ক্যাফে ধারাবাহিকে শিবদেব মিত্র (পর্ব – ৩)

রোজ ওঠে রোদ

অর্থাৎ আমাদের রোজকার গল্প

পৃষ্ঠাটা ছিঁড়ে গেছে, ডায়েরির পাতা থেকে। তবে লেখাটা পড়তে মন্দ লাগছেনা।

গণ্ডে যখন গোল করে, তখন তাকে গণ্ডগোল বলে। ভণ্ডে করলে, তাকে কি বলে, আমরা জানিনা! কিন্তু একরাশ ভণ্ড ষণ্ড সেজে যখন লণ্ডভণ্ড করছিল সেই প্রচণ্ডতার সাক্ষী হয়েছিলাম, আমরা!

পাগলেও বোঝে, ছাগলের কাঁধে লাঙল জুড়লে, চাষ হয়না ! ছাগল ও পাগল উভয়ই আবাদের কাজে অন্তরায়।

মহাত্মা দেহ রেখেছেন বটে! কিন্তু সেই বাদ আজও আমাদের বরবাদ করে চলছে! যত মত, পথও নাকি ঠিক তত!

তাই বিপথও… আমাদের মনে হয় পথ! সেই পথে গিয়েছ কি, তুমি জয়দ্রথ! কাটা যাবে মাথা! হাতে নেই ছাতা! তবু মাথা ভিজছে কই? বৃষ্টি আসছে বাইরে! তুমি ঘরে ঢোকাচ্ছ হাঁস, চৈ চৈ…! চৈ চৈ!

বরবাদ, চাষাবাদ। আশাবাদ, পুরো ফাঁদ। আমি হাসি, তুই কাঁদ! কিংবা আমি কাঁদি, তুই হাস! কেটে নেওয়া মেপে বাঁশ! প্রশ্বাস নিশ্বাস! সব মিলে হাঁসফাঁস! কেটে গেলে, বেটে দেব। ফেটে গেলে… জেনো! ভুল করে ঐ গুলি খেয়োনা কক্ষনো!

সবকিছু ভুলভাল! হোক বাওয়াল, হোক সওয়াল…! কুছ কালা, দুরে পালা! পাখি বসা মরা ডাল…! আমার ভয়, তোমার নয়। যদি বা হয়, হোক না জয়! এটাই ট্রেণ্ড – সবাই ফ্রেণ্ড! আসলে কেউই কারোর নয়!

হাতে কাঠি! সমঝে থাকি! সবারই পিছন সবার দিকে। উস্কে দিলে আগুন ওঠে! কখনও উনুন ফুঁয়েও জ্বলে! যেসব আগুন ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকে ছাইয়ের মাঝে!

আমরা সে সব খোঁজ রাখিনা !

আজও…

পাগল যদিও ছাগল হয়নি কখনও! কিন্তু তা বলে ছাগল পাগল হবেনা কেন?

জুড়লে লাঙল তাতে! অজুহাতে…

২৭ ডিসেম্বর ২২। নিচে তারিখ লেখা। এটা কি? অনুচ্ছেদ, প্রবন্ধ, কবিতা না প্রহসন কি বলে আমি জানিনা। কত কি জানিনা আমি! কত না জানা ঘিরে আছে!

মাস্টার গল্প করছিল একদিন! জানো, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনে কত দুঃখ বহন করেছেন!

তের বছর বয়সে মাতৃহারা হন। তাঁর বিয়ের রাতে ভগ্নিপতি মারা যান। চারমাস পরে আত্মহত্যা করেন যার প্রেরণা ও ভালোবাসায় তিনি কবি হয়ে উঠেছেন, সেই নতুন বৌঠান কাদম্বরী দেবী। ১৯০২ কবিপত্নী মৃণালিনী দেবী ২৯ বছর বয়সে মারা গেলেন l রবীন্দ্রনাথ তখন একচল্লিশ। দুই মেয়ের বিয়ের সময় শর্ত অনুযায়ী জামাইদের বিলেতে ব্যারিস্টারি ও ডাক্তারি পড়াতে বিলেত পাঠালেন। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই রেনুকা অসুস্থ হয়ে পড়লেন। বাঁচানো গেলনা তাঁকে। ১৯০৫-এ চলে গেলেন পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। ১৯০৭ কনিষ্ঠ পুত্রের (১২ বছরের) কলেরায় মৃত্যু হল।

