Poem In Other Language By সুজিত কুমার দাস

শুধু অনুভবে
আজ বাহানন বছরে পড়লাম,আজ থেকে
ত্রিশ বছর আগে —তুমি ছিলে আমার ‘,
নিতান্ত আমার কাছের মানুষ। যাকে তুমি
একমুহূর্ত না দেখলে, আনচান
করে উঠতো তোমার মন শরীরী।
আমিও ঘনঘন তোমার ব্যাকুল মনের
স্পন্দনকে উপলব্ধি করতাম।
আমার ডাগর দুটি চোখ অপেক্ষা করে থাকত।
তুমি কখন আসবে সেই প্রতিক্ষায়।
তখন কোন দিন ভাবতে পারিনি
তুমি আমি এতো তফাৎ হোয়ে যাব —
ভাবতে পারিনি,জীবনের প্রতিটি ক্ষণ,
একটু একটু ক’রে তোমাকে ভুলিয়ে দেবে।
তুমি হারিয়ে যাবে, আসলে তুমি নও —
তোমার মন।
আমাকে খুঁজে বেড়ায় আজও,
শুধুকি তুমি একা? আমিও কি
খুঁজে মরি না তোমাকে?
মনেপড়ে সে সব দিনের কথা? তুমি তখন
কতটুকুই বা, কুঁচযুগ শোভীত হয়নি—
তখনো তোমার। অঙ্গে অঙ্গে সবে দক্ষীনা বাতাসের নরম স্পর্শ হিল্লোলিত করছে
তোমার মন।
আমিও পাগল যুবা। দু’চোখে স্বপ্ন ছায়া
খুঁজে বেড়াই তোমাকে —ভালোবাসার উজান টানে তুমি বেরিয়ে এলে হঠাৎ, আমি হতবাক –নিষ্পলোক অবিশ্বাস্য মনে হ’ল তোমাকে তখন।
তুমি মৃদু হেসে বললে –কেমন আছো?
অনেক দিন দেখিনি তোমায়।
আমি বললাম —ভালো আছি—তুমি?
এই প্রথম কথা হলো —তোমার আমার
তারপর কতদিন কত কত মাস,
কয়েকটা বছর কেটে গেলো —-আমাদের।
একই বৃন্তে দুটি ফুল যেমন বেড়ে ওঠে,
ঠিক তেমনি আমরা অঙ্গাঙ্গি বড় হতে লাগলাম
আমাদের কৈশোর পেরিয়ে যৌবন এলো একদিন
আমরা হারিয়ে গেলাম, উভয়ে উভয়ের মধ্যে
-মনে পড়ে? তোমাদের নারকেল গাছটার কথা
পুকুরের পুবদিকে তোমাদের টালির ঘর
ভাঙা কেচার ব্যারার পাশে নারকেল —
গাছটার যৌবন আসেনি তখনো। অনেকটা
তোমারই মত —লাজুক লাজুক, যেন দু’চোখ
মেলে তাকিয়ে থাকতো আমাদের দিকে।
আমাদের ভালোবাসার স্বাক্ষ্মী সেই গাছটা
আজ আর নেই । তাকে উপড়ে ফেলেছে —
তোমাদেরই কেউ। যেমন তুমি নেই আমার
টালির চাল নিশ্চিহ্ন হয়ে —সেখানে উঠেছে
অট্টালিকা। ঠিক তোমারই মত, তুমি আজ
সেই রকম অট্টালিকার মধেই আছো
মক্ষ্মীরানী হয়ে।
আজ তোমার জীবন পাল্টেছে—অনেক
বড় হয়েছো তুমি—
যেখানে গিয়ে আমি আর তোমাকে ছুঁতে
পারবো না। যেখানে আমি আর নিজের
মত ভাবতে পারবো না তোমাকে —কোন দিন।
একদিন দেখলাম তুমি সত্যি সত্যি হারিয়ে
গেছো আমার জীবন থেকে।
বৃন্তথেকে একটা ফুল
হঠাৎ কেমন যেন শুকিয়ে গেলো। আমি একা
নিঃসঙ্গ খুঁজে বেরিয়েছি তোমাকে —অনেক।
কিন্তু তোমার ঠিকানা আমার কাছথেকে
অনেক দূরে—হাত বাড়িয়ে যেখান থেকে
ধরে আনা যায়? — না তাও যায় না।
কারণ আমি জানি,
নুন জলে মিশে যায় —তেল জলে মেশে না।
এতো হ’লো তোমার প্রথম কথা, কিন্তু কবে
প্রথম দেখা —মনে আছে তোমার?
