কর্ণফুলির গল্প বলা সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে সৈয়দ মিজানুর রহমান (পর্ব – ২)

অনন্ত-অন্তরা

দ্বিতীয় পর্ব

এলার্ম বেজে চলছে তো চলছে কর্ণে ভেসে আসছে প্রগাড় ঘুম- নেশায় অসাড় শরীর মনে বেজে চলছে সুর মিলিয়ে সুরধবনি যেন পরীরানী ডাকছে আমায় কী নরম ইশারায় কোন ভাবেই যেন ঘুম ভেঙ্গে যাক সেটা চাচ্ছি না- বন্ধ হয়ে গেল নির্ধারিত সময়ের পর, পরী মিলে গেল চোখের গভীরে অভিমানী মন বিরাগী সুরে আঁতকে উঠল চোখ মেলে তাকালো, বিভ্রম মন বুঝে উঠতে পারলো না, প্রশ্ন! এখন ক’টা বাজে আমি কোথায় কয় তারিখ কী বার? সব যেন গুলিয়ে যাচ্ছে! আড়মোড়া মণ অলসতায় ঘড়িটা খুঁজে নিয়ে দেখবে ক’টা বাজে সেটাও ইচ্ছে করছে না, ইচ্ছের বিরুদ্ধে খুব কষ্টে ঘড়ি টেনে চোখ মেলে দেখল ১১টা হুম ১১টা সকাল নাকি রাত? চোখ বড় বড় করে দেখলো সত্যি সকাল! এক লাফে উঠে বসলো বিড়বিড় করে বলতে লাগলো আমার একটা ক্লাস মিস হয়ে গেল- ভীষণ গুরুত্বপূর্ন ছিল ক্লাসটি । এখন উপায় স্যারকে কী জবাব দেব? কমিটমেন্ট রক্ষা করতে পারলাম না ! কিচেনে যেয়ে দেখি কোন কিছুরই ঠিক নাই বুয়া আসে নাই! সময় খারাপ কোন কথা নয় চুপচাপ একদম শান্ত হতে চেষ্টা করলাম এবং হলাম । সোজা ওয়াশরুম- বেরিয়ে সোজা ইউনিভার্সিটি যেতে পাশের একটি ক্যান্টিনে, রহমত ভাই ঝটপট নাস্তা দিতে বল ঝামেলা হয়ে গিয়েছে ।
পিচ্চি ছোট সাহেবের টেবিলে নাস্তা দে-
ডিম, পরাটা, নাস্তা শেষে ধুঁয়া উড়া ব্লাকটি হালকা চিনি দিয়ে সঙ্গে একটা ব্যানসন সিগারেট লম্বা টানে ধরিয়ে বাইরে এসে দাড়ালাম চুমুকে চুমুকে ভর করলো সেই পরীরানী অন্তরা সিগারেট পুড়ে শেষভাগের তাপ যখন আঙ্গুলে অনুভব করলাম স্বপ্ন ভেঙ্গে গেল, ভ্রু কুঁচকিয়ে সিগারেটের উচ্ছিষ্ট জুতার নিচে পিষে ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর মনে করে করে ক্লাসের দিকে রওনা হলাম ।
ক্লাস শেষে মনোযোগীর পতন ঘটিয়ে স্বাধীন হলাম অন্তর রাজ্যে অন্তরাকে বসিয়ে খোলা মাঠে বিকেলের নরম রোদে মৃদু হাওয়ায় একটি সিগারেটের সাদা ধুঁয়ায় প্রেয়সীকে এঁকে ভাবতে ইচ্ছে হলো, সিগারট ধরিয়ে লম্বাটানে ধুয়া নিয়ে মুখের মধ্যে গোলাকারে ধুঁয়া দিলাম ছেড়ে- হলো না বাতাসের কারণে !
এরমধ্যে সন্ধ্যা আমাকে ডেকে বলল এই বাসায় যাবি? আমরা এখন যাব ।
হ্যাঁ আমিও যাবো বলে উঠে বন্ধুদের সাথে ফিরতে লাগলাম হেটে হেটে –
অনন্ত তোর কী হয়েছেরে?
কেন কী হবে কিছু হয়নি তো?
না ঠিক তা নয় তোকে বেশ অন্যমনস্ক মনে হচ্ছে তাই জিজ্ঞাসা করলাম আফটার অল আমি তোর বেস্ট ফ্রেন্ড তাই না ?
হা হা হা থ্যাকং ইউ দোস্ত তুই আমাকে অনেক টেক কেয়ার করিস এটা আমাকে স্বীকার করতেই হবে ।
থাক থাক আর হাওয়া দেওয়া বা ভদ্রতা কোনটাই দেখাতে হবে না বেশী হলে আমি ফুলে ফেঁপে ব্লাস্ট হলে তোকে দেখার কেউ থাকবে নারে তখন আমি মরেও শান্তি পারবো না তোর বেহাল অবস্থা দেখে ।
থাক্‌ আর ন্যাকামো করতে হবে না একটা রিক্সা ডাক চল যাই বড্ড খিদে পেয়েছে ।
এই মামা নীলক্ষেত যাবে?
 যামু –
তাহলে রিক্সা সাইড করো –
করতাছি আপা –
এই ওঠ রিক্সায়-
হ্যাঁ উঠছি-
ততক্ষণে সন্ধ্যা বাকী বন্ধুদের কাছ থেকে বিদায় নিতে হাত তুলে টাটা দিতেই আমিও সেই বিদায়ে নিজেকে শামিল করে দুজনে চললাম বাসার দিকে ।
শোন্‌ অনন্ত তোকে বেশ ক্লান্ত মনে হচ্ছে আজ তাই বাসায় যেয়ে শাওয়ার নিবি পেট পুরে খাবি তারপর রাত জাগবি না কিন্তু- ঘুমাবি, বুঝলি তো ?
ঠিক আছে –
ইস্‌ সুবোধ বালকের মতো বলে কিনা ঠিক আছে- তুই যে কী বজ্জাত তা আমি জানি, কিন্তু পালাবার কোন সুযোগ নাই আগেই বলে রাখলাম- তুই তো জানিস তোর চোখ দেখলে আমি সব টের পাই অতএব সাধু সাবধান !!
হা হা হা তুই তো একটা বদের হাড়ি- সেটা কে বলে দেবে গো শুনি?
কী আমি বদের হাড়ি? তুই নামে যা রিক্সা থেকে-
ইস্‌ কিসের ঠ্যাকা পড়েছে আমার? আমি রিক্সা থেকে নেমে যাব না, বললেই হয়ে গেল,
ঠিক আছে আমি নেমে যাব, এই রিক্সা থামাও এখানে,
রিক্সা থামাতে লাগলো,
রিক্সা থামাবে না মামা, থামালে কিন্তু তোমার খবর আছে, এই শোন্‌ নেমে যেতে হয় তো বাসার সামনে গিয়ে নেমে যাস এখানে নেমে যাবি কেন?
আমি নেমে যাব-
জিদ করবি না এই জায়গা ভালো না এখানে নামা যাবে না ।
আমি নেমে যাবোই তুই আমাকে বদের হাড়ি কেন বললি?
ওকে ওকে আমি সরি- লাফিয়ে পড়ে হাত পা ভাঙ্গিস না তাহলে তোর বাবা মায়ের কাছে আমি কী জবাব দেব?
ইস্‌ আসছে অভিভাবক ফলাতে- আমি নেমে যাবোই-
সরি—সরি বাবা — এই কান ধরলাম এইবার মাফ কর ।

চলবে…

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।