আজ প্রায় আট মাস পর নিজের বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঢুকলাম, বলাই বাহুল্য, খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজে। সকালের প্রাণবন্ত উচ্ছলতা ম্লান হয়ে গেছে বেশ অনেকদিনই হলো, অফিসের তাড়ায়, কাজ, পরিশ্রম, প্রতিযোগিতার বাইরে গিয়েও দেখে উঠতে পারিনি কতশত এরকম শনিবারের সকাল; হেলায় হারিয়ে ফেলেছি দিকভ্রান্ত বিকেলগুলো। আজ বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঢুকে কিরকম যেন মনে হলো, সবটা কি কোনোদিনই বুঝতে পেরেছি? আজ কি সূর্য্যটা অন্যরকম ছিলো? কুয়াশাঘেরা সকাল, বেলা গড়িয়ে অলস দুপুর চার দেওয়ালের বাইরে যে এত সুন্দর হয়ে ওঠে প্রতি পদে পদে, তা বারংবার অনুভব করছিলাম। ইতস্তত শিউলি-ভেজা বিকেলের বকবকম, আর ছাত্রছাত্রীদের আনাগোনা অনেকটাই কম, ক্যাম্পাসের বিশাল পরিধি আর নিজের বসার জায়গাটায় বারবার দেখে ভাবছিলাম, যে কোনো অনন্য, মহার্ঘ্য বস্তুর থেকেও হয়তো নিজের কাজের জায়গায় ফিরে আসার এই মুহূর্তটা অনেক বেশি মূল্যবান।
ক্লাস, পেন, ডাস্টারগুলো সব এক জায়গায় গুছিয়ে রাখা, টেবিলের ওপর খুব যত্ন করে সাজানো মানিপ্লান্ট, লতাগুল্ম, রঙিন ফুল, বাচ্ছাদের হাতে আঁকা গ্রিটিং কার্ড, কেমন যেন সবার শৈশব, সব রং, সব সুন্দর আদর, আবদার মুহূর্ত এসে মিশে যায় একটা জায়গায়। জানলার বাইরে তাকিয়ে দেখলাম, এতদিনের জমানো বেশ কিছু কষ্ট নিমেষে বাষ্পীভূত হয়ে গেলো,দেখলাম, রূপকথার দেশ তো আমার টেবিলে আর আমার জানলার বাইরে এখনো সৃষ্টি হয়েই চলেছে, শৈশব জন্মাচ্ছে এখনো, বিকেলে সূর্য্যের আলো একটুও ম্রিয়মান নয়, বরং আরো বেশি তরতাজা, আরো বেশি উজ্জ্বল।
ভালোবাসা, ধ্যান, সৃষ্টি সবই সেই কাজের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে, শুধু ঘড়ির কাঁটার সাথে সাথে সময় না মিলিয়ে,মুহূর্তের ভালোলাগাটুকু খুঁজে নেওয়ার অপেক্ষা, আর বাকিটা? বাকিটা সেই রূপকথার গল্পের ম্যাজিকের মতো, দৈত্যপুরী নয়, হাত ধরে নিয়ে যায় এক নিৰ্ভেজাল স্বপ্নের দেশে।
আমরা সাহিত্য হৈচৈ এর পাতাতেও সেই কাজ করতে রূপকথা, আর রং বং চং মিলিয়ে খুঁজে পাই বেশ কিছু মণি-মুক্ত মুহূর্ত। পড়তে থাকুন, লিখতে থাকুন, লেখা পাঠান sreesup@gmail.com / techtouchtalk@gmail.com