T3 শারদ সংখ্যা ২০২২ || তব অচিন্ত্য রূপ || বিশেষ সংখ্যায় শুভাশিস দাশ

মাস্টার মশাই

প্রতিদিনের মতো আজও সকালে বাজারে বেরিয়েছেন রাই মোহন দত্ত ।শহরতলীর খুব কাছেই একটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে আছেন । ছোট্ট ব্লক শহর সীতারামপুর ।
দুবেলা নিয়মিত বাজার বসে ।আর অভ্যাস বশত রোজ একবার সকালে বাজারে ঢুঁ দেবেন রাই মোহন বাবু ।
বাজারের মুখে ঢুকতেই চোখে পড়ল তাঁর স্কুলের গরীব মেধাবী ছাত্র রতন শাকপাতা বিক্রি করছে ।কাছে যেতেই রতন উঠে দাঁড়াল ।
রাই মোহন বাবু বললেন-রতন তুই এখানে শাক বিক্রি করতে এসেছিস ? রোজ আসিস?
আমার চোখে তো পড়েনি ।
রতন ভয়ে ভয়ে বললো–স্যার আজই প্রথম এলাম ।সামনে পুজো ,মা বলছিল দুটো শাক বেঁচলে তো অন্তত একটা জামা হবে ।সংসারের যা অবস্থা ।
রতনের মুখে সব শুনে রাই মোহন বাবুর মনটা ভার হয়ে এলো বললেন- কাল থেকে আর আসবি না ।আমি স্কুল শেষে তোদের বাড়ি যাবো ।কয়েক আঁটি শাক ছিল রাই মোহন বাবু তা নিয়ে নিলেন ।
শনিবারের স্কুল।স্কুল ছুটি হলে রাই মোহন বাবু রতনদের বাড়ি গেলেন ।
শুধু রতন নয় রতনদের গাঁয়ের প্রায় সব ছাত্রছাত্রীর বাড়িতে তাঁর যাতায়াত আছে ।
সাইকেল থেকে নেমে বেড়ার দরজাটা ঠেলে ভিতরে ঢুকে পড়লেন ।
রতনের মা মাস্টার মশাই কে দেখে বলে উঠলেন আপনি?
হ্যাঁ ।ওকে আজ শাক বিক্রি করতে পাঠিয়েছো?
আমি বলেছিলাম না কোন অসুবিধা হলে আমাকে খবর দেবে ।রতন পড়াশুনায় খুব ভালো।সেজন্যই আমি রতনকে বেশি ভালবাসি ।
রতনের মা ঘোমটাটা আর একটু টেনে বললেন-
সামনে পুজো আসছে তাই……..!
রতন এলো ।হাতে একটা জিলিপির প্যাকেট ।
রাই মোহন বাবু বললেন-তুই স্কুল থেকে কোথায় গিয়েছিলি?
আপনি আসবেন তো আমি জানতাম ।মা কে জানাইনি ।তাই আমি ফেরার পথে ঘোষের দোকান থেকে গরম জিলিপি নিয়ে আসলাম ।সকালের শাক বিক্রির টাকা আমার কাছেই ছিল ।
রাই মোহন বাবু রতন কে কাছে ডাকলেন ।মাথায় হাত দিয়ে আশীর্বাদ করে বললেন তুই অনেক বড় হবি রে ।
রতনের মা তুমি দেখে নিও ও একদিন মানুষের মতো মানুষ হবে ।
ওকে আর শাক বিক্রি করতে পাঠিও না ।আজ থেকে আমি ওর সব দায়িত্ব নিলাম ।আমার তো তিন কূলে কেউ নেই ।
রতনের মা কাছে এসে মাস্টার মশায়ের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে বললেন-দেবতা আছে কিনা জানিনা তবে আমি যাঁকে প্রণাম করলাম তিনি সাক্ষাত ভগবান ।রতনের মায়ের চোখ দুটো জলে ভরে এলো ।

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!