তারপর তান্ত্রিক শুরু করলেন যোগ্য সবাইকে বললেন তোমরা সবাই বস এখানে কেউ নড়াচড়া করবে না তাহলে সাধনার ব্যাঘাত ঘটবে প্রায় একঘন্টা আমরা সবাই শান্তি প্রার্থনা করছিলাম আশিসের আত্মার জন্য তবে তার পরের দিন থেকে মেসবাড়িতে আর কোন উপদ্রব হয়নি আমাদের বন্ধুদের গ্রুপ এখনো আছে আমরা সময় পেলে একসঙ্গে বেড়াতে যাই খাওয়া-দাওয়াও করি রাতে মেসবাড়িতে। ভূতের গল্প শোনেনি বা ভয় পায়নি এমন মানুষের সংখ্যা কমই আছে। আমার নিজের জীবনে দেখা একটা গল্প তোমাদের বলতে ইচ্ছে করছে। আমি তখন বিল্বেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। আমার বন্ধু ছিল অনেক। তার মধ্যে সর্দার ছিলো বিশু। এখন যার কথা বলবো তার নাম অলক।বাড়ি তার কোমডাঙ্গা। স্কুলে যত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতো তার প্রধান দায়ীত্বে থাকত আমাদের দলের প্রধান বিশু। আর কান টানলেই মাথা আসে। হাত বাড়ালেই বন্ধুদল হাজির। বিশু মানেই আমরা সবাই। আমাদের বন্ধুরা এই পরোপকারী নির্ভিক নেতার ভক্ত।
স্কুলে ঠিক হলো এবার রবীন্দ্র জয়ন্তী অনুষ্ঠান হবে সন্ধ্যাবেলায়। নাটক,আবৃত্তি,গান সব হবে। হষ্টেলের ছেলেরা বললো,বিশুদা তোমাকে থাকতে হবেই।বিশু বন্ধুদের কথা ভেবে বললো,আমাদের বাড়ি অমেকদূর।প্রায় চার ক্রোশ দূরে।হেঁটে আমরা যাওয়া আসা করি
দিনেরবেলা বলে সম্ভব।
মাষ্টারমশাই বললেন,বিশু তুমি আর তোমার দলবল থাকবে। তোমাদের ছাড়া অনুষ্ঠান অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। প্রয়োজনে রাতটা হষ্টেলে কাটাবে।
বিশু বললো,তাই হবে স্যর। অসুবিধা হবে না। তবে রাতে থাকা যাবে না।
—-কেন? কি এমন রাজকাজ আছে তোমার?
—-স্যর,আমার গ্রামের ডোম পাড়ার তিন বুড়ির কাছে আমি রাতে থাকি। তাদের সুবিধার জন্য রাতে আমি কোথাও থাকি না।
এই বিশু কিন্তু পিসেমশাইএর বেষ্ট ফ্যান। পিসেমশাই বলেন, বিশু আমার বন্ধু। আমার বন্ধু। বন্ধু হওয়ার জন্য কোন বয়স ধার্য করা নেই। আট থেকে আশি, বন্ধুর মুখে হাসি। পিসেমশাই সময় পেলে দু একটা ছড়াও লেখেন। এই বিশু পিসেমশাইকে খুব ভালো ভালো মুখরোচক খাবার খাওয়ায়। কখনও বিরিয়ানি কওনও এগরোল আনা।