বড়দিনের গল্পে সোনালি

তিন বছর বয়েসের শীতকালে, চব্বিশে ডিসেম্বর, নার্সারি ওয়ানের রেজাল্ট আউট হল। আন্টিরা বললেন, ফার্স্ট হয়েছো।
সে দিন সন্ধ্যে বেলায় বাবা গলির মোড়ের সঞ্জীবদার দোকান থেকে খালি বিস্কুটের টিন নিয়ে এলেন। মা ইস্কুলে ভরতি হতেই স্টিলের পড়ার টেবিল কিনে দিয়েছিলেন,তিনটে ড্রয়ার ওয়ালা। তার ওপরটা সাদা টেবিল ক্লথ আর বিস্কুট টিনের ঝিরঝির সাদা কাগজ, সবুজ মারবেল পেপারের পাইন গাছে আশ্চর্য বরফের দেশ হয়ে উঠলো। আমি গোল গোল চোখে দেখলাম,সিগারেট বাক্সের সোনালি রুপালি রাংতারা ঘন্টা আর তারা হয়ে সাজিয়ে দিল ক্রিসমাস ট্রিকে। সে গাছের নিচে রাখা রইল পুপুর রিপোর্টকার্ড।
অনেক আদরের ওমে মুড়ে মা বললেন, “সুনু মা, ঘুমিয়ে পড়,জেগে থাকলে সান্টা বুড়ো আসবেন না।”
স্বপ্নিল ঘুম থেকে উঠে পরদিন দেখলাম, টেবিলে সোনালি ফিতের বো করা কেক,কত কমলালেবু, চিনি মাখা জেলি লজেঞ্চুসে রামধনু রং, আর দারুন মজার ছবি দেওয়া বই,”কানকাটা রাজার দেশ “। বাবা বল্লেন,”ভাবছ কি?আমরা কিনে দিয়েছি? খুলে দেখো।”
খুলে দেখলাম, সে আশ্চর্য লেখা। যেন ছোট ছোট তারা দিয়ে তৈরি অক্ষর। সান্টা ক্লসের ম্যাজিক।
তাতে যে আদর ঝরে পড়েছিল, তারি ছোঁয়া এখন ও আমাকে, আমার চারপাশের মানুষকে,আমার ছোট্ট ছেলে মেয়েকে আলোয় ভরিয়ে রেখেছে। সারা জীবন যখন যেখানে থাকি সেখানেই ওমনি করে ক্রিসমাস সাজাই আর বলি, “জয় হোক মানুষের, ওই নব জাতকের, ওই চির জীবিতের……”
Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!