গারো পাহাড়ের গদ্যে এস এম শাহনূর (পর্ব-৭)

রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিধন্য বরিশাল:

ধান নদী খাল,তিনে বরিশাল। বরিশালের পূর্ব নাম চন্দ্রদ্বীপ। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চন্দ্রদ্বীপ রাজা রামচন্দ্র রায়ের স্ত্রী বিভাবতী বা বিমলাকে নিয়ে বিখ্যাত উপন্যাস বৌ-ঠাকুরানীর হাট’ রচনা করেন।

✪ বরিশালের ইদিলপুর পরগণায় কলকাতার ঠাকুর ষ্টেটের জমিদারী ছিল। এ জমিদারিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অংশ ছিল। বরিশালে অলাভজনক আখের মাড়াই কল ছিল। রবীন্দ্রনাথ এক পত্রে লিখেছেন: “বরিশালের আখের কলের কাজ সম্পর্কে টাকা বা খবর না পাইয়া উদ্বিগ্ন হইয়া মোকাম পরিদর্শক নগেন্দ্রকে পাঠাইয়াছি। যে রিপোর্ট পাইতেছি তাহাতে উদ্বেগের কারণ বাড়িয়া উঠিয়াছে।”

✪ রবীন্দ্রনাথের বড় ভাই দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুই পুত্র দ্বীপেন্দ্রনাথ ও অরুণেন্দ্রনাথ যথাক্রমে বরিশালের লাখুটিয়ার জমিদার রাখাল চন্দ্র রায়ের সুন্দরী ও বুদ্ধিমতি দুই কন্যা সুশীলা ও চারুশীলাকে বিয়ে করেন।রাখাল চন্দ্র রায়ের একমাত্র পুত্রের নাম ছিল দেবকুমার রায়।

১৯০৭ খ্রিস্টাব্দের জুন মাসে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কনিষ্ঠা কন্যা ১৪ বছর বয়স্কা মীরা দেবীকে নগেন্দ্র গাঙ্গুলীর সাথে বিয়ে দেন। নগেন্দ্র গাঙ্গুলী তৎকালীন বরিশাল ব্রাহ্ম সমাজের নেতা ও সদর হাসপাতাল সড়কের বাসিন্দা শ্রী বামুন দাশ গাঙ্গুলীর পুত্র। ১৩১৪ সনের ২৮ জ্যেষ্ঠ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কন্যা ও জামাতাসহ বরিশালে আসেন। ঐ সময় জামাতার বাড়িতে এক সপ্তাহ অবস্থানকালীন স্থানীয় গুণিজনের সাথে বরিশালে সাহিত্য পরিষদ শাখা খোলার আলোচনা করেন।

[বিয়ের শর্তানুযায়ী ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দের ২৮ জুন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জামাতাকে উচ্চশিক্ষার্থে আমেরিকায় প্রেরণ করেন।১৯২০ সালে অকৃজ্ঞ নগেন্দ্রনাথের সাথে মীরার দাম্পত্য জীবনের অবসান এবং ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে মীরা দেবী মৃত্যু বরণ করেন ]

✪ প্রথম বার বরিশাল আসার পূর্বে ৮ এপ্রিল ১৯০৬ সালে, এক পত্রে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লেখেন, “ঘুরিয়া মরিতেছি, সম্প্রতি আগরতলায় আটকা পড়িয়া গেছি। বরিশাল যাইতে হবে….।”
১৯০৬ খ্রিস্টাব্দের ১৫ এপ্রিল বরিশালে কংগ্রেসের প্রাদেশিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সুযোগে কবির একান্ত ভক্ত বরিশালের সুসাহিত্যিক দেবকুমার রায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ বরিশাল শাখার সম্মেলন আহবান করেন। ঐ সম্মেলনে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সভাপতিত্ব ও অভিভাষণ প্রদান করার কথা ছিল। করিগুরু আগরতলা হতে রওনা হয়ে ২ বৈশাখ ১৩১৩ সনে, ১৫ এপ্রিল ১৯০৬ খ্রিষ্টাব্দে রবিবার দুপুরে জলপথে বরিশাল পৌঁছেন। ১৪ এপ্রিল কংগ্রেসের প্রাদেশিক সম্মেলন শুরু হলে পুলিশ তাতে হামলা চালিয়ে জনতাকে নির্যাতন করেন। পুলিশ জনতার তুমুল সংঘর্ষে সম্মেলন ভেঙ্গে যাওয়ার সংবাদ পেয়ে রবীন্দ্রনাথ শহরে প্রবেশ করেননি। বরিশাল ভাটার খালের কাছে বজরাতে অবস্থান করতে থাকেন।

সন্ধ্যায় সম্মেলনের উদ্যোক্তা দেব কুমার রায় চৌধুরী ব্যথিত মনে নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বজরায় এসে কবির সাথে সাক্ষাৎ করেন। সাহিত্য সম্মেলন অনিশ্চিত। তাই পরের দিন ১৬ এপ্রিল সকালে কবি বরিশাল থেকে রওনা দিয়ে ১৭ এপ্রিল শান্তিনিকেতনে পৌঁছেন। কবিদর্শনে বঞ্চিত হলেন বরিশালবাসী। ১৯০৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ এপ্রিল “The Bengalee” পত্রিকায় লিখেছে : Babu Rabindranath Tagore reached here last noon and left this morning. The literary conference has been given up”.

➤তথ্যঋণ:
[১] সিরাজ উদ্দীন আহমেদ। বরিশাল বিভাগের ইতিহাস (প্রথম খন্ড)। ভাস্কর প্রকাশনী, ঢাকা।
২০১০
[২] The Daily Ittefaq ঢাকা, সোমবার ১০ জুন
২০১৩, ২৭ জৈষ্ঠ্য ১৪২০, ৩০ রজব ১৪৩৪।

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!