কবিতায় শিপ্রা দে

১। শারদ প্রাতে
আকাশ জুড়ে নির্মল হাসি
শেষ শ্রাবণের মেঘে
হাসনাহেনা,জুঁই,মালতী
অস্ফুট আবেগে ।
মেঘে মেঘে স্বপ্ন ভাসে
পুঞ্জ মেঘের ভেলায়
দ্যুলোক দোলে চিরল রোদে
লুকোচুরির খেলায়।
গুচ্ছ গুচ্ছ কাশের পুচ্ছ
মেঘের অট্টালিকা
আজলা ভরা অরুণ আলোয়
ঘাসের নীহারিকা।
নদীর তীরে শ্বেত বসনে
জুড়িয়ে যায় নয়ন
উঠোন জুড়ে শরত চাঁদের
শিউলি গাছে শয়ন।
দিঘীর জলে শাপলা শালুক
কলমী লতা পদ্ম
বুনো হাঁসের জলকেলিতে
ফুল ফুটেছে সদ্য।
উঠোন কোণে লাউয়ের মাচা
ঝিঙে ফুলের রশি
ভূলোক জুড়ে আল্পনা দেয়
শরৎ নিশির শশী।
শান্ত স্নিগ্ধ নীল অম্বর
বিষণ্ণতা ছেড়ে
শারদীয়ার দোল লেগেছে
মন নিয়েছে কেড়ে।
সজ্জিত হয় নববধূ
অপরূপা সাজে
উৎসবের সুর চণ্ডী তলায়
কাঁসর,ঘন্টা বাজে।
২। প্রবাসে বসে
বিদেশে বিদেশে ঘুরেছি আবেশে
গোধূলিতে মনে পড়ে
আমাদের গ্রাম শালবনি নাম
ভুলি’তা কেমন করে।
ভাবিলাম শেষে যাবো অবশেষে
আপন কুলায়ে ফিরি
শ্যামলিমা মাঠে কলমীর ঘাটে
নাচিবারে ঘিরি ঘিরি।
দেখিব আবার ভোরের আভার
লাল কাপড়ের চেলি
প্রজাপতি নাচে ফুল ফোটে গাছে
টগর,চামেলি,বেলি ।
দখিনা বাতাস শুভ্র আকাশ
শুনিব পাখির ডাক
স্তব্ধ দুপুর রাখালিয়া সুর
ফেরিওয়ালার হাঁক।
দিঘি কালো জল করে টলমল
জলকেলি খেলে হাঁস
শান্তির নীড় স্নিগ্ধ সমীর
নদী তীরে দোলে কাশ।
মন অবারিত হইল ধাবিত
অবশেষে ঘরে ফেরা
যেখানে আমার মাতৃ মায়ার
সুনিবিড় ছায়া ঘেরা