দাঁড়াই, থাকে যেন ওরা দুধে-ভাতে।
রাত্রি – জাগা, তন্দ্রা – হারা, দরিদ্ররা, ক্ষুধার জ্বালায় তিলে, তিলে না যেন মরে,
বারো মাসে, তেরো পার্বণের এই রূপসী বাংলায়, সবাই থাকুক ভালোবাসার ডোরে।
সত্যি যদি ফিরে আসি চাঁদ, এই ধরনীর কোন এক নীড়ে,
তবে যেন আবার আসিগো, আমার এই বাংলায় ফিরে।