T3 || আমার উমা || বিশেষ সংখ্যায় সুদেষ্ণা মৈত্র

*ক্ষণ*
আমার অসংখ্য প্লাবন ভেঙে
এই তো ছুঁয়ে গেল অনুগত ঢেউ
শান্ত সুশীতল মুখে থেমে থাকছে হাওয়া
এই ক্ষণে হাত পেতে বসে থাকা নেই।
নিশ্চুপ জলের গায়ে চুপচাপ কান পেতে
নিজের বুকের শব্দ শিখি
খুঁজে পাই কোথায় পাথর।
*কোজাগরী*
হাড় বিছিয়ে কাটিয়ে দিচ্ছি রোজ
এভাবেই কত সামান্য হয়ে ওঠে যন্ত্রণা,
ঘৃণার বিবাদ
আমাকে পেরিয়ে গেলে সূর্যময়ী কাল
গন্ধে আতর যোগ হয়।
যেহেতু মৃতের মতো শুয়ে থাকতে নেই
আমি রোজ জেগে জেগে
আমার স্বপ্ন দেখি
স্বপ্ন দেখি হিম জানালার।
*ছায়াসৈনিক*
ছায়া ও ছিপ হাতে হাঁটছি যতদূর
কেউ কেউ ধরা পড়ে যায়
তখন বাঁধার খেলা শুরু
আমি থাকি দূরত্বে, তফাতে
ছায়া তার মাছটিকে নিজস্ব খিদের পথে ডাকে।
ছিপের সরল গতিপথ
আমিও তো কতবার নিজেকে আঘাত করে
আলো ছেড়ে যাই।
বিমূর্ত, ছায়াসৈনিক।
*অবসর*
শীর্ণ তালুর মতো আমাদের উষ্ণ-আয়োজন
তুমি এসে পাশে বসো, মনে হয় গড়ালো হৃদয়
উঠে গেলে মনে হয় বাড়ি ফেরা বেশি প্রয়োজন
অথচ সহস্রবার হাত মিলিয়েছি তালে তালে
কে কখন উঠে যাবে,
বুঝতে দিইনি কখনও
এখন যেটুকু তাপ জমে আছে বাতাসে বাতাসে
সে যথেষ্ট গল্প বলার এ বিকেলে।
*মাপকাঠি*
হিজলের মতো ছেয়ে আছি
জলের সমস্ত স্পর্শ ছায়া হয়ে দূরত্ব বাড়ায়
তবুও নদীর কাছে থাকার সুযোগ
ভিজে হাওয়া, নোনাজল
আমাকেও জীবন্ত দেখায়।
গাছের অবর্তমানে ঝুঁকে থাকাটুকু
আমার ছায়ার মাপকাঠি।