আমরা পেরেছি মাগো তোমাকে হারাতে,
পেরেছি সময়ের সাথে নিজেকে মানাতে।
আমরা পেরেছি তোমার স্নেহ ভরা হাত মাথায় নিতে,
আবার প্রয়োজন শেষে, স্পষ্ট ভাষায় তোমাকে জানাতে।
আমরা পেরেছি সুযোগ বুঝে নিতে তোমার দান,
স্বার্থ শেষে হটাৎ বেড়ে গেছে, আমাদের আত্মসম্মান।
আমরা পেরেছি অস্বীকার করতে তুমিই ছিলে সেরা,
আবেগ বশে শ্রেষ্ট বলেছি ক্ষণিক পাশে থেকেছে যারা।
আমরা পেরেছি কাজের নামে, দিতে অজস্র অজুহাত,
সহ্য তোমার ধর্ম জানি, তাই বারংবার দিয়েছি আঘাত।
আমরা পেরেছি তোমারই আশ্রয়ে, তোমায় আশ্রয়হীন করতে,
পাপ – পুণ্যের রেষারেষিতে পেরেছি তোমায় বৃদ্ধাশ্রমে রাখতে।
আমরা পেরেছি তোমাকে বোঝাতে, হেরে যাওয়াটা তোমার নিয়তি,
কথা দিয়েও রাখিনি কিছুই, যদিও ছিল মিথ্যা প্রতিশ্রুতি।
২। হায় রে মেয়ে!
কিসের এতো দম্ভ তোর?
মুখে বলিস তোরা নাকি স্বাধীন,
পরাধীনতার বেড়াজালে আজও পুরুষেরই অধীন।
ছন্নছাড়া জীবন তোর, নেই কোনো নিজের ঘর,
একলা হলে লোকে বলে কলসি বেঁধে ডুবে মর।
অদ্ভুত এই দুনিয়ায় তোরা ঘরের লক্ষী,
ঘর ছেড়ে বাইরে গেলে সে আবার বড় ঝক্কি।
সমাজ বলে, মেয়েমানুষের কিসের এত পড়াশুনা?
অসমতার অন্ধকারে থাকবেনা কোনো কামনা বাসনা।
মেয়ে হওয়ার অপরাধে দেখেনা কেউ মুখ,
ছেলে হলে তবেই মেলে পরিবারের সুখ।
হায়রে মেয়ে!
কিসের এতো দম্ভ তোর?
লোভ লালসার কোপে,
কেটে গেলো জীবন ভোর।
তোরা তো মেয়ে, মানুষ তো নোস,
বাঁধা দিলে নষ্টা আর মেনে নিলে ভ্রষ্টা হোস।
তোরা বলিস এই শরীরটা তোর নিজের,
ধারণ করা শাঁখা – সিঁদুর পদবী,
সেটা আবার অন্যের।
ভাগের তুই ভোগের তুই, যত দাবি তোকে নিয়ে,
শরীর ছাড়া মূল্যহীন, সুখ মিটবে তোকে দিয়েই।