ভূত সিরিজ || সব ভূতের গল্পে সুদীপ ঘোষাল – ৫

প্রেমগতি

ফোনটা বেজে উঠল। কানে ঠেকাতেই কর্ণ বিদারক কান্না। এই শুনছো, আমি স্টেডিয়ামে আছি। তুমি চলে এস।
তড়িঘড়ি স্টেডিয়ামে গিয়ে দেখি অনুপমের কোলে আদৃজা। অনুপম দৃশ্য।
কি রে তোর রমার খবর কি?
অনুপম কুকুর দাঁত বের করে বললো, আমি আদৃজাকে ভালোবাসি।রমা আমার অবসরের সঙ্গিনী। ভ্যালেনটাইন্স ডে তে সত্যিটা জেনে যা।
আদৃজা আমায় মোবাইলে কল করে ডাকলে কেন,আমি বললাম আদৃজাকে। তাকে আমি ভালোবাসতাম। আদৃজা কোনদিন আমাকে সত্যিটা বলে নি।
আদৃজা বললো, তুমি একবার বললে আমার মা বাবা রাজী হবে আমাদের বিয়েতে। আমি অনুপমকে বিয়ে করতে চাই। তুমি তো আমাকে ভালোবাসো, তাহলে এইটুকু স্বার্থত্যাগ করতে পারবে না? প্লিজ আমার জন্য, প্লিজ…
আমি সম্মতি দিয়ে আদৃজার বাড়ি গেলাম। বাড়ি গিয়ে কাকিমা আর কাকুকে ডেকে বললাম, অনুপম ভালো চাকরি করে। আদৃজার বিয়েটা ওখানেই দিন। আমার কথা শুনে কাকু আর কাকিমা কাঁদতে শুরু করলেন। আমি বললাম, কি হলো। কাঁদছেন কেন?
কাকু বললেন, ওরা দুদিন আগে আমাদের বলেছিলো। কিন্তু আমরা রাজী না হওয়ায় ওরা নিজেরাই বিয়ে করেছে আর…
আর কি? বলুন?
আজ ওরা দুজনেই শান্তিতে শুয়ে আছে শ্মশানে।
বিয়ে করলো তো মরল কেন?
কাকু বলল, আমাদের শাস্তি দেবে বলে।
এরা তো আচ্ছা আহাম্মক, আমি একটা টোটো ভাড়া করে শ্মশানে গেলাম। তখন ইলেকট্রিক চুল্লিতে সব শেষ।
হঠাৎ চুল্লীর ওপারে আদৃজাকে দেখতে পেলাম।সিঁদূর ঢেলে সিঁথি সাজানো । দারুণ লাগছে । ঠিক মা মা ভাব।
সে বলছে, কি গো। আমার বাবা মা রাজী হলো অনুপমের সঙ্গে বিয়েতে? হবে না জানতাম । এবার আমরা ভালভাবে সংসার করব। আত্মার মিলনে আমাদের সংসার।
আমার চোখকে বিশ্বাস করতে পারলাম না,আমি নিজেইম।
আর আদৃজার প্রশ্নের আমি কোনো উত্তর খুঁজে পেলাম না…
এই ভৌতিক ঘটনাটি আজও আমি ভুলতে পারি নি…
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।