কবিতায় সত্যদেব পতি (নীলধ্রুবতারা)

হয় স্তুতি নয় তো সত্য
আমার জৈষ্ঠ বেলায় তোমার ঐশানী বাদল বাতাস,
ওখানে ঝরে হাজার মেঘমল্লার সুরমাখা ফুল-
হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া দুরন্ত বাতাসে আস্ত একটা পৌষ,
ঘুম হীন পৃথিবী জেগে ওঠে দেহের লোমকূপে –
না দেখোনি সেসব,,,,,
অতীতকে বর্তমানের মাটিতে শুইয়ে ডেকে আনো
একটা তপ্ত সৌর জগৎ,
নির্জন মনের কোণে যখন শরৎ শশী জোছনা ছড়াতে চায়,,,,
তোমার জীমুতবাহন মনের আকাশে তখনও দোদন্ডী প্রখরতা!
আমার প্রেম নদীর দুকুল ছাপানো বর্ষালী জলটাকেও শুঁষে নাও ঐরাবতী চালে,
কর্দমাক্ত পথ পিছলে বেরিয়ে যেতে চাইলেও সেখানে শুরু হয় বর্ষামঙ্গল;
শ্যামহীন প্রেম যেন অসময়ে ফুটন্ত কলম ফুল,
শেষ হয়না তোমাকে চাওয়ার;
দিনকাটে রাত পেরিয়ে সকাল আসে না পাওয়া মনে শুধুমাত্র চাতকতা,
আবারো শুরু হয় তোমার ক্ষিদে!
বুকের হাপরের অক্সিজেন ফুরোতে চায় তোমার দাবানলের লেলিহান শিখায়,
দুরের বনবিথীর নিপশাখে কর্কশ গলায় কাকের ডাকে তন্দ্রা কেটে যায়,
এক অঞ্জলী ঝর্নার জল চোখে দিয়ে দেখি ওখানে ও তোমার জ্যৈষ্ঠ দহণ,
মন পুড়ছে হৃদয় জুড়ে তোমার পৌষালী শীতলতা,
জমাট বাঁধা ভালো বাসা এখনো অপেক্ষা করে আগামী ফাগুনের,
বিশ্বাসের বাতয়ন খুলে আষাঢ়ী বরিষণে রবির তাপ ধুয়ে নিতে হবে আগামীতে,
সংযমের দিগন্তরেখায় একাগ্রে করবো তোমার স্তুতি,
হে প্রাণ প্রিয় ফিরে এসো আরবার
খোলো এসে একবার তব হৃদয়ের দরবার ,
অরুণ কান্তি রুপে না পারি সহিতে-
এসো নিয়ে বারিধারা আষাঢ়ী প্রভাতে,
নয়তো হেমন্ত রাত শিশিরের বিন্দু সম-
তবে তো বসন্ত বিলাস পাবো আমি প্রিয়তম।