মার্গে অনন্য সম্মান সুমিতা চৌধুরী (সেরার সেরা)

অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার
সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা পর্ব – ১১১
বিষয় – গাঁটছড়া/ ভৌতিক/ রহস্য
বিবাহ বন্ধন
যেথা মনের বন্ধন পূর্ণতা পায় এক সামাজিক বন্ধনে,
যেথা দুটি মন অঙ্গীকারবদ্ধ হয় সুখে দুখে সাথী হতে জীবনে ও মরণে,
সেই তো আসল বিবাহ।
যার পোশাকী সাজে থাকে সিঁদুর বা মঙ্গলসূত্র,
সামাজিক উৎসবে মেতে ওঠেন পরিবার পরিজন,
মঙ্গল কামনায় করা হয় নানাবিধ আচার অনুষ্ঠান,
হয়তো বা তাকে আইন দ্বারা পাকা করতে লাগে কিছু সইসাবুদ, সাক্ষী।
কিন্তু যেথায় থাকে না মনের মিল, থাকে না অন্তর,
সেথা এ বাহ্যিক রূপ বড়োই মেকি, স্থাপন হয় না কোনো বন্ধন।
সেথা সেই পূর্বের রাক্ষস বিবাহের মতো কিছু রীতি করে রাজ,
তৎকালে যা ছিল বলপূর্বক ললাট ফাটিয়ে রক্ত চিহ্ন আঁকা, তাই আজ রূপ নেয় সিঁথির সিঁদুরে,
আর দাসত্বের চিহ্ন স্বরূপ যা ছিল লোহার শিকল, তাই রূপ নেয় শাঁখা পলার এয়োতির চিহ্নে।
আর কিছু মন্ত্রোচ্চারণের মিথ্যাচার, যা পরমুহূর্তেই হয় পদদলিত,
কিছু সাক্ষর, কিছু সাক্ষী যাদের থাকে না কোনো মূল্য আগামীতে।
আবারও কিছু সাক্ষর আর মিথ্যা সাক্ষীর দৌলতে যা অবলীলায় করা যায় পার, ছেঁড়া যায় এ অস্থায়ী বন্ধন।
সেই বিবাহ, শুধুই রয়ে যায় সামাজিকতার আড়ালে বিবাহ নামক এক মিথ্যা প্রতিষ্ঠান রূপে,
যার নারকীয় যন্ত্রণা ভোগ করতে হয় পরস্পরকে কখনো সহবাসের নামে ধর্ষণ রূপে,
আর লোকচক্ষুর আড়ালে একরাশ কান্নায় দিনযাপনে,
কখনো পরিবারের দায়িত্ব পালনে মেনে নিতে হয় আজীবনের ফাঁসির সাজা।
তাই সময় এসেছে বিবাহ নামক পবিত্র বন্ধনের পবিত্রতা রক্ষার,
যা মন মানে তাকে স্বাগত জানিয়ে স্বীকৃতি দানের,
তাহলেই হবে আসল বিবাহের স্বার্থকতা,
পূর্ণতা পাবে নিঃস্বার্থ ভালোবাসার এক অটুট বন্ধন।
যাতে স্বার্থ নামক কটূ গন্ধ থাকবে না,
বা রইবে না কোনো দায়িত্ব পালনের বোঝা নিরন্তর,
যাতে থাকবে শুধুই মনের টান, আত্মার বন্ধন,
একে অপরের প্রতি আস্থা, বিশ্বাস, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, মর্যাদার আন্তরিক অঙ্গীকার,
উভয়ের চোখে থাকে আগামীর এক উজ্জ্বল স্বপ্ন,
আশায় বুক বেঁধে তারা বিশ্বাসের ভিতে গড়ে মজবুত এক ভালোবাসার ইমারত,
সেই বিবাহকেই করি সাদরে বরণ মনের আঙিনায়।।