একটা ছোট ছেলে, ছোটই, আমার থেকে ত বটেই, বাকি চারপাশের সাহিত্য জগতের জ্ঞানী মানুষের মাঝেও ছোটই।
সেই ছেলেটিই, আমায়, আসুন আসুন বলে ডেকে নিয়েছিল বাংলা একাডেমির মঞ্চে প্রথম বার নিজের লেখা পড়তে।
এমন অমায়িক ভাবে, যেন সে আমায় কত দিন থেকে চেনে। ঠিক আমার পাড়ার ছোটরা যাদের নিয়ে চিরকাল ফাংশন করতাম রবীন্দ্রজয়ন্তীতে, বা দুর্গা পুজোর সময় মাচা বেঁধে, তাদের মতই। একেবারে একান্ত আপন।
পরে তথ্যসংস্কৃতি বিভাগের ফোন পেয়ে যখন ভয়ে ভয়ে চেম্বার সেরে দেরি করে এক দিন পৌঁছে গেলাম কবিতা একাডেমির অফিসে, কি আশ্বস্ত লেগেছিল চেনা মুখটা দেখে।
বলেছিল ওর নাম সৌরভ। বড়রা আদর করে চন্দ্র বলেন, কিন্তু আসলে ও সৌরভ মুখার্জি।
সে দিন কবিতা উৎসবের খাতায় নাম ধাম ইত্যাদি লেখায় সৌরভই সাহায্য করেছিল।
শ্রী সুবোধ সরকার বা শ্রীমতী চৈতালী চট্টোপাধ্যায়ের মত অগ্রজ সাহিত্যিকদের সামনে সেই প্রথম সামনাসামনি অনেক ভুলচুক করতাম নইলে অতি অবশ্যই।
সেই থেকে কত অনুষ্ঠানে, কত অক্ষর উৎসবে কত আনন্দ উচ্ছ্বাসে মঞ্চের পাশে অতি অবশ্যই সৌরভ।
সঞ্চালনায়, আয়োজনে, মানুষকে সামলানোয়, আবার আপ্যায়নেও, সেই সৌরভ।
সেই ভাবেই রুগীদের ও সামলাচ্ছিলো।
যতই বলি, ভাই এটা কোভিড, এ ভাবে চললে ছোঁয়াচ এড়ানো যায় না, সাবধান হও।
শুনলো না।
এর দরকার, ওর দরকার, অনুষ্ঠান। মানুষের কষ্ট।
এমনি করেই পৌঁছে গেল হাসপাতালে।
আর চলে গেল হঠাৎ।
এত ছোট ভাই চলে গেলে দিদিদের বিশেষ কিছু আর বলার থাকে না।
শুধু ছবিগুলো থেকে যায়।
গলাটা কানে বাজে।