গদ্যানুশীলনে সুদীপ ঘোষাল

অদ্ভূত ভূত
কাটোয়া থেকে ট্রেনে চেপে নবদ্বীপ যেতে গিয়ে ভূতের পাল্লায় পড়েছিলাম। ইন্টারসিটি ধরে যাচ্ছিলাম। একবার প্রয়োজনে বাথরুমে ঢুকলাম। ঢুকেই চোখ দুটি স্থির হয়ে গেলো আমার। পা নাড়াতে পারছি না। দেখলাম একটা ছোটো ভূতের বড় মানুষের মত বড় বড় দাঁত। দাঁত কেলিয়ে হাঁসছে। ভয়ে বুকের লাবডুব এত জোরে হচ্ছে যে নিজেই শুনতে পাচ্ছি।কোনোরকমে বাইরে এলাম। অন্যান্য যাত্রীদের বললাম। তিনজন বাথরুমে ঢুকলো।কিছু দেখতে না পেয়ে রেগে গিয়ে বললো,রাতে কি খেয়েছিলেন? গ্যাস হয়েছে।যত পাগল, ছাগল নিয়ে কারবার।যান নিজের কাজে যান।
আমি আবার একবার ঢুকলাম ভিতরে। দেখলাম ভূতটি সেইরকমই হাঁসছে। দেখে আমার পিত্তি জ্বলে গেলো। রাগে বলে বসলাম,এত ভিতু কেন?পালিয়েছিলি কেন?
ভূতটা সঙ্গে সঙ্গে আমার গালে এক চড় মেরে জানালার ফাঁক গলে লাফিয়ে পড়লো।ভূতের কি অপরিসীম ক্ষমতা। পরে জেনেছি আমি অজ্ঞান হয়ে ছিলাম অনেকক্ষণ। ফলে গন্তব্যে না গিয়ে হাওড়া চলে গেছিলাম ।
আমার ঘুম ভাঙলো হাওড়া স্টেশনে। বাথরুমে নোংরা পরিবেশে শুয়ে থাকতে দেখে অনেকে বাথরুমে ঢোকে নি। হয়ত লাশ মনে করেছে। একটা ঝাড়ুদার বললো,পাগল কাঁহিকা। নিকালো শালা। বাথরুমমে শোতা হ্যায় চুতিয়া…