T3 || বাণী অর্চনা || বিশেষ সংখ্যায় সুদীপ ঘোষাল

শিবজ্ঞানে জীবসেবা
অপরিচিতা এক মা ফুটপাতের এক কোণে কোনোরকমে থাকেন। তার নিজের কোনো ছেলেমেয়ে নেই।কিন্তু তিনি মমতাময়ী মা। একদিন মা ফুটপাতে পেলেন অনাথ শিশুকে।তাকে ভগবানের দান মনে করে, সেবা করতে লাগলেন।তারপর মা আরও চারজন অনাথ শিশুর খোঁজ পেলেন। মা ভিখারী হতে পারেন কিন্তু তার মমতা, যোগ্যতা, বুদ্ধির কোনো অভাব ছিলো না। শিক্ষিতা রুচিশীলা মা কি করে ভিখারী হলেন, সে ঘটনা পুরো বলতে গেলে ইতিহাস হয়ে যাবে। যাইহোক স্বাধীনচেতা মা,অত্যাচারী স্বামীর ঘর ছেড়ে ফুটপাতে আশ্রয় নিয়েছিলেন বাধ্য হয়ে। মা এবার পাঁচ শিশুকে নিয়ে সরকারী অফিসে আবেদন করতে শুরু করলেন, একটু আশ্রয়ের জন্য। । একদিন এক সরকারী আধিকারিক বললেন,মা, আপনার কোনো পরিচিতি নেই।আপনার অনাথ আশ্রমের জন্য কোনো জমি নেই। কি করে আপনি অনাথ আশ্রয় গড়ে তুলবেন।আপনার অর্থবল,জনবল কিছুই নেই।
মা বললেন,কিন্তু আমার একটা জিনিস আছে, তা হলো ইচ্ছাশক্তি। আমি আশ্রম গড়ে তুলবোই একদিন।আপনি দেখে নেবেন। আমার সে মনোবল আছে।
পাঁচ শিশুকে নিয়ে মায়ের পথচলা শুরু হলো। তিনি ভিক্ষা করে অই শিশুদের পরিচর্যার ব্যবস্থা করলেন।পাঁচ শিশুকে দেখে একদিন পাড়ার ধনীব্যক্তি তথা শিক্ষকমহাশয়, সদাশিব বাবুর মায়া হলো। তিনিও সেবাকাজে যুক্ত হলেন।একে একে অনেকে এলেন এগিয়ে। সদাশিববাবু মা কে বললেন, আপনার শিশুদের থাকার জন্য আমি ঘর তৈরি করে দেব,খাবার ব্যবস্থা করে দেব । আমার যতটা সাহায্য করা প্রয়োজন আমি করবো। আইনের ঝামেলা আমি সামলাবো।
মা, এখন মাদার টেরেসার মত সেবা করে চলেন, জীবন্ত ঈশ্বরের।