৪৫||
একটু বৃষ্টি কমতে ভাবি শশুর মশাই এলেন । মেয়ের মোবাইলে ফোন করে ডেকে পাঠালেন মলের ফটকের সামনে । এতক্ষন উৎকণ্ঠা চেপে রাখলেও , সন্দীপনের মাথা এবার যেন কেমন অসাড় হয়ে পড়ছে । সত্যবতীকে ডেকে তাই বললো ,
—- বাবার সাথে দেখা করে কি বলবো ?
সন্দীপনের প্রশ্নটা সত্যকে কিছুটা অবাক করে দিলেও , সে নিজেকে শান্ত রাখলো শুধু এই ভেবে যে প্রথম দেখা করার অভিজ্ঞতা সবার জন্যই সমান হয় । তারপর সন্দীপনের কাছে এগিয়ে গিয়ে তার দুটো হাত চেপে ধরে উত্তর দিল ,
—– নিজেকে সাধারণ রাখো । তুমি যেমন তাই থাকবে । ভয়ের কিছু নেই , আমি আছি তো ।
এই বলে তার হাতদুটো ধরে সে নেমে এলো মূল ফটকের সামনে , যেখানে বাবা ইতিমধ্যেই অপেক্ষমাণ ।
সাময়িক এই প্রশ্ন উত্তর পর্বর রেস যে একদিনে কাটবে না তা সন্দীপন বেশ ভালোই জানে , তবে সত্যবতীকে জীবনে স্থান দেওয়ার , নিজের শক্তি বানাবার যে অঙ্গিকার সন্দীপন মনে মনে করে ফেলে এগিয়ে চলেছে তাতে এমন পর্ব জীবনে প্রায়ই আসবে । আর এসব যেমন আসবে তেমন-ই সেগুলো ভুলেও যেতে হবে । ফোকাস হতে হবে শুধুমাত্র সত্যবতী — খাদ্য ভবনে দাঁড়িয়ে বলে চলা বিশ্বদীপ দা র কথাগুলো আজ বড়ই সত্যি বলে বুঝতে পারছে সে । আর তাই ভাবি শশুর মশাইয়ের সাথে গড়ে ওঠা সাময়িক কথাবার্তা ছেড়ে সত্যবতীতেই ফিরে এলো সে — প্রথমে গরম মোমোর দোকানে আর দিনের শেষে সিনেমার কর্নার সিটে খুঁজে নেওয়া ঠোঁট আর নরম বুকের উষ্ণ স্পর্শ ; যেন পৃথিবী বদলে দিয়েছে তার । সত্যের পূর্ণ সমর্থনে বাড়িয়ে দেওয়া দুটি ঠোঁটে জীবনের প্রথম চুমুতে যে নেশা পেয়েছিল , তা একবারে সীমাবদ্ধ তো হয়ইনি , বরং তিনতিন বারের ছোয়ায় ঠোঁটের সাথে হাত তার খুঁজে নিয়েছিল ব্লাউজের আড়াল ।