সাপ্তাহিক কোয়ার্ক ধারাবাহিক উপন্যাসে সুশোভন কাঞ্জিলাল (পর্ব – ১০২)

একশো দুই
দুপুর দুটোয় দেখা করার কথা আমার সঙ্গে। জায়গাটা আমার ঠিক পছন্দ হয়নি। জলের ওপর আমার একেবারে আস্থা নেই। যাইহােক বেলা দুটোর কিছু আগে আমরা তিনজন, বেতালদা, মােক্তার ও আমি, পৌছে গেলাম প্রিন্সেপ ঘাট চক্ররেল স্টেশনের টিকিট কাউন্টারের কাছে। দুটো বেজে পাঁচ মিনিটে আর্যমা এল। সঙ্গে আর একজন লােক। চেহারা দেখেই বুঝলাম সিভিল ড্রেসে পুলিশ। আর্য বেতালদাকে আশা করেনি। আর্যমা মােক্তারকে বলল “মােক্তার তােমার ডিউটি শেষ। আর তােমার কাজ নেই”। মােক্তার আমাকে আর আমাকে সেলাম ঠুকে চলে গেল। বেতালদার দিকে তাকিয়ে আর্য বলল “ইনি কে? আমি তাে তােকে একা আসতে বলেছিলাম। আমি দৃঢ়ভাবে বললাম “না, ওনাকে দরকার লাগবে। ধাঁধার পুরাে ব্যাখ্যার জন্য ওনাকে চাই”। আর্যৰ্মা তাচ্ছিল্যের সঙ্গে বেতালদার দিকে তাকিয়ে মুখ ঘুরিয়ে নিল। আর্যৰ্মা বলল “অর্ক জিনিসটা এনেছিস তাে? জিনিসটা দেখা”। আমি একটু চাপা গলায় বললাম “হ্যা এনেছি। কিন্তু এখানে বের করা কি নিরাপদ?” আৰ্য্যমা বেশ উচ্ছসিত হয়ে বলল “কোথায় পেলি? কত বড় জিনিসটা? আদৌ কাজ করে কি?” আমি বললাম “অবশ্যই করে। আমি কাল রাতে নিজে পরীক্ষা করে দেখেছি। বাবা এটা আমার একটা বই এর মধ্যে লুকিয়ে রেখেছিল। ধাঁধাটা সমাধান করে সেই মেসেজটাই আমি পাই। কিন্তু এই জিনিসটা সরকারের হাতে না পৌঁছানাে পর্যন্ত আমি খুব উৎকণ্ঠায় আছি। তােকে কি দিয়ে দেব? তুই তাহলে অফিসিয়ালি হ্যান্ডওভার নে আমার কাছ থেকে”। আর্যা যেন ঘাবড়ে গেল। বলল “পাগল নাকি? এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস এমন হেলায় আমি এই জায়গায় দাঁড়িয়ে নেব?” আৰ্য্যমা হাঁক দিল “রানা বােট বুলাও”। ওর সঙ্গে আসা লােকটা এতক্ষণ একটু দূরে অপেক্ষা করছিল। আমার দিকে জিজ্ঞাসু চোখে তাকালাম। আর্যৰ্মা সেটা বুঝে বলল “আরে অর্ক এই অভিযানটা কতটা কনফিডেন্সিয়াল তুই তাে জানিস। তাই জিনিসটা হস্তান্তর করা হােক সরকারকে, সরকারি প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে। আমি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এবং পুলিশের বড় কর্তাদের অলরেডি খবর দিয়ে দিয়েছি। সবাই সেখানে হাজির থাকবে। তখন তুই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর হাতে তুলে দিস এই অমূল্য রতন। কিন্তু নিরাপত্তার খাতিরে আমাদের প্ল্যান হল আমরা এখান থেকে লঞ্চে করে গঙ্গার ওপারে যাব। সেখান থেকে নিরাপদ পথে ঘাট থেকে সরকারি প্রশাসনিক ভবন পৌছাব। শুধু তাই নয় সঙ্গে থাকবে হেভি পুলিশ প্রােটেকশন। আমি আমার কথায় সম্মতি জানিয়ে আমার সঙ্গে এগােতে লাগলাম। | আমার সঙ্গে কথা বলার সময় থেকেই লক্ষ করছিলাম যে দুজন লােক রাস্তায় দামি গাড়ি দাঁড় করিয়ে আমাদের লক্ষ করছে। আর্যৰ্মা সম্ভবত খেয়াল করেনি। অবশ্য আমার মতাে একজন দক্ষ আই.পি.এস-এর খেয়াল করার কথা। যাই হােক আমাদের হাঁটা শুরু করার পর রাস্তা ধরে গাড়িটাও এগােতে লাগল ধীরে ধীরে। আর্যৰ্মা লঞ্চের কথা বলছিল অথচ কোনাে লঞ্চকে দেখতে পাচ্ছি না। শুধু কয়েকটা নৌকা ঘাটে ভাসছে। আমাকে কথাটা জিজ্ঞাসা করলাম। আর্যৰ্মা বলল “এই ঘাটে লঞ্চের পারমিশান নেই। তাই মাঝনদীতে গিয়ে লঞ্চকে ধরতে হবে”। আৰ্যৰ্মা বলল ঘাট থেকে গাড়িতে সঙ্গে আসা পুলিশটা এসকর্ট করে নিয়ে যাবে। ও যাবে না। কিন্তু আমি বেঁকে বসলাম। বললাম “আর্যৰ্মা, প্লিজ তুই সঙ্গে চল। তােকে ছাড়া আমি কিছুতেই যাব না। জিনিসটা আমার সঙ্গেই রয়েছে। তাই আমার জীবনের ঝুঁকি আমি বেশ বুঝতে পারছি”। লক্ষ করলাম আর্য বেশ অস্বস্তিতে পড়েছে। ও একটু দূরে গিয়ে কাকে যেন ফোন করল, বােধহয় ওর বসকে। তারপর ফিরে এসে বলল “ঠিক আছে। চল নাে প্রবলেম। আমিও তােকে একা ছাড়তে সাহস পাচ্ছিলাম না। কিন্তু ওপর তলার অর্ডার ছিল। কিন্তু ম্যানেজ করেছি। আর শােন এই ভদ্রলােককে তাে অ্যালাও করা যাবে না। ওকে বেকার নিয়ে যাচ্ছিস”। আমি বললাম “না, ওনাকে আমার দরকার”। বলে বেতালদা যেন দেখতে না পায়। এমনভাবে আৰ্যমাকে চোখ মারলাম। আৰ্য্যমা বুঝল কিছু একটা ইঙ্গিত করছি। বলল “অগত্যা কি আর করা যাবে চল তাহলে। আমরা ওই সবুজ বােটটায় উঠি চল”। সেই গাড়িটাকে কিন্তু আর দেখতে পেলাম না। আমরা বােটে গিয়ে উঠলাম। আমার আদেশে বােট চলতে শুরু করল। বােটে আমরা চারজন—আৰ্যৰ্মা, রানা, বেতালদা ও আমি। হঠাৎ আমার ফোন বেজে উঠল। ফোনের ওপারের কথা শুনে আৰ্যমা উত্তেজিত হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল। চিৎকার করে উঠল “হােয়াট? কি করে?”