কবিতায় স্বর্ণযুগে সুরঙ্গমা ভট্টাচার্য (গুচ্ছ কবিতা)

১| স্নান
একটা পিছু ডাকে
ভুবন বদলে যেতে পারে ভালোবাসার
তুমি শুধু স্বপ্নে নও থাকো বাস্তবেও আমার
কিন্তু আমপাতা ও মঙ্গলঘট এর আধারে
রাঙিয়ে দিয়ে যাওয়ার হাতছানি
যখন মুগ্ধ করলো তোমাকে
তখনই সূর্যোদয় হল
আমি তাকিয়ে থাকলাম সেই অগ্নি সৌন্দর্যের দিকে
কামারশালা
কামারশাল এর এক কোনে রাত পেতেছে আঙুল
এক চোখে নদী আর একটায় ভরপুর রোদ্দুর ভরে
তুমি এসে দাঁড়ালে
লৌহ পুরুষ এর সমূহ দ্বিধার সামনে
হাওয়া তখন গোলাপী
হাপরের মত তোলপাড় বুকে মুকূলের গন্ধ
বৈশাখী মেঘ ছুঁয়ে পাখায় নির্ভার
তোমার দুহাত ভরা কাঁচের চুড়ি মুট মুট ভেঙে যাচ্ছে নিরন্তর
মুহুর্তেই ভরা রাতের চরিত্র বদলে গেলো কামারশালের
২| বেলা অবেলা
একটা খা খা দুপুর
পানকৌড়ি,বোরোজ
ঝিঙে ফুল
আর কুড়িটা বছর
বেলা অবেলায়
ফেলে আসা পুকুর পাড়ে
খিড়কি পেরোনো রাঙ্গা
পথ
উজানে বয়ে চলা
একটি জিজ্ঞাসা
তুমি ভাল আছ তো মনিমা
৩| আশা
বিষুবরেখার শেষ থেকে প্রথম বিন্দুতে পৌঁছালে
রোদের অনর্গল বয়ে চলার বিপরীত ছন্দ কি মিলতে পারে
নাকি সবটাই ঝলসে দেবে অনন্ত অগ্নি
জঠরের জ্বালার থেকেও কি বেশি সেই যন্ত্রণা!
নাভি, নগর, সরাইখানা সব ছাই হলে
প্রতিটি ঊষা কালে ভূমিষ্ঠ হবে শিশু
জলবিম্ব রেখা ধরে পুষার গভীর থেকে
ধাঁধার সদৃশ সব দগ্ধতায় প্রলেপের মত
আলো হবে সংসার