কবিতায় পদ্মা-যমুনা তে সৌমেন দেবনাথ (গুচ্ছ কবিতা)

১| বেলা শেষের গল্প
একে একে যায় বেলা চলে
দুপুর গড়িয়ে বিকাল,
কৃষ্ণ চুল কাশফুল হয়ে দোলে
তেল তেল শরীর যে বেহাল।
ভাজে ভাজে ভাজবহুল কপাল
হিংস্র হাত আড়ষ্ট,
পিষ তো যে পা অবশ হয়েছে
মুখরা মুখ জড়স্থ।
টগবগে রক্ত নেই তো আর
মাথায় নেই কটুবুদ্ধি,
কাঁথা কম্বল করে নোংরা
হয়েছে সভ্য শুদ্ধি।
করি কি ভাবি না ভাবনা নেই
করি গায়ের যে বলে,
বুঝতে শিখি ঐ বয়স গেলে
আর এবড়ো থেবড়ো হলে।
২| মৃত্যুর কথা পড়লে মনে
মৃত্যুর কথা পড়লে মনে
মনে থাকে না শান্তি ওরে,
সেদিন বুঝি সন্নিকটে
দুরুদুরু হৃদয় কাঁপে।
মায়ার জালে আটকে পড়ে
এই বয়সে কান্না আসে,
কি করলাম করলাম কি
সুন্দর সুরভি ভুবনে।
তেজ নেই তনুতে আজ
ডুবুডুবু জীবন তাজ,
অতি নিকষ কালো থেকে
হাতছানি দেয় কে বারে?
কেমন একটা ভারি বায়ু
ধাক্কা দেয় অঙ্গে শুধু,
মরণের কথা এ আভাসে
বারাংবারে মনে পড়ে।
মৃত্যুর কথা পড়লে মনে
মনে থাকে না শান্তি ওরে,
আজ কেনো ভাই ভয় পাই
কেননা ভিত্তি দুর্বল তাই।
আমার চিত্ত অনুতপ্ত
লোভ লালসা হয়েছে লুপ্ত,
জ্ঞান ফিরেছে পরিশেষে
প্রাণ কেবলি ত্রস্ত, কাঁদে।
মৃত্যুর কথা পড়লে মনে
মনে থাকে না শান্তি ওরে,
প্রশান্ত মুখে ম্লান ছায়া
ভুল করেছি করে ইচ্ছা।
সময় আর নেইরে হাতে
আমি যাবো সবার ছেড়ে,
সবাইকে বলি কেঁদে কেঁদে
মিথ্যা গর্ব করিস নেরে।
যেদিন তুই পড়বিরে ধরা
হয়ে যাবি দমা
উপায় একটা কেঁদে ভাসা,
চেয়ে নেরে ক্ষমা।
অতি নিকষ কালো থেকে
হাতছানি দেয় কে বারে?
মৃত্যুর কথা পড়লে মনে
মনে থাকে না শান্তি ওরে।