১৯১৩ রবীন্দ্রনাথ নোবেল পেলেন l

১৯১৮ বড়মেয়ে বেলা অসুস্থ, বেলাকে প্রতিদিন গাড়িতে করে দেখতে যেতেন কবি। বাবার হাত ধরে মেয়ে বসে থাকত বিছানায়। আর তখন রবীন্দ্রনাথের জামাই শরৎ টেবিলের ওপর পা তুলে সিগারেট খেতে খেতে রবীন্দ্রনাথকে ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপ করতেন। একদিন বেলাকে দেখতে গিয়ে মাঝপথে শুনলেন সে মারা গেছে। মেয়েকে শেষ দেখা না দেখে ফিরে এলেন বাড়ি। পুত্র রথীন্দ্রনাথ লিখেছেন বাড়িতে এসে তিনি কাউকে বুঝতে দিলেন না কি শোকে, কি অপমানে, কি অসহ্য বেদনার মধ্য দিয়ে তিনি সন্তানকে হারিয়েছেন। কবির ছোটমেয়ে মীরার বিয়ে দিয়েছিলেন নগেন্দ্রনাথের সঙ্গে যাকে বিলাতে কৃষিবিজ্ঞানী করার জন্য প্রতিমাসে সেইসময় পাঁচশ টাকা করে পাঠাতেন, আর নগেন্দ্র চিঠি লিখে আরও টাকা পাঠানোর তাগাদা দিতেন। প্রত্যুত্তরে কবি লিখতেন, আমার জমিদারী থেকে প্রতিমাসে পাঁচশ টাকাই পাই, তার পুরোটাই তোমাকে পাঠাই। সেই নগেন্দ্র বিলাত থেকে ফিরে দুই সন্তান সহ মীরাকে পরিত্যাগ করে অন্যত্র চলে যান। কবির তিন জামাই যাদের প্রত্যেককে বিদেশে পড়িয়ে তিনি প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তারা প্রত্যেকেই কোন না কোন ভাবে কবিকে দুঃখ দিয়েছেন। সারাজীবনে কবি দুঃখ পেয়েছেন বারেবারে, অপমানিত-উপেক্ষিতও হয়েছেন অসংখ্যবার।

আর্জেন্টিনার কবিপ্রেমী লেখিকা ভিক্টোরিয়া ওকাম্পর সাথে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে কুৎসা করে সংবাদপত্রও প্রকাশিত হয়েছে। কবির তখন ৬৪ বছর ,নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশ্ববরেণ্য সাহিত্যিক তিনি! কবির নোবেল প্রাপ্তি নিয়েও কিছু লোক তাঁকে ব্যাঙ্গ করেছিলেন। চিঠি লিখে কবির কাছে জানতে চাইছেন নোবেল পুরস্কার পাওয়ার টেকনিক, সেক্ষেত্রে ভাবী পুরস্কারপ্রাপক কবিকে অর্ধেক টাকা দিতেও রাজি। শান্তিনিকেতনে সাক্ষাৎ করতে এসে কেউ কবিকে বলছেন, রবিবাবু আপনি কি এখনো কবিতা-টবিতা লেখেন নাকি? মানে অতোগুলো টাকা পাওয়ার পর আবার কেউ লেখে নাকি! অথচ অনেকেই জানেননা, নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তির খবরটা প্রশান্তচন্দ্র মহলনাবিশ যখন কবিকে দেন তখন কবির প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল, ‘ যাক, ওই টাকায় এবার বিশ্বভারতীর সেচখাল কাটার সংস্থানটা হবে’। যারা কবি বা লেখক তারা সকলেই সমাজের কাছে একটা স্বীকৃতি চায়, রবীন্দ্রনাথ বহুদিন সেটা বাঙালি সমাজের কাছে পাননি। তাই নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর তাঁকে যখন সম্বর্ধনা দেওয়া হলো তখন তিনি বললেন, ‘আমি এই সম্মানের পাত্রকে ওষ্ঠ পর্যন্ত তুলব কিন্তু গলা পর্যন্ত যেতে দেবনা’। কতবড় অভিমান ও দুঃখ থাকলে এ কথা বলা যায়!

সেই রবীন্দ্রনাথ নিজেই বলেছেন, ‘পৃথিবীতে এসে যে ব্যক্তি দুঃখ পেলনা, সে লোক ঈশ্বরের কাছ থেকে সব পাওয়া পেলনা’। বারেবারে মৃত্যু-দুঃখ-অপমান রবীন্দ্রনাথকে শাণিত করেছে সৃষ্টিপথে, নির্মোহ করেছে জগৎসংসারে, নস্টালজিক করেছে ক্ষণেক্ষণে। তাই তিনি বলতে পেরেছেন, ‘ আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে। তবুও শান্তি, তবুও আনন্দ, তবুও অনন্ত জাগে’। আমরাও যেন সদা তাঁর সুরে সুর মিলিয়ে বলতে পারি, “ মনেরে আজ কহ যে/ ভালো মন্দ যাহাই আসুক/ সত্যরে লও সহজে”।

পশ্চিম মেদিনীপুরের ঝাড়েশ্বর মন্দিরে শিবের ব্রত পালন করলে নাকি কঠিন রোগ থেকে মুক্তি মেলে! এমনই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

