“এই শ্রাবণে আষাঢ়ে গপ্পো” বিশেষ সংখ্যায় সবর্ণা চট্টোপাধ্যায় 

১|  অলৌকিক

বৃষ্টি পড়ছে তখন
খড়খড়ি তুলে পাখিদের স্নান দেখছে ছায়া
ভাঙা বাড়িটার মতো তারও পাঁজর থেকে দু এক
ফোঁটা রক্ত গড়াতে গড়াতে
জং ফেলে দিচ্ছে পুরোনো নেমপ্লেটে।
তখনো আমি ঠিক এখান থেকে বহুদূরে
বর্ষার গন্ধমাখা কোন কবিতায় তোমাকে খুঁজব।
সাদা পাতায় ফুটে উঠবে কুকুর বেড়ালের পেচ্ছাপের দাগ।
ভাঙা ছাদে ধাক্কা খেতে খেতে
ঝমঝম করে ধসে পড়বে সেসব ইতি।
একহাতে শূন্য কলম
অন্যহাতে সাদা কাগজ।
বুকের মাঝখান দিয়ে শুধু সরু হয়ে বয়ে যাবে
জমা জল
বৃষ্টি পড়বে ঝমঝম করে
মৃত্যুর উপকূলে।

২| আষাঢ়

সন্ধে নামে ভাঙা রাস্তা মোড়ে
ছলকে ওঠে অবুঝ কালো রোদ
রাঙতা মোড়া দিনের শেষে দেখি
জলের নীচে কাঁদছে প্রতিশোধ
আষাঢ়ে কোন গল্প বুনি যেন
ঋণের আলো জ্বলছে চুপিসারে
অবজ্ঞায় ভাসাও যদি ডিঙি
অবহেলা কেই বা নিতে পারে?
ডুবতি পথে নাবিক ছিল একা
দূরের দেশে যেমন কোন গাছ
শিকড় ছিঁড়ে নিয়েছে কোন পাখি
তবুও চোখে সাবেকি এক সাজ
বৃষ্টি যেন ভীষণ জোরে বাজে
ঝলসে ওঠে নদীর কালো চর
প্রান্তটুকু ছুঁয়েই আছে জল
ভাঙছে দুটো একলা থাকা ঘর
আষাঢ় যদি নাই বা বোঝে তখন?
ভাঙন জুড়ে শুধুই উল্লাস
মাটি কাদায় খাচ্ছে লুটোপুটি
পায়ের নীচে লেপ্টে থাকা ঘাস
তুমিও এক বৃষ্টিবেলার মতো
ভিজিয়ে দিলে কিচ্ছুটি না ভেবে
যেদিন দুটো রাস্তা ছিল জোড়া
সে পথটুকু আবার এনে দেবে?

৩| বিচ্ছেদ

মাঝসমুদ্রে নেমে আসে ঝড়
কি ভীষণ দুর্যোগে ঝলকে ওঠো বিদ্যুতের মতো
ছিটকে আসে রক্তাক্ত বালি
লাইট হাউজের মৃদু আলোয়
ডানা ঝাপটায় কালো রাজহাঁস।
কঠিন ঠোঁটের ভেতর নুন জমা জল
ভাসিয়ে দিচ্ছে শেষবার না ফিরে আসা এক ডিঙি!
Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!