গদ্য কবিতায় শান্তময় গোস্বামী

অপরিচিতা
তনুপিসির ঘরটা দৈৰ্ঘ্য প্ৰস্থ দু’টোতেই ছোট ।
আছে দু’টো বড় সংসার জোড়া একটা পায়ে-চলা দরজা।
আলাদা কোনো নামও নেই বাকি ঘরগুলোর।
অন্য যে ক’টি বাড়ি আছে এপাড়ায়,
তাদের ঠিকানা ওই বড় রাস্তার নামেই।
তাই বলে লোক চলাচল খুব কম নয়।
কাগজওয়ালা… ঝিঙ্কু মামনি… সবজি- মাছওয়ালারা আসে যায়।
লতা মাসি কাজে আসে…
উপার্জনে বেরিয়ে যায় ছোট-বড়-মেজো ঘরের মানুষেরা।
সূর্য মাথায় উঠলে একঝলক রোদও জোটে বাড়িটার কপালে।
সরকারী খাতায় এ বাড়ির কোনো পরিচয় নেই।
তবু ক্যুরিয়ার-অ্যামাজন-জোমাটো ডেলিভারি বয় আসে।
পাগলি লোলিটা… হাতকাটা সন্ন্যাসী চিৎকার আর উঁকিঝুঁকি মারে।
বাড়ির মানুষের ফিরতে দেরি হলে তনুপিসি উঁকি দেয় জানালায়।
বাড়িটার পোশাকি পরিচয় নেই… কৌলীন্য নেই।
তবু দুয়ারভরা চটি-জুতোর অপেক্ষা আর নানান রকমারি ধুলোর
ফরমায়েশি আবদারে জেগে থাকে উত্তুরে শীত, দখিনা বসন্ত…