সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে সোনালি (পর্ব – ৫০)

রেকারিং ডেসিমাল

এইবারে ফ্লো এসে গেছে বড়মাসির। গড়গড় করে বলে চললেন।
আররে, সে যুদ্ধের বাজারে কি মুশকিল।
জজ সাহেবকে সম্মান করে। ধরে নিয়ে যেতে ত তখনও চক্ষুলজ্জা। মুসলমান পুলিশ চিফ সব এক ক্লাবে চিরকাল একসাথে ওঠাবসা করেছে, খারাপ ব্যবহার করে কোন লজ্জায়। তারা জানানো, কিনা নজরবন্দী।
ঐ বাংলোতেই যেমন আছে থাকবে,  থানায় গিয়ে হাজিরা দিতে হবে খালি।
তা জজ সাহেব আর তাঁর বাড়ির বৌ মেয়েরা কেউ আর থানায় যেত না।
আর্দালি পিওন খাতা নিয়ে আসত থানা থেকে।  এসে সই করিয়ে নিয়ে যেত।
পুলিশ অফিসারদের লম্বা লম্বা ফরেন কার সব, আমরা দোতলার বারান্দা করেছি ঝুঁকে ঝুঁকে দেখতাম।
এবারে অনেক কাণ্ড করে ওদিকে একটু ঝামেলা কমতে ত খুকু আর তার ছেলে নিয়ে কলকাতা আসব বলে রেডি হলাম।
আমিই দ্বায়িত্ব নিছি।
খবর দিতে ত সেই, রাশিয়ায় আমার বর ব্যানার্জি মশাই ভরসা।
আবার চিঠি গেল রাশিয়া। সেইখানের থেকে কলকাতার মানুষ খবর জানল আসার তারিখ।
এবার চট্টগ্রাম থেকে ছোট এয়ারোপ্লেন ধরে ঢাকা। সেখান থেকে আরেকটা প্লেন বর্ডারের কাছাকাছি। আবার ট্রেনে কাস্টমস চেক পার হয়ে বনগাঁ বর্ডার পেরিয়ে দেশে ঢোকা। সেইখান থেকে ট্রেন ধরে বালিগঞ্জ।
ছোট্ট বাচ্ছা সাথে নিয়ে সে যে কি কাণ্ড করে এলাম, সে আর কি বলি।
যে দিন আসব লিখেছি তার থেকে দু তিন দিন পরে এসে পৌঁছেছিলাম।
আমার দেওরের গাড়ি ছিল তখন। যাদবপুরের বাড়ি থেকে রোজ এরা গাড়ি নিয়ে গিয়ে ওই ট্রেনের সময় স্টেশনে বসে থাকছিল দুই তিন দিন ধরেই।
তখন ত এত ফোন ছিল না সোনা।
তা যাই হোক, নেমে আমরা হা পিত্যেস করতে করতেই দেখি বাড়ির ছেলেরা এসে উপস্থিত।
ধড়ে প্রাণ এল এদের দেখে।
তাড়াতাড়ি আমাদের নিয়ে আগে যাদবপুরের বাড়ি।
সেখানে একটু নেয়ে ধুয়ে শান্তি হয়ে, আমি আবার গাড়ি নিয়ে দেওরকে বললাম, চলো ওদের বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসি।
এসে এবাড়ির বউ বাচ্ছা জায়গা মত জমা দিয়ে শান্তি হল।
এই জন্যই তোমায় বললাম তব,যে আমি হলাম কুমারের মামা,  তার মাসি নই বুঝলে।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।