সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে শুদ্ধেন্দু চক্রবর্তী (অন্তিম পর্ব)

বিন্দু ডট কম
পৃথিবীতে সুন্দরতম প্রজাপতির সুন্দরতম ডানাদুটির আড়ালে থাকে ভয়ঙ্করতম বিষ।বিষ আর নকশার এই বিবর্তনকামী যুগলবন্দি যুগের পর যুগ চলতেই থাকে।থামে আর না।ঠিক তেমনই সৃষ্টির সুন্দরতম ভাবনাগুলোর আড়ালে লুকিয়ে থাকে বিপর্যয় ও সবহারানোর সর্বনাশা বিষ।সে বিষ ঝেড়ে ফেললে সেই সুন্দর আলপনাটুকুকেও ঝেড়ে ফেলতে হবে।শুভব্রত স্বপ্ন দেখেছিল।মৈনাকও।আরও অজস্র মানুষ এক সঙ্গে একই পঙক্তিতে বসে সেই সুন্দরতম স্বপ্নটি একসময় দেখেছিল।সেই স্বপ্ন নির্মাণ করতে সাহায্য করেছিল অচিন্ত্যবাবুর মতো মানুষ,যারা বিশ্বাস করেন খাতার পাতায়,প্রজাপতির ডানার আলপনা সত্যিই উপভোগ করতে হলে তাদের ফুলের পরাগে খেলতে দিতে হবে।গাড়ি ছুটে চলেছে আন্দুল।তরুলতার কোলে মাথা রেখে ক্লান্ত তোয়া কখন ঘুমিয়ে পড়েছে।আর তার পাশে কোটরাগত চোখদুটি বন্ধ করে বসে আছে শুভব্রত।সে স্বপ্ন দেখেছিল ঠিকই।কিন্তু সে স্বপ্নর অপরূপ প্রজাপতি ডানার আড়ালে যে বিষপুঁটলি লুকিয়ে আছে,এ কথা সে কখন যেন ভুলে গিয়েছিল।শুভব্রত বাকশক্তি হারিয়েছে।সে আর কথা বলতে পারে না।ইশারা কথা বলে।তাও কালেভদ্রে।বাইরের জগতের সঙ্গে সবরকমের মৈত্রীস্থাপনের ইচ্ছা সে হারিয়েছে।তবু তরুলতা নাছোড়।তোয়া নাছোড়।এই কাহিনীর অনেক অগ্রন্থিত সুতো রয়ে যাবে।নিন্দুকেরা সেই সুতো প্রবল মেধায় খুঁজে বের করে গিঁট বাঁধবেন হয়তো।এই যেমন,তরুলতার গর্ভের শিশুটিকে কি শুভব্রত মেনে নেবে?তরুলতা মেনে নিতে পারবে অখিলেষের ঔড়ষ?আবার এমন কৌতূহল হওয়াটাও আশ্চর্য নয় যখন প্রশ্ন উঠবে তোয়ার কী হবে?বা দোয়াব কী তবে হারিয়ে যাবে চিরকালের জন্য!এমন অজস্র প্রশ্ন নাম না জানা একঝাঁক প্রজাপতির মতোই ভীড় করবে পাঠক নিন্দুকদের মনে।তাদের জন্য বলি,এই কাহিনীর কোনও আদি নেই।নেই অন্তও।এই কাহিনী আসলে একটি বিন্দু।বিন্দুর কোনও আদি বা অন্ত থাকে না।এই কাহিনী তেমনই এক যুগসন্ধিক্ষণের বিন্দু।তোয়ারা গাড়ি থেকে নেমে সেই ভগ্ন অট্টালিকায় এক বিন্দু আলোর খোঁজে এগিয়ে চলে।হাতে লেখা এক ফর্মার পত্রিকার মতোই সেই চলার পথ অনন্য।দোয়াবের মতোই উর্বর সেই সংগ্রাম ও উত্তরণের পথ।আর অখিলেশেষের প্রজাপতি খাতা?সে খাতার পাতা উড়িয়ে দেবে দমকা বাতাস।পাতার প্রজাপতিরা সকলে নড়ে চড়ে বসবে।তারপর একে একে উড়ে যাবে আকাশে।পরাগের খোঁজে।সাদাকালো পাখা মেলে উড়ে যাবে ধুলকাপাস।আধাখোলা ডানা মেলে উড়ে যাবে সোনপাতা।দুসার কালচে ঢেউ তুলে উড়ে যাবে করঞ্জিয়া।তাদের বিদায় জানাতে ওই তো হাত নাড়ছে তিন জোড়া হাত।প্রজাপতিগুলো ধীরে ধীরে উড়তে উড়তে একসময় আকাশে মেঘের বুকে এক একটি বিন্দুর মতো দেখাবে।তার একে একে সেই বিন্দুগুলোও মিলিয়ে যাবে আপন খেয়ালে!