সাপ্তাহিক কোয়ার্ক ধারাবাহিক উপন্যাসে সুশোভন কাঞ্জিলাল (পর্ব – ১০৫)

একশাে পাঁচ
হঠাৎ আমাদের নৌকোটা ধাক্কা খেয়ে দুলে উঠল। বাইরে থেকে রানা হাঁক মেরে বলল “ম্যাডাম লঞ্চ রেডি”। আমি আর আর্যম নৌকোর ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে এলাম। লঞ্চটা নৌকোর গায়ে লেগে দাঁড়িয়েছে। দুটোই পাশের পন্টুনের সঙ্গে বাঁধা। আমি খুব অবাক হয়ে গেলাম। এখানে পন্টুন এল কোথা থেকে? পন্টুন হচ্ছে মান্ধাতার আমলের ব্রিজ যখন টেকনােলজির এত উন্নতি হয়নি। হাওড়ার ক্যান্টিলিভার ব্রীজ হওয়ার আগে এই ধরনের ব্রিজ ছিল যা এখন সুদূর অতীত। কিন্তু গঙ্গার বুকে এমন একটা পন্টুন ব্রিজ আছে তা কোনােদিন চোখে পড়েনি। যে জায়গায় আমাদের নৌকো লঞ্চের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে সেখান থেকে প্রিন্সেপ ঘাট, মিলেনিয়াম পার্ক, বাবুঘাট স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। তাই এই পন্টুনটা যদি থাকত তাহলে চোখ পড়তই। কারও মুখেও এইরকম ব্রিজের কথা শুনিনি। তবে কি ব্রিজটা নতুন তৈরি হল ? বেতালদার কানের কাছে মুখ নিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম “এই পন্টুন ব্রিজটার কথা আপনার জানা ছিল?” বেতালদা নির্বিকার হয়েই বললেন “এটাকে সদ্য আনা হয়েছে। ছােট জাহাজ বা বেশ কিছু মােটর বােট দিয়ে জলে ভাসিয়ে আনা হয়েছে। জিনিসটা দেখতে জাহাজ আর জেটির ক্রশব্রিড়। মাঝে আবার বেশ বড় কেবিনের মতাে কয়েক কামরার ঘরও আছে মনে হচ্ছে। আমরা আশ্চর্য।