চারদিকে ধূসর পাহাড়
তার বরফঢাকা চূড়োয় এসে পড়েছে
সকালের সোনালী রোদ
চোখধাঁধানো সেই সোনার মুকুটের দিকে
একাগ্র দৃষ্টি রেখে শুরু হয় অনন্ত পথচলা
চোখের সামনে সব পেয়েছির দেশ
মিডাসের মত ঘোরলাগা চোখে হেঁটে যায়
অগণিত মানুষের দল
সেখানে পৌঁছতে হলে
পেরিয়ে যেতে হবে অনন্ত গিরিখাত
হিমবাহ
বরফের নদী
পেরিয়ে যেতে হবে শ্বাপদসঙ্কুল অরণ্য
মেঘলা উপত্যকা
জনহীন প্রান্তর
সেখানে মানুষের পাশে কোনো
মানুষ থাকে না
থাকে ক্ষুধার্ত হায়নার দল
পচাগলা লাশের স্তুপ
যুথবদ্ধ মৃত কিছু পরজীবী
চোখের ওপর ঝিকমিকিয়ে ওঠে
পবিত্র আলোর উৎস
অফুরান সোনার ভান্ডার
মনে হয় হাত বাড়ালেই ছুঁয়ে ফেলা যাবে তাকে
আর একবার ছুঁয়ে দিলেই
মুঠোয় ভরে নেওয়া যাবে
এক পৃথিবী সুখ
এভাবেই সকাল থেকে দুপুর
উজ্জ্বলতা যত বাড়ে
সম্মোহিত মানুষের দল ছুটে চলে
কেউ বা পা পিছলে পড়ে
কেউ বা তলিয়ে যায়
অনন্ত খাদের নীচে
অচিরেই তার অস্তিত্ব মুছে ফেলে সময়
কেউ কেউ ক্ষতবিক্ষত শরীরে
আর্তনাদ করে পড়ে থাকে
পথের ধুলোয়
যতই এগোনো যায়
দূরে
আরো দূরে
সরে সরে যায়
সেই ইউটোপিয়া
এরপর বিকেলের মরা আলোয়
ম্লান হয়ে আসে পাহাড়ের চুড়োর রং
গভীর রাতে বিকট এক দানবের মত
একদলা অন্ধকার গিলে ফেলতে চায়
যাবতীয় মানবতা
আর সেই অন্ধকারে চোখ সইয়ে
সম্পূর্ণ একা হয়ে যাওয়া মানুষটা
রক্তাক্ত যাপনের ইতিহাস বুকে নিয়ে
আরো এক নতুন ভোরের অপেক্ষায়
স্থির স্বপ্নিল দৃষ্টিতে সেই উচ্চতার দিকে
নির্নিমেষ তাকিয়ে থাকে