সাপ্তাহিক কোয়ার্ক ধারাবাহিক উপন্যাসে সুশোভন কাঞ্জিলাল (পর্ব – ৭৮)

আটাত্তর

ডাক্তার অনেক্ষন ধরে লুলিয়াকে চেক আপ করলেন । এই ডাক্তারের বিদ্যা কতখানি বা চিকিৎসা কেমন করে জানিনা ।আমার বাড়িতে কোনোদিন ডাকিনি । তবে পাড়ার লোকের মুখে নামটা শুনেছি । আসলে প্রত্যেক পাড়ায় যেমন একটা করে ডাক্তার থাকে, ডাক্তার খানও সেরমই একজন । আবার যেমন থাকে মদনের চায়ের দোকান, শঙ্করের সেলুন, বাণী টেলার তেমনই আরকি ডাকরার খান এই পাড়াতেই থাকেন ।পাড়ার লোকের বিপদে আপদে ওনার কাছেই যায় প্রথমে । মানে শ্রেয়ানের ভাষায় ফাস্ট এড ডাক্তার । ডাক্তার খান লুলিয়াকে দেখে বললেন ওর শ্বাস কষ্ট হচ্ছে । প্রেসারটাও বেশ বেড়েছে । আমি ইনজেকশন দিচ্ছি ভালো ঘুম হবে আর শ্বাসকষ্টটাও কমবে আশা করি । বলে একটা প্রেসক্রিপশন লিখে বাল্মীকির হাতে দিছিলেন । আমি বাল্মীকিকে এখন আর ভরসা করি না । তাই আমি প্রেসক্রিপশন নিয়ে পাড়ার দোকানে গিয়ে । ওষুধ আর ইনজেকশন এবং সিরিঞ্জ নিয়ে এলাম । ডাক্তার খান লুলিয়াকে ইনজেকশন পুশ করে যাওয়ার আগে বলে গেলেন যেন রোগীকে বিরক্ত করা না হয়ে । ও এখন অনেক্ষন ঘুমোবে । এখন বাজে সারে আটটা । তারমানে লুলিয়াকেতো আমার বাড়ি থাকতে হবে রাতে । এ আরেক উটকো ঝামেলায় জড়ালাম । আমি বাইরের ঘরে বসে বাল্মীকিকে ডাকলাম ।বললাম যে, “আমাদের দুজনের মানে আমার আর পুনিতের খাবার টেবিলে ঢাকা দিয়ে রেখে দিয়ে তুমি তোমার মতো খেয়ে শুয়ে পড়বে । আমরা নিজেদের মতো নিয়ে খেয়ে নেবো “। ও মাথা নেড়ে কিচেনে সব ব্যবস্থা করতে গেল । আমার এখন পুনিতের জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া আর উপায় নেই । আমার একটু শুতে ইচ্ছে করছে । কিন্তু আমার খাটে তো লুলিয়া শুয়ে । ওই ঘরে তো আমার আর শোয়ার উপায় নেই । যাই শ্রেয়ানের ঘরে গিয়ে একটু গড়িয়ে নি ।
শ্রেয়ানের বিছানায় শুয়ে সিলিং এর দিকে তাকিয়ে আকাশ পাতাল ভাবছিলাম । চোখটা ঘুরতে ঘুরতে কাঁচের আলমারিটার ওপর পড়ল। আলমারিটা আমারই সেকেন্ডহ্যান্ড কেনা । শ্রেয়ানকে ব্যবহার করতে দিয়েছি । আলমারিটার ভেতরে একটা গ্রুপ ছবির দিকে নজর গেল । শ্রেয়ানের ছোটবেলার ছবি মা ও বাবার সঙ্গে । ও বাবার কোলে । কিন্তু আমার ছবিতে চোখটা আটকে গেল অন্য কারণে । ওর মায়ের মুখটা বেশ চেনা লাগছে। শ্রেয়নের মুখের আমূল পরিবর্তন হলেও বোঝা যায় ওটা শ্রেয়নেরি ছবি । শ্রেয়ানকে দেখতে ওর বাবার সঙ্গে মিল বেশি । মায়ের মুখটা এতো চেনা চেনা লাগছে কেন? খাট থেকে উঠে আলমারির কাছে গিয়ে দেখলাম কোথায় যেন দেখেছি ভদ্রমহিলাকে । উঃ এই এক অস্বস্তি । চিনি চিনি কিন্তু চিনিনা । আলমারিটা খুললাম । শ্রেয়ান কেয়ারলেস তালা টালা দেওয়া ওর ধাতে নেই । ফটোটা বেরকরে হাতে নিয়ে দেখলাম । ফটো ফ্রেমটা মীনা করা । বোধহয় হাতির দাঁতের । একেবারে শ্রেয়ানের মাকে কাছে থেকেও দেখে বুঝতেপারছিনা কোথায় দেখেছি । আলমারিটা খোলায় দেখতে পেলাম । আলমারির সব তাক ব্যবহার করেনি । একটা তাকে গাদা জামা কাপড় ।
একটা তাকে কাগজ পত্র, বই, আর কিছু ফাইল, আর ওপরের তাকে এই ফটোটা এবং খুচরো কিছু জিনিস, যেমন রিস্ট ওয়াচ, কয়েকটা পেন, ছেঁড়া বোতাম, অম্বলের ওষুধ এসব । জিনিস গুলো নারা ছাড়া করতে গিয়ে একটা জিনিস দেখে চমকে উঠলাম । চারটে রিস্ট ওয়াচ এর মধ্যে এই রিস্ট ওয়াচ টা শ্রেয়ানের কাছে কি করে এলো? আমার মাথা ভোঁ ভোঁ করছে । খুব দ্রুত নানা চিন্তা মাথায় পাক খেয়ে চলেছে । যেটা ভাবছি তা যদি সত্যি হয়ে বাকি সব অঙ্ক তালে নতুন করে মেলাতে হবে । আবার এটা কাকতালীয় হতে পারে । কিন্তু আমাকে ঘিরে যা যা ঘটেছে এটাকে কাকতালীয় ভাবি কি করে? এর মধ্যেও রহস্য? শ্রেয়ানের আলমারিতে রাখ হামবার্গ ইউনিভার্সিটির এমবসড রিস্ট ওয়াচ যেটায় তার পচিশ বছরের সেলেব্রেশন এর কথা লেখা আছে ।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।