সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে সোনালি (পর্ব – ৮০)

রেকারিং ডেসিমাল
গুজরাটের মেয়ে লীলা ও তেমনি রাজকীয় সৌন্দর্যের আলো ছড়িয়ে আসত। গাঢ় শ্যামল গায়ের রঙ। দীঘল বেণির সাথে রূপোর কাঁটায় ফুল ও থাকত কখনো বা। শাড়ির বাঁকে, চলার ছন্দে, কথা বলার সঙ্গে হাতের আঙুলের নাড়াচাড়ায়, যেমন নাটকীয়তা তেমনি আভিজাত্য।
আর এত রঙীন!!
ছাপা বান্ধনি জামায়, রাজস্থানি কায়দার শাড়িতে, হাতের কাঁচের চুড়ির ঠিনঠিনে, পায়ের রূপোর পায়েলের ছমছমে, একেবারে রামধনু।
কি ঝকঝকে হাসি কালো মেয়ের সাজানো সাদা দাঁতে। কি দরাজ গলার অসংকোচ ডাক।
নিজের আত্মসম্মান বজায় রেখে ও কত ভালো সেলসপার্সন হওয়া যায় তার জ্বলন্ত উদাহরণ ছিল এই মেয়ে।
আমি খুব খুঁটিনাটি মুগ্ধ হয়ে দেখতাম।
কি রকম নাচের ছন্দের মত মাথার জিনিস, কাঁখের ভারি পোঁটলা নামায়। নাটকে শেখানো রানির ভঙ্গিতে হাঁটুর ওপর লম্বা হাতখানা রেখে বসে। অপূর্ব।
সে যে কত কিছু নিয়ে আসত।
কুশন কভার, বালিশের ওয়ার, বিছানার চাদর, সোফা কাভার, শাড়ি, ব্লাউজ পিস, আর চুড়িদার সেট।
আমরা তত দিনে সালোয়ার কামিজ থেকে চুড়িদারে প্রোমোশন পেয়েছি।
কলেজে হাসপাতালে লীলার চুড়িদার, এথনিক শিল্প হিসেবে পরে কী আল্লাদ!