এই একটা সমস্যার বিষয়! যখনই ভাবি এইবারে একটু মন দিয়ে পড়তে বসবো, বা অন্য কোনো কাজ করবো, খুব স্বাভাবিকভাবেই হঠাৎ করে কোনো না কোনো গন্ধ, রং, উৎসব এসে হাজির হয়। বহরমপুর থেকে ছোটোমাসি আর রানাঘাট থেকে বেনুমামারা আজ এলো, সাথে সরুচাকলি, রসবড়া আর এক টিফিন বাক্স ভর্তি গুড়ের সন্দেশ, বললো, এইবারে পৌষ সংক্রান্তির উৎসব এখানেই। কাজেই সেই সকাল থেকে আমি আছি রুবাইয়ের সাথে বল, ঘুড়ি, মাঞ্জা আর টিনের রং-কৌটো নিয়ে, মায়ের দু ঘা পিঠে খেয়েও ছুটে বেড়াচ্ছি ছাদের এক কোণ থেকে আরেক কোণে। রুবাই আমার মাসতুতো ভাই, আর আমারই মতো আরেক বিচ্ছু। দুজনে মিলেই ঠিক করেছি আমাদের শনিবার আমাদের মতো করেই পার্বণের দিন কাটাবো।
জানিনা কিসের আজ এত আনন্দ, জানিনা লাটাই থেকে কি জাদুবলে সরসর করে সুতো, ঘুড়ি, সবকিছুর পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে চোখ, ছুঁয়ে নিচ্ছে মেঘমুক্ত আকাশ, ছোট ছোট টিয়ার ঝাঁক দূর থেকে সবুজ রংমশালের মতো, আর দু-তলার রান্নাঘর থেকে ভেসে আসছে গুড়জ্বাল, পায়েস আর দুধপুলি মাখানো একটা দুপুরের গন্ধ। মা, বাবা, মামা, মামী, মাসি একসাথে হৈহল্লা আর পৌষের গান, আর ততোধিক সুন্দরভাবে মা হয়তো ঠিকই বলে চলেছে সবাইকে, আমার জীবনে রোজই হৈচৈ, রোজই উৎসব। আর হবে নাই বা কেন, এই যে কত কষ্ট করে হৈচৈ করবো বলে কত আগড়ুম বাগড়ুম প্ল্যান করতে হয়, ছকভাঙার অঙ্ক করতে হয়, পৌষের গানের সাথে সাথে পুরোনো বইয়ের তাকে খুঁজতে থাকি আরো ছোটবেলার অ্যালবাম আর ম্যানড্রেক, যদি আরো বেশি হইচই করা যায়। মায়ের কথায় অনুযোগ নেই, আজ স্নেহ আর পৌষের প্রশ্রয় মিলেমিশে একাকার।
সাহিত্য হৈচৈ-ও আমাদের মনের কথা বোঝে, এই শনিবারের হৈচৈ-তে পৌষপার্বণের লেখা, ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাস, বড়গল্প, ছোট্ট বন্ধুদের জন্যে কবিতা রং বং চং, সব দেখে আমার আর রুবাইয়ের পার্বণ তো জমে গেলো। তোমরাও আর দেরি কোরোনা, পড়ো, লেখো, লেখা, আঁকা সব পাঠিয়ে দাও হৈচৈ-তে।