আলতো একটা নিশ্বাস নিয়ে আরও একটু কাছে এসে রূপ তখন বৃষ্টি দেখছিল শ্রীর ঠোঁট জুড়ে- তুমুল বৃষ্টি।শরীর জুড়ে বৃষ্টি আগে দেখেনি ও। নিজেকে সবটা ভিজিয়ে নিয়ে জোনাকি শহর বরাবর হেঁটে যাওয়া রাস্তার পাশের পলাশে মজেছিল ওরা একদিন। সেদিনের অসময় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো আজও লেগে আছে আদুরে ঠোঁটে। ক্লান্ত রিকশার ফিরতি পথে ওদের নেশা লাগে যেমনটা এক আকাশ তারার নীচে শুলে বৃষ্টি লাগে ।
কোনো বারকোড ছাপা লাইন দিয়ে চলতে গেলে প্রেম লাগে তাই ওদের প্রেমটা করা হয়নি কোনোদিন।আকাশগঙ্গা বরাবর দুটো নক্ষত্র একসাথে হেঁটেছে অপলক রাস্তা। এটা কোনো স্বরচিত শ্রীরূপ বা রূপশ্রী উপাখ্যানের পূর্বাভাস নয়- একটা গল্প বলা যেতে পারে বা কবিতা বা কিছুই নয় হয়তো।
শক্ত করে বুকে জড়িয়ে রূপ বলেছিল বৃষ্টির মতো সারারাত ঝরতে। শ্রী নিশ্চিন্তে ঘুমিয়েছিল তখন আশ্বাসের ধারাপাতে। বাইরে তখন বর্ষা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ওদের জানালাগুলো। একটা ঝিঁঝিঁও বিরক্ত করে নি কাউকে। শুধু প্রতিধ্বনিত হয়েছিল ওদের চাদরে লেখা প্রতিশ্রুতি।
সকালটাও ছিল কফিকাপের উবে যাওয়া ধোঁয়ার মতো কিংবা পায়েসের কর্পূরের মতো। আধশোয়া একটা দাম্পত্য ঝুলছিল বিষের নেশায় যেমনটা জন্মান্তরে হয়। কেউ খোঁজ পায়নি ওদের কারণটা আত্মতত্ত্ববাদে লিখে রেখেছেন মহাকাল বহুযুগ আগে। দুটো শরীরে দুপুর কথা বলে ঠিকই তবে একটাই কথা, একটাই সুর ” তবু মনে রেখো…”