টেকটাচটকের আত্মপ্রকাশ ২০১৯-এ।যখন কোনো ওয়েব-পত্রিকার কথা আমরা ভাবি, বা চিন্তাভাবনা জুড়ে দিই যে এই পত্রিকাটি ঠিক কত মানুষের কাছে একসাথে পৌঁছতে পারবে, ঠিক তখনিই, দৈনিক টেকটাচটক এই বিষয়ে একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।দৈনিক সংবাদপত্র, দৈনিক বার্তালাপ, এমনকি দৈনিক রাশিফলও হয়, কিন্ত একভাবে, একনিষ্ঠতার সাথে, সাহিত্য এবং কৃষ্টির মানের সাথে আপস না করে টেকটাচটক এই এক বছর ধরে এই সুবিশাল কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে।সাহিত্য কাঞ্চন, সাহিত্য হাট, সাহিত্য মার্গ, সাহিত্য দ্রুম, সাহিত্য মেহফিল, ছোটদের জন্যে সাহিত্য হইচই, সাহিত্য cafe, Sunday Talks, সাহিত্য Zone,সাহিত্য Megh, বইচর্চা এবং স্মৃতিকথা-এগুলো শুধু বিভিন্ন বিভাগ নয়, কিন্ত লেখনীর মাধ্যমে আন্তরিকতার বহিঃপ্রকাশ, নতুন লেখা খুঁজে আনার তাগিদ, এবং একটি সাহিত্য-পরিবার হয়ে পথচলা, এটা বিশাল বড় পাওনা তো বটেই।
অত্যন্ত যুগোপযোগী লেখা, এবং টেকটাচটকের দুটি বিভাগ (একটি ‘সাহিত্য হৈচৈ’, আরেকটি ‘Sunday Talks’) সম্পাদনা করতে গিয়ে বারবার মানুষের কাছে পৌঁছেছি তাদের লেখার গভীর অনুরণনে মাধ্যমে-ইস্তানবুল, বুলগেরিয়া, ইরান, কাশ্মীর, হায়দরাবাদ, কলকাতা, বাংলাদেশ বিভিন্ন জায়গা থেকে লেখা এসেছে, সুযোগ্য লেখক/লেখিকারা অনুপ্রাণিত হয়েছে এটা দেখে যে রোজ, দু-বেলা একটি পত্রিকার বিভিন্ন বিভাগ প্রকাশিত হচ্ছে, এবং শুধু নিয়ম মেনে নয়, নিষ্ঠার সাথে, একাগ্রচিত্তে, ভালো লেখাকে পাঠকের দরবারে পৌঁছে দিতে।ভৌগোলিক এবং একটি বা দুটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, সবরকম দূরত্ব অতিক্রম করে এই পত্রিকাটি তাই ভীষণভাবেই আন্তর্জাতিক স্তরের হয়ে উঠছে।
টেকটাচটক একটি সাহিত্য পরিবার, একটি একটি বছর করে এগিয়ে যাচ্ছে, আরো এগিয়ে যাবে সবরকম বাধা-বিপত্তি (হ্যাঁ, সেটা বললাম, কারণ কোনোরকম কৃষ্টি এবং সাহিত্যসাধনার পথ প্রথম থেকেই সুপ্রশস্ত এবং মসৃণ থাকেনা, নিরন্তর চর্চার ফলে তা হয়ে ওঠে সামগ্রিকভাবে দৃঢ়, অটুট) অতিক্রম করে। সবথেকে ভালো লাগার বিষয়, যেটি একজন সম্পাদক এবং টীম সদস্য হিসেবে বলতে পারি, যে মানুষ টেকটাচটক ওয়েব পোর্টাল এ নিজেদের এবং অন্যের লেখা পড়বার জন্যেও মুখিয়ে থাকে- এর প্রমান বিশাল সংখ্যক ভিউস, লাইক, কমেন্টস, এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় শেয়ারিং। প্রযুক্তির দুনিয়ার সাথে সাহিত্যের এই মেলবন্ধন বর্তমান সময়ে প্রায় অনস্বীকার্য, ফলত, টেকটাচটক একটি উদাহরণ হয়ে উঠতেই পারে।
ব্যক্তিগতভাবে, আমার কাছে টেকটাচটক একটি চারাগাছের মতো, যাকে আমরা গোটা টীম মিলে ঐকান্তিকভাবে একটি সাহিত্য-মহীরুহে পরিণত করার দিকে অগ্রসর হয়েছি। শ্রদ্ধেয় উপদেষ্টামণ্ডলী, সুযোগ্য সম্পাদকমণ্ডলী, বিশদে বলতে গেলে প্রাপ্তি, ঋষি, সুবীর, অনিন্দিতা, শাল্যদানী, স্বর্ভানু, সোনালীদি, অশ্রুজিৎ, ফারুকভাই, এদের নাম না বলে হয়তো লেখা শেষ করতে পারবোনা, কারণ টেকটাচটক পরিবারে আমার থাকা, খুনসুটি,গল্প, আড্ডা, লেখা নিয়ে আলোচনা, সবকিছু মিলিয়েই হয়তো এই পথচলা আরো সুগম হয়ে উঠেছে।পাঠকদের কাছে আমাদের একটাই আবদার: আপনারা আছেন, টেকটাচটক পরিবার আপনাদের জন্যেই আছে, থাকবে, আপনাদের লেখা, ভালোবাসা দিয়ে আমাদের প্রতিদিন উদ্বুদ্ধ করুন, কারণ, ‘টেক’-স্যাভি হয়ে একবার শুধু ‘টাচ’ করুন-আমরা ‘টক’ আপনাদের সাহিত্য-সৃষ্টি নিয়েই এগিয়ে যাবো।