সদ্য চাঁপা ফুলের মত গন্ধ ছড়িয়ে —তুমি
মুগ্ধ করেছিলে —আমার মন প্রাণ দেহ।
তোমার মুখের পারিছন্ন সেই চাপাফুলের
হাসি —আমার হৃদয়কে আহবান করেছিল
এসো প্রিয়, তোমার জন্যই আমি —
আর আমার জন্যেই তুমি।
শুধু দুজনে দুজনার দিকে চেয়ে সময় সড়েছে
অনেকক্ষণ —পূর্ণিমা জ্যোৎস্না স্নিগ্ধ রাতে
সেদিনই তোমাকে আবিষ্কার করেছিলাম,
নৃসিংহ মহারাজ নাটকের পুণ্য মুহূর্তে—
সে অনেক দিন গত হয়তো বা মনে নেই তোমার,
চাপাফুলের সুগন্ধ, তোমার মিষ্টি সে চাউনি
কুঞ্চিত কেশ, পাগল করেছিল আমায়
একদন্ড চোখের দর্শনে।
তারপর —তোমাতে আমাতে কত চাওয়া
পাওয়ার খেলায় মেতেছি আমরা।
তুমি কতবার, কতঅছিলায় এসেছো
আমাদের বাড়ি। সাধারণ আটপৌরে
জীবনের মনটাকে নিয়ে তুমি আর আমি
কত প্রেম প্রেম খেলে জিতেনিয়েছি দুনিয়াটাকে
তুমি আমার আর আমি তোমার
এ চিরন্তন সত্য কথাটা কিন্তু আজও
আমরা অস্বীকার করতে পারবো না কেউ।
আচ্ছা তুমি পারবে? কোনোদিন আমায়
অস্বীকার করতে? অথবা আমি?
না,তা কি করে সম্ভব? তাই যদি পারতে
তবে আজও কেন অতীতকে কাছে টেনে
নানা কাজের মধ্যেও তোমার মন—
কেন আমাকে খুঁজে বেড়ায়?
কেনই বা নানা আছিলায় তোমার আপনজন
আমাকে জানতে চায় —বুঝতে চায়, বলতে চায়
তোমার বর্তমান —আমি তখন হারিয়ে ফেলি
তোমার সান্নিধ্যনিজেকে ক্ষনিকের জন্য অতীতকে খুঁজে পেতে।
তোমার ডাকে সাড়া দিতে চায় মন,
ছুটে যেতে চায় আমার ব্যাকুল হৃদয়
তোমার সান্নিধ্যপেতে —কিন্তু পরোমুহূর্তেই
আমার জীবন চেতন —প্রতিবাদ করে ওঠে
না—এখন তুমি শুধুই অতীত।
মহাকাল অতীতকে হরণ করে নিয়েছে।
আমি হারিয়ে গেছি তোমার জীবনথেকে
আর আমার জীবন থেকে তুমি।
তবু বিশ্বাস করো, মিথ্যে বলবো না—
আজও তোমায় আমি ভালোবাসি, তোমার
প্রতিটি লোমকূপে,আমার আশা নিরাশার
স্নেহ-ভালোবাসা গুলো ঘুরে বেড়ায় রাতের
অন্ধকারে, তোমার অচেতন মনের চারপাশে।
আর তুমি আমার সাড়া জীবনের সঙ্গী হ’য়ে
আজও পথ দেখাও, সেই পথ, যে পথে—
তুমি ও আমি দু’জনেই আছি -অতীতেও
ছিলাম, বর্তমানেও থাকবো তোমারই পাশে—
শুধু অনুভবে।