|| শাম্ভবী সংখ্যা ২০২১ || T3 শারদ সংখ্যায় সৈকত ঘোষ

শা-রদ-ইয়া
বাঙালী বললেই যেন দুটো জিনিস প্রথম মাথায় আসে এক পেটপুজো ও দুই দেবদেবীর পুজো, অর্থাৎ যা দাঁড়াল বার মাসে তের পব্বন ও তাল মিলিয়ে আমিষ নিরামিষ খাওয়া দাওয়া। তারই মধ্যে বাঙালি দের উৎসব খাওয়া দাওয়ায় প্রধান ,সর্ববৃহৎ ও পৃথিবী ব্যাপী যার যশ ছড়িয়ে আছে ,তা আলাদা করে বলার প্রয়োজন বোধ করে না , “দুর্গোৎসব”। এটা বলা বাহুল্য যে সারা দেশের বাঙালি তো বটেই , পৃথিবীর অন্য কয়েকটি দেশেও এই শারদ উৎসব পালনহয় সমান সমারোহে। ভাদ্র মাসের শেষের দিক থেকেই যখন কাশ ফুল ফোটে, গাছে শিউলি ফোটে আর ভোরের বাতাস মাতিয়ে তোলে, ওই মাতাল করা বাতাস ই তো শারদীয়া র আগমন ঘটায় আশ্বিন মাসে।
কত কিছুই তো আয়োজন তাই না, প্রতিমা মণ্ডপ, তৈরি থেকে নতুন জামা কাপড় ,খাওয়া দাওয়া ,নিত্য নতুন প্রসাধনী, পুজোর দিন গুলোর কি মহিমা , ঢাকের আওয়াজ কানে এলে মনটা যেন ভরে ওঠে, এছাড়াও মন্ডপ দেখা, মেলা ,বাজি আরো কত কিছু মিলিয়ে মিশিয়ে বিশাল মাত্রা নেয়, কি পরিমান আনন্দ দেয় আমাদের যা বোধ হয় অন্য কোনো উৎসবে পাওয়া যায়না।
এই আনন্দ কে আমাদের উপভোগ্য করে তুলতে যে সকল মানুষ দিনরাত নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন, তাদের কথা কি কেউ ভাবে? হয়তো ভাবে! হয়তো ভাবে না। ধরা যাক যে শিল্পী নিজের শিল্পকলাকে কাজে লাগিয়ে মন্ডপ করছেন কি বীভৎস পরিশ্রম করেন, যিনি প্রতিমা তৈরিতে আছেন সারাদিন কাদা জল তুলি রং নিয়ে একাকার, যে বা যারা দর্জি কি সারা দিন কাঁচি সূচ সুতো নিয়ে আছেন যাতে নুতন পোশাক আমাদের তুলে দিতে পারেন, একবার ভেবেছেন সেই ঢাকি তার কথা সে ওই দিন কটায় আনন্দকে বিসর্জন দিয়ে পরিশ্রম করে উৎসবের সম্পূর্ণতা আনে, বিসর্জনেই তার ছুটি, যিনি ব্রাহ্মণ সারাটা দিন অনেক পরিশ্রম করে নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো করেন,যে মানুষ টা মেলায় স্টল দিয়েছে তার অবস্থা সারা বছর অপেক্ষা করেন কটা বেশি রোজগারের জন্য, একজন বাড়ি ছেড়ে চলে যান চার পাঁচটা দিনের জন্য, কিন্তু উপভোগ করতে কি পারেন উৎসব টা কে? এরকম সকলেই আছেন যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িয়ে তারা একটু বেশি অর্থ উপার্জনের আশায় উৎসবের প্রতিটা দিনের আনন্দ বিসর্জন দেন ,শুধু মাত্র সন্তান ও পরিবারের মানুষদের ভালো রাখা বা অর্থ উপার্জন নয়, আমাদের কাছে অপরিসীম আনন্দ টা তুলে ধরার জন্যই। তাদেরই সকলের সহযোগিতা ছাড়া কোনোদিনই একটা উৎসব সফল ও আনন্দময় হয়ে উঠতে পারে না। কিন্তু এত কিছুর পরও একদম গ্রাউন্ড লেভেলে কর্মরত সমস্ত কর্মী যারা জড়িয়ে আছেন এই বিশাল কর্ম কাণ্ডে তাদের পরিবারে নেই যথেষ্ট সচ্ছলতা, কোনোরকম কষ্টে সিষ্টে জীবন যাপন ই তাদের নিত্য সঙ্গী, জোটেনা নতুন পোশাক, ভালো খাবার , প্রসাধনী ও আমোদ উল্লাস তো অনেকে দুরস্ত, কিন্তু আনন্দ দিয়ে চলেছেন সকল কে।
এই সমস্ত সকল মানুষকে যারা তাদের আনন্দ বিসর্জন দিয়ে উৎসবের দিন গুলি আনন্দমুখর করে তোলেন তাদের শতকোটি প্রণাম ও ভালোবাসা।
ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন , মঙ্গলময়ী মা দুর্গা আপনাদের মঙ্গল করুক
**শুভ শারদীয়া