দুজন লোকের মধ্যে একজনের কাঁধে ছিল একটি ব্যাগ । সেটা থেকে নানা ধরণের জিনিস বের করলো লোকটা । তার মধ্যে একটাকে মনে হল মেটাল ডিটেক্টর ।বাড়ির বিভিন্ন অংশে আনাচে কানাচে সেটা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে কি যে খুঁজছে । আর একজন হাতে একটা ল্যাপটপের মতো ডিসপ্লে স্ক্রিনে কি যেন দেখছে । বসার ঘরের দুই জায়গায় ওরা বোধহয় কিছু খুঁজে পেল । তারপর একে একে শ্রেয়ান এবং আমার শোওয়ার ঘরে ঢুকল তারা দুজন । আমি ড্রয়িংরুম থেকে আর কিছু দেখতে পেলাম না ।দুটো ঘরে মিনিট পাঁচেক সময় কাটিয়ে ওরা বেরিয়ে এলো । এবার কিচেনের কাছে গিয়ে দরজা ঠেলে দেখল দরজা ব্ন্ধ ।কিন্তু ওরা অদ্ভুত কৌশলে বার দুয়েক ধাক্কা দিয়ে দরজাটা ভেঙে ফেললো । কি খুঁজছে ওরা? Quarko নাকি? ওরা কে তার বোঝার উপায় নেই । কিচেন থেকে বাল্মীকিকে পাঁজাকোলা করে তুলে নিয়ে এল ওরা এবং সেইভাবেই বাল্মীকিকে নিয়ে দরজা খোলা রেখেই বাইরে বেরিয়ে গেল।
প্রায় আধঘন্টা পর পুনিত ফিরে এল। পুনীতকে দেখে আমি আস্বস্ত হলাম । কিন্তু অবাক কান্ড পুনিত আমার এই অবস্থা দেখেও বিন্দু মাত্র বিচলিত হল না । বরং ধীর সুস্থে আমার হাত পায়ের বাঁধন খুলে দিলো ।মুখের কাপড়টা খুলে আমি এক নিঃশ্বাসে সব কথা বলতে শুরু করলাম । পুনিত আমায় থামিয়ে বলল, “স্যার আপনি ব্যস্ত হবেননা । কি হয়েছে আমি সব জানি।”আবার আমার বিস্ময়ের পালা । বিস্ময়ে আমার মুখ দিয়ে কেবল বেরোল,”মানে?”পুনিত আমাকে আস্বস্ত করে বলল,”সব বলছি স্যার আগে বলুন আপনার বেডরুমে ওই মেয়েটি কে? আমি সংক্ষেপে বললাম,”মেয়েটি আমার পরিচিতা, এখানে এসে অসুস্থ্ হয়ে পড়েছে । ডাক্তারের পরামর্শে রেস্ট এ আছে । পুনিত এবার বলল,”রাত সাড়ে এগারোটা বাজে । খাবার দাবার কিছু আছে? খিদেয় পেট চো চো করছে “। আমি ওর স্বাভাবিক আচরণ দেখে কিছুই আন্দাজ করতে পারছিনা। তাহলে কি লোকদুটো পুনিতের পরিচিত? যাইহোক দুজনে খেতে বসলাম । খেতে খেতে পুনিত বলল,”লোকদুটো পুলিশেরি লোক। যে সব ঘটনা ঘটছে সব নাটক । শত্রু পক্ষকে চোখে ধুলো দেবার জন্য। যা হচ্ছে সব ম্যাডামের প্ল্যানমাফিক । ওরা আপনার বাড়ি থেকে চারটে স্পাই ক্যামেরা আর একটা সেলুলার জ্যামার পেয়েছে । আপনার মোবাইলের নেটওয়ার্ক বেশির ভাগ্ সময় বোধহয় ব্লক করে রাখা হত । যতক্ষণ বাড়ি থাকতেন ততক্ষন জ্যামিং চলতো কারণ জ্যামারটা আপনার শোয়ার ঘরেই ছিল । এবারে বলুনতো আপনার ঘরে ওই মেয়েটি কে পুরো পরিচয়টা বলুন । পরিচিতা বললে নির্দিষ্ট করে কিছু বোঝা যায়না । আমাদের কাছে পরিচয় আরও স্পেসিফিক হওয়া দরকার ।” আমি বললাম, ” মহিলার নাম লুলিয়া । ডঃ চোঙদারের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডঃ বিজয়মের স্ত্রী । কিন্তু বাল্মীকিকে ওরা কোথায় নিয়ে গেল? “পুনিত বলল,”শ্রী ঘরে । মানে পুলিশ কাস্টডি । স্যার আপনার একটা কথা জানা দরকার । ডঃ বিজয়ম বলে কেউ নেই বা ছিল না । তাই লুলিয়ার চরিত্রটা সাজানো । আমি বললাম, “হ্যাঁ সে কিছুদিন ধরে আমারো সন্দেহ হয়েছিল । কিন্তু আমাকে দরিড়িয়ে বেঁধে বাড়িখানা তল্লাশির দরকার ছিল কি?”পুনিত অপরাধীর মতোই বলল,”মাফ করবেন স্যার । এটা শত্রুপক্ষের চোখে ধুলো দেবার জন্য কাজের মধ্যে যেন কোনো ফাঁক না থাকে । যাতে শত্রুপক্ষ দেখলেও যাতে বুঝতেও না পারে, তাই এই সাবধানতা । ওরা টের পেলে আপনার বন্ধুর শ্রেয়ানের ক্ষতি করে দিতে পারে ।”আমি বললাম,”না, সেই ভয় হয়তো আর নেই “।