দিব্বি কাব্যিতে স্বর্ণেন্দু দাম

কবিতাটা ১৪ রকম ভাবে পড়ার নির্দেশাবলী কবিতার শেষে দেওয়া আছে।
#Quantum_String_Poetry – একটা মাল্টি ডাইমেনশনাল কবিতা
“… the dimensions of interconnectedness are without end. There is nothing independent.”
– Alex Grey.
(১) Self-Doubt
আমি আসলে কোনোই কাজের না… আমি বাঁচলাম কি মরলাম তাতে কারো বিন্দু বিসর্গ কিছু যায় আসে না।
আমি হাত জোড় করছি, প্লিজ… দয়া করে, আমার ব্রেইন ওয়াশ করতে এসো না যে
আমার মধ্যেও প্রচুর প্রতিভা আছে… কিছু করে দেখানোর অপরিমেয় ক্ষমতা আছে।
কারণ সত্যি কথা বলতে কি, আমি নিজেই এটা উপলব্ধি করতে পারি যে…
আমিই আমার আমিত্বকে… নিজেই নিজের নিজস্বতাকে সমস্ত রকম ভাবে ঘেন্না করতে শুরু করেছি।
আমি অন্তত নিজের প্রতি সৎ থাকি… তোমাদের শিখিয়ে দেওয়া মিথ্যে আমি নিজেকে মুখস্থ করাতে পারবো না যে
আমারও n সংখ্যক ভালো দিক আছে… যার কোথাও না কোথাও ঠিক কদর আছে।
তাই আমি বারংবার নিজেকে মনে করাতে থাকি…
I’m good for Nothing… এই পৃথিবীর জন্য একটা Biological Waste…
তোমরা কোনো ভাবেই আমায় ম্যানিপুলেট করতে পারবে না যে
আমারও আর পাঁচ জনের মতোই বাঁচার অধিকার আছে… স্নেহ, ভালোবাসা, সম্মান পাওয়ার অধিকার আছে।
কারণ দিনের শেষে যা’ই হয়ে যাক না কেন…
আমার নিজের জন্যে নিজের মতো করে বাঁচার যোগ্যতা নেই।
আমার মানসিকতা কোনো দিনও এমন হবে না যে তোমরা সবাই একজোট হয়ে বললেই আমি বিশ্বাস করতে শুরু করবো…
আমার মধ্যেই সৃষ্টির উৎস আছেন… স্রষ্টা আছেন।
তাও যখনই আমাকে নিজের মুখোমুখি হতে হয়, প্রত্যেকবারই আমি ভাবতে বাধ্য হই…
আমি কি সত্যিই এতটাই অকর্মণ্য যতটা ওঁরা আড়ালে আবডালে আমাকে বলে থাকেন?
(২) Self-Ignorance
আজকের দিনটা আর পাঁচটা দিনের মতোই আমার জীবনের সবচাইতে জঘন্য দিন।
তোমাদের পায়ে পড়ি… আমাকে আর পাগল বানিও না এই বলে যে
সমস্ত খারাপের মধ্যেই কিছু না কিছু ভালো লুকিয়ে থাকে… অন্ধকার থাকে বলেই আলোর মাহাত্ম্য থাকে।
তোমাদের চোখ ফুটলেই তোমরা দেখতে পারবে… আর দেখলেই বুঝতে পারবে…
এই গোটা পৃথিবীটাই একটা স্যাঁতস্যাঁতে ক্লসট্রোফবিক অন্ধকার গলি…
এমনকি তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নিই…
আমার সঙ্গে টুকটাক অল্পবিস্তর ভালো ঘটনা কমবেশী মাঝে মধ্যেই ঘটতে থাকে…
Satisfaction আর Ecstasy কখনোই দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
এটা কিন্তু একেবারেই সত্যি নয় যে
এটা শুধুই আমার মাথার ব্যামো… আমার দৃষ্টিভঙ্গির সমস্যা।
কারণ খাঁটি সত্যিটা হলো
আমার চারদিকের পরিবেশ, পরিস্থিতি, বাস্তব…
নির্ধারণ করে দেয়
আমার Perspective… আমার দৃষ্টিভঙ্গি….
I’ve completely lost control over my life… my self… সবকিছু আমার হাতের বাইরে চলে গেছে।
আগামী হাজার বছরেও তোমরা আমাকে দিয়ে বলাতে পারবে না…
রোজের মতো আজকের দিনটাও ভালো-মন্দ মিলিয়েই চমৎকার কাটলো।
(৩) Self-Harm
এই জগতে আর এক ল্যামডা আশার আলোও অবশিষ্ট নেই… অন্তত আমার জন্য!
আমার পক্ষে আর এক মাইক্রো মুহূর্তের জন্যও বিশ্বাস করা সম্ভব হবে না যে
আদি-অনন্ত-অবিনশ্বর শক্তিরূপী এক স্রষ্টা আমার জন্য আছেন, সঙ্গে আছেন, হয়তো মধ্যেও আছেন।
যখনই কোনো অদৃশ্য দেওয়ালে আমার পিঠ ঠেকে যাবে, আমি জানবো…
আমি হারিয়ে গেছি। আমি হেরে গেছি।
আমি এই Eternal মিথ্যেটা আর কোনোভাবেই বইতে পারবো না যে
একদিন সত্যিই সব ঠিক হয়ে যাবে। সময় লাগলেও আমি সবটা আবার সামলে নিতে পারবো। যেমন আগেও অগুনতি বার পেরে দেখিয়েছি।
আজ নেশা দ্রব্যের সাহচর্য ও অযুহাতের সহমর্মিতা ছেড়ে দিলে…
জীবনের সমস্ত সমস্যার মুখোমুখি আমায় খালি হাতে একদম একাকী দাঁড়াতে হবে।
কোনো রকম Spirituality ছাড়া… Sense of Belonging ছাড়া…
আমি এই জীবনটা আর টেনে হেঁচড়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছি না… পারছি না।
এই পৃথিবীতে এমন কিছু নেই যা আমাকে দিয়ে বলাতে পারবে
আমি ঠিক লড়বো… লড়ে যাবো… I’ll hold on…
তোমরা অনেকেই আমাকে বলো ভরসা রাখতে এবং
এই ধরনের Positivity নিয়ে আমি জাস্ট হেলাফেলা করে যাবো।
আমি নিজেকে আর অনুমতি দেবো না এটা ভাবতে যে…
এখনো সময় আছে… আশা আছে… ভালোবাসা আছে।
আমি জীবনটাকে বোধহয় ঠিকই ডিকোড করে ফেলেছিলাম… এখানেই সব শেষ… কিন্তু…
একটা কবিতা এক্কেবারে শেষ মুহূর্তে শেখালো – শেষ থেকেই সব কিছু আবার নতুন করে শুরু হয়…