সাপ্তাহিক কোয়ার্ক ধারাবাহিক উপন্যাসে সুশোভন কাঞ্জিলাল (পর্ব – ৮১)

একাশি

দুজন লোকের মধ্যে একজনের কাঁধে ছিল একটি ব্যাগ । সেটা থেকে নানা ধরণের জিনিস বের করলো লোকটা । তার মধ্যে একটাকে মনে হল মেটাল ডিটেক্টর ।বাড়ির বিভিন্ন অংশে আনাচে কানাচে সেটা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে কি যে খুঁজছে । আর একজন হাতে একটা ল্যাপটপের মতো ডিসপ্লে স্ক্রিনে কি যেন দেখছে । বসার ঘরের দুই জায়গায় ওরা বোধহয় কিছু খুঁজে পেল । তারপর একে একে শ্রেয়ান এবং আমার শোওয়ার ঘরে ঢুকল তারা দুজন । আমি ড্রয়িংরুম থেকে আর কিছু দেখতে পেলাম না ।দুটো ঘরে মিনিট পাঁচেক সময় কাটিয়ে ওরা বেরিয়ে এলো । এবার কিচেনের কাছে গিয়ে দরজা ঠেলে দেখল দরজা ব্ন্ধ ।কিন্তু ওরা অদ্ভুত কৌশলে বার দুয়েক ধাক্কা দিয়ে দরজাটা ভেঙে ফেললো । কি খুঁজছে ওরা? Quarko নাকি? ওরা কে তার বোঝার উপায় নেই । কিচেন থেকে বাল্মীকিকে পাঁজাকোলা করে তুলে নিয়ে এল ওরা এবং সেইভাবেই বাল্মীকিকে নিয়ে দরজা খোলা রেখেই বাইরে বেরিয়ে গেল।
প্রায় আধঘন্টা পর পুনিত ফিরে এল। পুনীতকে দেখে আমি আস্বস্ত হলাম । কিন্তু অবাক কান্ড পুনিত আমার এই অবস্থা দেখেও বিন্দু মাত্র বিচলিত হল না । বরং ধীর সুস্থে আমার হাত পায়ের বাঁধন খুলে দিলো ।মুখের কাপড়টা খুলে আমি এক নিঃশ্বাসে সব কথা বলতে শুরু করলাম । পুনিত আমায় থামিয়ে বলল, “স্যার আপনি ব্যস্ত হবেননা । কি হয়েছে আমি সব জানি।”আবার আমার বিস্ময়ের পালা । বিস্ময়ে আমার মুখ দিয়ে কেবল বেরোল,”মানে?”পুনিত আমাকে আস্বস্ত করে বলল,”সব বলছি স্যার আগে বলুন আপনার বেডরুমে ওই মেয়েটি কে? আমি সংক্ষেপে বললাম,”মেয়েটি আমার পরিচিতা, এখানে এসে অসুস্থ্ হয়ে পড়েছে । ডাক্তারের পরামর্শে রেস্ট এ আছে । পুনিত এবার বলল,”রাত সাড়ে এগারোটা বাজে । খাবার দাবার কিছু আছে? খিদেয় পেট চো চো করছে “। আমি ওর স্বাভাবিক আচরণ দেখে কিছুই আন্দাজ করতে পারছিনা। তাহলে কি লোকদুটো পুনিতের পরিচিত? যাইহোক দুজনে খেতে বসলাম । খেতে খেতে পুনিত বলল,”লোকদুটো পুলিশেরি লোক। যে সব ঘটনা ঘটছে সব নাটক । শত্রু পক্ষকে চোখে ধুলো দেবার জন্য। যা হচ্ছে সব ম্যাডামের প্ল্যানমাফিক । ওরা আপনার বাড়ি থেকে চারটে স্পাই ক্যামেরা আর একটা সেলুলার জ্যামার পেয়েছে । আপনার মোবাইলের নেটওয়ার্ক বেশির ভাগ্ সময় বোধহয় ব্লক করে রাখা হত । যতক্ষণ বাড়ি থাকতেন ততক্ষন জ্যামিং চলতো কারণ জ্যামারটা আপনার শোয়ার ঘরেই ছিল । এবারে বলুনতো আপনার ঘরে ওই মেয়েটি কে পুরো পরিচয়টা বলুন । পরিচিতা বললে নির্দিষ্ট করে কিছু বোঝা যায়না । আমাদের কাছে পরিচয় আরও স্পেসিফিক হওয়া দরকার ।” আমি বললাম, ” মহিলার নাম লুলিয়া । ডঃ চোঙদারের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডঃ বিজয়মের স্ত্রী । কিন্তু বাল্মীকিকে ওরা কোথায় নিয়ে গেল? “পুনিত বলল,”শ্রী ঘরে । মানে পুলিশ কাস্টডি । স্যার আপনার একটা কথা জানা দরকার । ডঃ বিজয়ম বলে কেউ নেই বা ছিল না । তাই লুলিয়ার চরিত্রটা সাজানো । আমি বললাম, “হ্যাঁ সে কিছুদিন ধরে আমারো সন্দেহ হয়েছিল । কিন্তু আমাকে দরিড়িয়ে বেঁধে বাড়িখানা তল্লাশির দরকার ছিল কি?”পুনিত অপরাধীর মতোই বলল,”মাফ করবেন স্যার । এটা শত্রুপক্ষের চোখে ধুলো দেবার জন্য কাজের মধ্যে যেন কোনো ফাঁক না থাকে । যাতে শত্রুপক্ষ দেখলেও যাতে বুঝতেও না পারে, তাই এই সাবধানতা । ওরা টের পেলে আপনার বন্ধুর শ্রেয়ানের ক্ষতি করে দিতে পারে ।”আমি বললাম,”না, সেই ভয় হয়তো আর নেই “।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।