ধারাবাহিক রম্য রচনার সংযুক্তা দত্ত – ১৮

অগস্ট মাসে লেক ক্লাবে একটি আলেখ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন হচ্ছিল,বিষয় কবিগুরুর নৃত্যনাট্যে প্রেমের বিভিন্ন দিক -চিত্রাঙ্গদা, কচ ও দেবযানী এবং শ্যামার কিছু নির্বাচিত অংশ।। যারা আমার অন্তত কয়েকটি লেখা পড়েছেন তারা তো জানেনই নাচ আর লেক ক্লাব আমার জীবনে কেমন জড়িয়ে থাকে।
আমায় দুটি ভূমিকা দেওয়া হল, চিত্রাঙ্গদায়” মদন’ ও শ্যামায় সখী। বেশ আমার মনোমত ভূমিকা, মদন হয়ে “কটাক্ষে রবে মম পঞ্চম শর”গানটিতে নাচতে নাচতে ভাবি আমার কটাক্ষেও বেশ কয়েকজন ঘায়েল হয়েছে।
আর শ্যামার সখীর ভূমিকাটিও খুবই পছন্দসই কারণ শ্যামার ভূমিকায় স্বনামধন্য শিল্পী শ্রীমতি অলকানন্দা রায়। নাচব কী, ওনাকে দেখেই মুগ্ধ। আর নাচের কথা তো সবাই জানে, অপূর্ব ভঙ্গিমা।
এবার কী হল,” দেবযানী” যার করার কথা ছিল, সেই দিদি অসুস্থ হয়ে পড়ল। এবার সামনে ওরা পেল আমাকে। জানে যে নাচ তেমন পারুক না পারুক, কোন ভাবে উতরে দেবে। এবার দেবযানী করতে গিয়ে দেখি, সেই ভাব কিছুইতে আসছে না । আমি তখন কলেজে পড়ি। প্রজাপতির মত রঙিন জীবন।আসলে বিয়োগ ব্যথা কী জিনিস তখনও তো অনুভব করি নি। প্রেমে দাগা খাই নি, নিজের জায়গা ছাড়তে হয় নি। দেবযানীর চরিত্রের যে বিভিন্ন স্তর তা ঠিক ভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারি নি।
আজ বুঝি ছেড়ে আসার অথবা নিজের কিছু ছাড়ার যন্ত্রণা। যখন ছাড়তে হয়েছিল নিজের শহর, বুঝেছিলাম সেই দিন। যখন ইচ্ছে করলেও ফেরা যেত না সেই ঘরটায়, যেটা সাক্ষী ছিল আমার অনেক কিছুর প্রথমের, সেদিনও বুঝেছিলাম। আবার যখন নতুন শহর একটু একটু করে আপন হয়ে ওঠে তখন তাকে ছেড়ে আসারও ব্যথা আরেক রকম যন্ত্রণা। কোথাও যেন আজ অনুভব করতে পারি” দেবযানীর ব্যথা”।