কবিতায় শিপ্রা দে

রথের মেলা

বছর ঘুরে এলো আবার
গ্রামে খুশির বেলা।
রথ-তলাতে বসেছে আজ
রথযাত্রার মেলা।
দূর দূরান্ত থেকে আসছে
হাজার হাজার মানুষ
আকাশে আজ উড়ছে কতো
নানা রঙের ফানুস।
রথের দড়ি টানবে সবাই
হুলুস্থুলু কাণ্ড
খানিক বাদে বৃষ্টি এসে
করে লণ্ডভণ্ড।
কৃষ্ণ যাবে মাসি বাড়ি
সঙ্গে বলরাম
সুভদ্রাও সাথী ওদের
করবে গিয়ে আরাম।
সারি সারি দোকান বসে
খোলা মাঠের মাঝে
নাগরদোলা মাটির পুতুল
খাবার দোকান সাজে।
ছোট্ট ছেলে হাতে নিয়ে
তালপাতার এক বাঁশি
বাজায় জোরে পু পু করে
পাচ্ছে দেখে হাসি।
সার্কাস,জাদু,দেখে সবাই
ঠেলাঠেলি করে
টাট্টু ঘোড়া চড়ে শিশু
মাকে বুকে ধরে।
গাঁয়ের বঁধুর খুশির উচ্ছ্বাস
কাঁচের চুরি পরে
পায়ের তোড়া,নাকের নোলক
বারো টাকা করে।
পুতুলনাচের জিদ ধরেছে
ছোট্ট মেয়ে পুঁটি।
সেইখানেতে ভীড় করেছে
সকল ছেলে জুটি।
হারিয়ে যায় গয়াল পাড়ার
একটি মেয়ে ময়না
কিনতে গিয়ে মোজা,ফিতা,
চিরুনি আর আয়না।
মন মেতেছে মেলার ভীড়ে
পাঁপড় ভাঁজার ঘ্রাণে
ভোলা ময়রার মিষ্টি খেয়ে
আরাম পেল প্রাণে।
ঠেলাঠেলি চেঁচামেচি
হাজার লোকের ভীড়ে।
কেউ তো আবার জোরে ডেকে
গলা যাচ্ছে চিরে।
চুড়ি মালা আলপিন নিয়ে
রানুর কান্না কাটি
বায়না ধরে আরো কিনবে
মেরেছে মা চাটি।
মন্ডামিঠাই, মনিহারী
রকমারি খেলনা
হরেক রকম কুটির শিল্প,
হাতা খুন্তি বেলনা।
মেলা শেষে হাসি কান্না
নিয়ে বাড়ি ফেরা
আসছে বছর আবার হবে
বিষণ্ণ মন ঘেরা।
মেলা শেষে কিছু শিশু
অবহেলায় মাঠে
ছেঁড়া কাগজ, ছেঁড়া চটি
ভাঙ্গা বাঁশি ঘাটে।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।