অণুগল্প সিরিজে সুদীপ ঘোষাল – ৪

লকডাউন ডায়েরী

ভরসা

আমার স্ত্রী বাজারে গেছিলেন  আজ। দোকানে দড়ি দিয়ে মেপে এক মিটার দূরে ইঁট পাতা আছে।লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন গ্রাহকরা। পুলিশ পর্যবেক্ষণ করছেন বাজার, রাস্তা। জরুরি অবস্থায় সকলে চিন্তিত। কি করে একুশ  দিন কাটবে। কাটবে ঠিকই। আবার ফুটবে ফুল। আবার হাসবে শিশু পৃথিবী। আজ ঘুম থেকে একটু দেরি করে উঠলাম।এখন সকাল নয়টা বাজে ঘড়িতে। চা মুড়ি আর প্রেশারের ওষুধটা খেলাম। সাবান দিয়ে হাত ধুয়েছি অবশ্যই।খবরের কাগজ পেলাম।হেডিং -ভালবাসার দেশ কিউবা।
করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহায্য করতে ইতালিতে একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদল পাঠিয়েছে কিউবা। দেশটি জানিয়েছে, ইতালির অনুরোধে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সের একটি ব্রিগেড রওনা হয়ে গেছে। করোনায় জর্জরিত ইতালির লমবার্দি অঞ্চলে কাজ করবে তারা।

বিস্ময়

-এই যে মাস্ক পরেন নি কেন?
– না মানে নেই
– রুমাল আছে তো
– হ্যাঁ, তা আছে
– জড়ান, নাকে মুখে
– ঠিক আছে
এইভাবে পুলিশের দল কাজ করছে।
দুজন পুলিশ কথা বলছে। একজন প্রথমে বলল,
-সমাজ সচেতন লোক যারা তারা বেরোয় না বাইরে। আর একজন উত্তর দিলো,
-দিন আনে দিন খায় তাদের তো বেরোতে হবে।
– তাদের ঘরে খাবার দিয়ে আসতে হবে।
– কিন্তু সবাই কি পাবে? জঙ্গলমহলে, প্রত্যন্ত গ্রামে যারা থাকে তারা কি পাবে!
দুজন পুলিশের আলোচনা শুনে একজন অন্ধলোক এগিয়ে এসে বললেন, আমার এই পাঁচশ টাকা দয়া করে সেবার কাজে লাগান প্লিজ। তার মুখে মাস্ক।
আমি বাকরুদ্ধ হয়ে জানালার ওপারে ঘরে বসে আছি আর ভাবছি কত লোককে নতুন করে চিনলাম।
এই মারণ রোগ না এলে মানুষ চেনা বাকি থেকে যেত সকলের।

চলবে…

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!