সৌরভের সাথে আমার খুব বেশি যোগসাজশ ছিল এমনটি নয়।এমনিতেই আমি কলকাতার খুব কম অনুষ্ঠানে যেতে পারি।তবুও ওকে চিনি প্রায় বছর আটেক।তবে ওর জনপ্রিয়তা বেড়েছে নানা প্রতিবাদমূলক কাজকর্মের মধ্যে দিয়ে।এমনিতেই সৌরভ সরাসরি রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিল।সাহিত্যপ্রেম তার ছিল অগাধ।কবিতাপ্রেমিক, খুব বড় কবিতাপ্রেমিক।নিজের লেখালেখির বাইরে বর্ষীয়ান কবিদের লেখার প্রতি তার শ্রদ্ধা ছিল অসীম।পাশাপাশি তরুনসমাজের প্রতি তাকে দেখেছি কর্তব্য করতে।সবসময় তরুনদের এগিয়ে দিতে চাইতেন।তাদের অনুপ্রাণিত করতেন কবিতা লিখতে,কবিতা পড়তে।টানা লকডাউনে ওকে দেখেছি দিনের পর দিন সবাইকে বিভিন্ন কবির কবিতা পড়ে শোনাচ্ছেন।
মানুষ হিসাবে তাকে কিছুটা আন্দাজ করতে পারি।যে ভাবেই হোক, অনেক ভিড়ে থেকেও তিনি নিজেকে একা, আলাদা করেই ভাবতেন।এই অর্থে আমার তাকে বেশকিছুটা বাস্তববাদী মনে হয়েছে।যে কোন পর্যায়ে দাঁড়িয়ে নিজস্ব ভাবনা ও বুদ্ধির দ্বারাই তিনি পরিচালিত হতেন।মনে ও মুখে তিনি কখনোই আলাদা প্রকৃতির ছিলেন না।এখানেই সৌরভ সম্পূর্ণ সৎ।
সৌরভের চরিত্রের আর একটি আকর্ষণীয় দিক হলো তিনি ছিলেন ভয়ানক পরোপকারী। পরিচিত-অপরিচিত বহুমানুষের জন্যেই তাকে ছুটে যেতে শুনেছি।এখানেই কবি সৌরভ মুখোপাধ্যায় অনেকের থেকে আলাদা।তার এই দিকটি মানুষকে তার দিকে চুম্বকের মতো আকর্ষণ করতো।
সৌরভের এই অকাল প্রয়ান বাংলা সাহিত্যজগতের এক ক্ষতি।তার সাংগঠনিক ক্ষমতার জন্যে তাকে মানুষ মনে রাখবে।