খবরে প্রকাশ – পশ্চিম মেদিনীপুরের আনন্দপুরের কানাশোল গ্রামে রয়েছে ৩৫০ বছরের প্রাচীন ঝাড়েশ্বর শিব মন্দির। যার ঠিক পাশেই রয়েছে ১৪ একরের বিশাল দিঘি। যে দিঘিতে ডুব দিয়ে সেখান থেকে ঘটে জল ভরে শিবের মাথায় ঢালেন ভক্তরা।কথিত আছে, যে জায়গায় আজকে মন্দির, আগে সেখানে ছিল জঙ্গল ও বটগাছ। তারই নীচে শিবলিঙ্গটি। একটি কৃষগাভী সেই শিবলিঙ্গের ওপর প্রতিনিধি নিজের থেকে গিয়ে দুধ ঢেলে আসত। এক রাখাল বালক এই দৃশ্য দেখে ফেলেছিল। যেদিন রাখাল বালক ওই দৃশ্য দেখে ফেলে, সেদিন রাতেই স্বপ্ন দেখেন গাভীর মালিক, ব্রাহ্মণভূমের রাজা আলালনাথ দেব ও আড়িয়াদহের পুরোহিত শীতলানন্দ মিশ্র। কৃষ্ণগাভীটি যে জায়গায় দুধ দিত, সেখানেই মাটি খুঁড়ে উদ্ধার হয় অনাদি শিবলিঙ্গ।বর্তমানে এই মন্দিরের দায়ভার রয়েছে আনন্দপুরের মিশ্র পরিবারের হাতে। মন্দির কমিটির অন্যতম সদস্য তরুণ কারক জানান, প্রায় তিন শতাধিক বছরের পুরনো এই ঝাড়েশ্বর জিউর মন্দির। মাঝে একবারই মন্দির সংস্কার করে নতুন রং করা হয়েছে। তবে এই মন্দিরকে কেন্দ্র করে নানা কথা শোনা যায় এলাকার মানুষের কাছে। কেউ কেউ বলে এই মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়েছিল অসুরের দ্বারা। আবার কারও মুখে শোনা যায়, ৩০০ বছর আগে দেব পরিবারের দ্বারা প্রতিষ্ঠা লাভ করে ঝাড়েশ্বর জিউর মন্দির। মন্দিরে আগত ভক্তরা জানায়, দীর্ঘ চল্লিশ বছর বৈবাহিক জীবনে সন্তান না হওয়ায় এই মন্দিরে মান্নত করলে পুত্র সন্তান লাভ হয়। অনেকের বিশ্বাস এই মন্দিরের পুকুরে স্নান করলে নানা রোগ জ্বালা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। বিশ্বাস বা মান্যতা যাই হোক, প্রাচীন মন্দিরের বাৎসরিক উৎসবে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম আজও বর্তমান।১৬২৯ খ্রিষ্টাব্দে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণা চতুর্দশী তিথিতে এই শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করা হয়। নাম দেওয়া হয় ঝড়েশ্বর শিব। ভক্তদের দাবি, এই মন্দিরে শিবের ব্রত পালন করলে কঠিন রোগ থেকে মুক্তি মেলে। সন্তানহীনা মায়ের কোলে সন্তান আসে। আর, এই সব কারণে শুধু পশ্চিম মেদিনীপুর নয় রাজ্যের বিভিন্ন জেলার ভক্তরা ঝাড়েশ্বর শিবের মাথায় জল ঢালতে আসেন।পরবর্তী সময়ে এই মন্দির চারবার সংস্কার করা হয়। প্রথমবার সংস্কার করা হয় ১৮৩৪ খ্রিস্টাব্দে। তার পর সংস্কার করা হয় ১৯৩০, ১৯৬০ ও ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে। ১৮৩৪ খ্রিষ্টাব্দে নাড়াজোলের রাজা অযোধ্যা রাম খানের দেওয়ান রামনারায়ণ জানা ঝড়েশ্বর দেবের কাছে মানত করেছিলেন। আর, তারপরই তিনি কঠিন শূল রোগ থেকে সেরে ওঠেন। এই ঘটনার পর এই মন্দিরের খ্যাতি আরও ছড়িয়ে পড়ে। ৬৭ ফুট উঁচু এই মন্দিরের পাশের বিশাল দিঘিটি খনন করে দিয়েছিলেন রাজা আলালনাথ দেব। সেই কারণে এই দিঘি আলাল দিঘি নামেও পরিচিত।

সেই অর্থে – আমি গরু নয়! কারণ অতিচালাকের গলায় দড়ি… থাকে! আমার নেই। তবে বলা যায়না, চালাকি করে কোনোদিন গলায় দড়ি দিয়ে বসব কি না?
সত্যি বলতে কি – এসব আর ভালো লাগেনা…!

এক ক্ষত্রিয় জন্ম! বোধহয় বুঝি তাই ! এক বুঁদিগড় জগাই সাজে, সারাটা দিন ছায়ার সাথে যুদ্ধ করেই কাটাই।

জানি, যুদ্ধ কখনও শান্তির জন্য না! দিন পাল্টায়, ফলে রং ধরে! ধারণারাও বদলে নেয় ধারা! আমরাও বুঝে নিই – যুদ্ধই শান্তি! যুদ্ধেই ভালো থাকি আমরা!

বুঝে গেছি বেশ! যেন চুড়ান্ত ভাগশেষ! সিঁড়ি ভেঙে এঁকে রাখা তীরে…! জীবন অস্থির এক লেলিহান শিখা! যেন সংগ্রামে টিকে থাকা, ছায়া যুদ্ধ করে!

ক্রমশ…

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।