“আমি ও রবীনদ্রনাথ” সম্পর্কে বলতে গিয়ে আজ বেশ পুরোনো দিনগুলো কে নতুন করে ভাবতে ইচ্ছে করছে । তখন কতই বা বয়স চার সাড়ে চার না পাঁচ হবে হয়তো। সকালে ঘুম ভাঙতো রেডিওতে রবীন্দ্র সঙ্গীত শুনে, মা চটপট স্কুলে যাবার জন্য তৈরী করে দিতেন, তাড়াহুড়ো করে বাবা স্কুলে পৌছে দিতেন, স্কুল শুরুই হতো রবি ঠাকুরের গান “জনগণমন” দিয়ে । বেশ মনে আছে স্কুলের হেড স্যার বলতেন “শোনো এই গান আমাদের জাতীয় সঙ্গীত, তোমরা যখনই যেখানে থাকো না কেনো এই গান কানে এলেই দাড়িয়ে যাবে কেমন “। সেই বয়সে জাতীয় সঙ্গীতের গুরুত্ব যে কতটা তা তেমন বুঝতাম না, তবে তারপর যেদিন যেদিন কোনো কারণে স্কুলে ঢুকতে দেরি হতো আর প্রার্থনা কক্ষে সবাই ” জনগণমন ” গাওয়া শুরু করে দিত একপ্রকার ভয় ও কৌতুহল নিয়েই স্কুলের গেটের মুখেই দাড়িয়ে পড়তাম। স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে মা কে একদিন জিজ্ঞেস করেছিলাম ” মা রবিন্দনাথ কি সত্যি কারের ঠাকুর ?” হ্যাঁ তখন আদো আদো গলাই ঠিক মতন রবীন্দ্রনাথ উচ্চারণ করতেই পারতাম না, মা কোনো উত্তর দেন নি শুধু হেসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়েছিলেন ।
তারপর অনেক গুলো বছর পেরিয়ে গেছে, পড়াশুনা-নাচ-আবৃত্তি-নাটক সব কিছুর মধ্যেই রবি ঠাকুর কে জানা আর তার ছোঁয়া লেগেই ছিল। বয়স যখন উনিশ কুড়ি তখন স্বাভাবিক নিয়মেই ভালবাসার সম্পর্কে মন জরিয়ে পরেছিল, তবে তা বেশিদুর যাবার আগেই, তাতে ছেদ পড়ল। মন যখন ব্যাকুল হয়ে কিছু খুঁজে চলেছে ঠিক তখনই হঠাৎ একদিন “শেষের কবিতা ” তুলে আনলাম লাইব্রেরি থেকে, লাবণ্য আর অমিত র কাহিনী যেন মনকে শান্ত করে দিল, যেন সব প্রশ্নের উওর অচিরেই কে দিয়ে গেল। তাই তো আজ কবি কে কবির সুরেই বলা ” তুমি রবে নীরবে হৃদয়ে মম “।।